পড়ার নোট
আজ পর্যন্ত প্রায় চার লক্ষ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং তেরো লক্ষ প্রজাতির প্রাণীর নামকরণ ও বর্ণনা করা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই নতুন প্রজাতি যুক্ত হচ্ছে, তাই এ সংখ্যা চূড়ান্ত নয়; সব জীবের বর্ণনা শেষ হলে সংখ্যাটি এক কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এত জীবকে সহজে জানতে, বুঝতে ও শিখতে হলে নিয়মমাফিক দলে ভাগ করা দরকার। এ প্রয়োজন থেকেই জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে: ট্যাক্সোনমি বা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। এর মূল লক্ষ্য বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জীবজগৎকে সহজভাবে, অল্প পরিশ্রমে ও অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা।
শ্রেণিবিন্যাসে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন সুইডিশ প্রকৃতিবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াস (1707–1778)। তিনি আপসালা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি নিয়ে সেখানে অ্যানাটমির অধ্যাপক হন। বিভিন্ন অভিযানে সংগ্রহ করা অসংখ্য নমুনা পর্যবেক্ষণ করে তিনিই প্রথম জীবের পূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস ও নামকরণের ভিত্তি প্রবর্তন করেন এবং জীবজগৎকে উদ্ভিদজগৎ ও প্রাণিজগৎ, এই দুই ভাগে বিন্যস্ত করেন।
শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য:
- প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করা।
- আহরিত জ্ঞান সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং সংক্ষেপে উপস্থাপন করা।
- প্রতিটি জীব শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা।
- জীবজগৎ ও মানবকল্যাণে প্রয়োজনীয় জীব শনাক্ত করে তাদের সংরক্ষণে সচেতন হওয়া।
উদাহরণ: একটি বড়ো পাঠাগারে বইগুলো বিষয় অনুযায়ী সাজানো না থাকলে একটি বই খুঁজতে দিন লেগে যেত। বিজ্ঞান, সাহিত্য, ইতিহাস এভাবে তাকে তাকে সাজালে মুহূর্তেই বই পাওয়া যায়। জীবজগতের ক্ষেত্রেও শ্রেণিবিন্যাস ঠিক এ কাজটি করে: নতুন একটি জীব পাওয়া গেলে তার বৈশিষ্ট্য দেখে সেটিকে সঠিক দলে রাখা যায় এবং দলের অন্য জীবের সঙ্গে তুলনা করে দ্রুত তার সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়।
সাধারণ ভুল হলো শ্রেণিবিন্যাসকে শুধু নাম মুখস্থ করার বিষয় ভাবা। এর আসল উদ্দেশ্য জীবের মিল-অমিল বুঝে জ্ঞানকে গুছিয়ে রাখা এবং প্রয়োজনীয় জীব সংরক্ষণে সচেতন হওয়া।
মনে রাখো: অসংখ্য জীবকে সহজে ও সঠিকভাবে জানার জন্যই শ্রেণিবিন্যাস; লিনিয়াস প্রথম জীবের পূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস ও নামকরণের ভিত্তি দেন।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।