পড়ার নোট
চারপাশে তাকালে জীবের দুটি ধরন সহজে চোখে পড়ে: উদ্ভিদ ও প্রাণী। তাই বহুদিন জীববিজ্ঞানকে দুটি শাখায় ভাগ করা হতো: উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের মতো অনেক জীব উদ্ভিদ বা প্রাণী কোনোটিই নয়। আবার প্রাণী, উদ্ভিদ, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাসের কোনো সাধারণ বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হলে জীবের ধরনভিত্তিক শাখা আর যথেষ্ট নয়। তাই জীববিজ্ঞানকে এখন দুই ভাগে বহু শাখায় ভাগ করা হয়।
ভৌত বা মৌলিক জীববিজ্ঞান: এখানে তাত্ত্বিক বিষয়ের গুরুত্ব বেশি। যেমন:
- অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠন।
- শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস ও এর নীতি।
- শারীরবিদ্যা (Physiology): শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণের মতো জৈব প্রক্রিয়া।
- টিস্যুতত্ত্ব (Histology): টিস্যুর আণুবীক্ষণিক গঠন ও কাজ।
- ভ্রূণবিদ্যা (Embryology), কোষবিদ্যা (Cytology), বংশগতিবিদ্যা (Genetics), বিবর্তনবিদ্যা (Evolution), বাস্তুবিদ্যা (Ecology), এন্ডোক্রাইনোলজি ও জীবভূগোল (Biogeography)।
ফলিত জীববিজ্ঞান: এখানে প্রয়োগের দিক গুরুত্ব পায়। যেমন মৎস্যবিজ্ঞান, কীটতত্ত্ব (Entomology), অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology), কৃষিবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জিন প্রকৌশল, প্রাণরসায়ন, পরিবেশবিজ্ঞান, বনবিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি, ফার্মেসি, পরজীবীবিদ্যা, জীবাশ্মবিদ্যা, সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান, বন্যপ্রাণীবিজ্ঞান, জীবপরিসংখ্যান ও বায়োইনফরমেটিক্স।
উদাহরণ: পত্রিকায় তিনটি খবর পেলে: (ক) পুকুরে রুই মাছের নতুন চাষপদ্ধতি, (খ) ধানক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণ, (গ) মানুষের হরমোন নিয়ে গবেষণা। প্রথমটি মৎস্যবিজ্ঞান, দ্বিতীয়টি কীটতত্ত্ব (দুটিই ফলিত), আর তৃতীয়টি এন্ডোক্রাইনোলজি (ভৌত শাখা)।
সাধারণ ভুল হলো শাখার নাম শুনে ধরে নেওয়া যে সেটি ভৌত শাখা। যেমন অণুজীববিজ্ঞান ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক নিয়ে কাজ করলেও এখানে এটি ফলিত শাখার তালিকায় আছে।
মনে রাখো: জীববিজ্ঞানের শাখাগুলো দুই ভাগে: তাত্ত্বিক বিষয়ভিত্তিক ভৌত বা মৌলিক শাখা এবং প্রয়োগভিত্তিক ফলিত শাখা।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।