offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১ · টপিক ২

জীববিজ্ঞানের শাখাসমূহের পরিচিতি

পড়ার নোট

চারপাশে তাকালে জীবের দুটি ধরন সহজে চোখে পড়ে: উদ্ভিদ ও প্রাণী। তাই বহুদিন জীববিজ্ঞানকে দুটি শাখায় ভাগ করা হতো: উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের মতো অনেক জীব উদ্ভিদ বা প্রাণী কোনোটিই নয়। আবার প্রাণী, উদ্ভিদ, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাসের কোনো সাধারণ বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হলে জীবের ধরনভিত্তিক শাখা আর যথেষ্ট নয়। তাই জীববিজ্ঞানকে এখন দুই ভাগে বহু শাখায় ভাগ করা হয়।

ভৌত বা মৌলিক জীববিজ্ঞান: এখানে তাত্ত্বিক বিষয়ের গুরুত্ব বেশি। যেমন:

  • অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠন।
  • শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস ও এর নীতি।
  • শারীরবিদ্যা (Physiology): শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণের মতো জৈব প্রক্রিয়া।
  • টিস্যুতত্ত্ব (Histology): টিস্যুর আণুবীক্ষণিক গঠন ও কাজ।
  • ভ্রূণবিদ্যা (Embryology), কোষবিদ্যা (Cytology), বংশগতিবিদ্যা (Genetics), বিবর্তনবিদ্যা (Evolution), বাস্তুবিদ্যা (Ecology), এন্ডোক্রাইনোলজি ও জীবভূগোল (Biogeography)।

ফলিত জীববিজ্ঞান: এখানে প্রয়োগের দিক গুরুত্ব পায়। যেমন মৎস্যবিজ্ঞান, কীটতত্ত্ব (Entomology), অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology), কৃষিবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জিন প্রকৌশল, প্রাণরসায়ন, পরিবেশবিজ্ঞান, বনবিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি, ফার্মেসি, পরজীবীবিদ্যা, জীবাশ্মবিদ্যা, সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান, বন্যপ্রাণীবিজ্ঞান, জীবপরিসংখ্যান ও বায়োইনফরমেটিক্স।

উদাহরণ: পত্রিকায় তিনটি খবর পেলে: (ক) পুকুরে রুই মাছের নতুন চাষপদ্ধতি, (খ) ধানক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণ, (গ) মানুষের হরমোন নিয়ে গবেষণা। প্রথমটি মৎস্যবিজ্ঞান, দ্বিতীয়টি কীটতত্ত্ব (দুটিই ফলিত), আর তৃতীয়টি এন্ডোক্রাইনোলজি (ভৌত শাখা)।

সাধারণ ভুল হলো শাখার নাম শুনে ধরে নেওয়া যে সেটি ভৌত শাখা। যেমন অণুজীববিজ্ঞান ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক নিয়ে কাজ করলেও এখানে এটি ফলিত শাখার তালিকায় আছে।

মনে রাখো: জীববিজ্ঞানের শাখাগুলো দুই ভাগে: তাত্ত্বিক বিষয়ভিত্তিক ভৌত বা মৌলিক শাখা এবং প্রয়োগভিত্তিক ফলিত শাখা।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. পাঠ্যপুস্তকের শ্রেণিবিভাগ অনুসারে নিচের কোনটি ভৌত জীববিজ্ঞানের (Physical Biology) অন্তর্ভুক্ত শাখা?

    1. ক

      কীটতত্ত্ব (Entomology)

    2. খ

      ভ্রূণবিদ্যা (Embryology)

    3. গ

      পরজীবীবিদ্যা (Parasitology)

    4. ঘ

      মৎস্যবিজ্ঞান (Fisheries)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) ভ্রূণবিদ্যা (Embryology)

    1. পাঠ্যপুস্তক অনুসারে ভৌত জীববিজ্ঞানের মূল শাখাগুলো হলো অঙ্গসংস্থান, শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা, শারীরবিদ্যা, হিস্টোলজি, ভ্রূণবিদ্যা, কোষবিদ্যা, বংশগতিবিদ্যা, বিবর্তন, বাস্তুবিদ্যা, এন্ডোক্রাইনোলজি ও জীবভূগোল।
    2. ভ্রূণবিদ্যা (Embryology) জীবের জননকোষের উৎপত্তি, ভ্রূণের সৃষ্টি ও বিকাশ সম্পর্কিত মৌলিক তত্ত্ব আলোচনা করে বলে এটি ভৌত জীববিজ্ঞানের শাখা। অপরদিকে কীটতত্ত্ব, পরজীবীবিদ্যা ও মৎস্যবিজ্ঞান সরাসরি প্রয়োগ ও উৎপাদন সম্পর্কিত ফলিত জীববিজ্ঞানের (Applied Biology) শাখা।
  2. বগুড়ার একটি বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান গবেষণাগারে শিক্ষার্থী তানভীর একটি যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পেঁয়াজের (Allium cepa) কোষ পর্যবেক্ষণ করছে। অণুবীক্ষণ যন্ত্রটির অভিনেত্রের (eyepiece) বিবর্ধন ১০× এবং অভিলক্ষ্যের (objective) বিবর্ধন ৪০×, যার ফলে মোট বিবর্ধন হয় ৪০০×। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের স্কেলে একটি পেঁয়াজ কোষের পর্যবেক্ষিত দৈর্ঘ্য পাওয়া গেল ২৪ mm। সূত্র: প্রকৃত দৈর্ঘ্য = পর্যবেক্ষিত দৈর্ঘ্য ÷ মোট বিবর্ধন। পেঁয়াজ কোষটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য কত mm?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ০.০৬ mm

    1. অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মোট বিবর্ধন M = অভিনেত্রের বিবর্ধন × অভিলক্ষ্যের বিবর্ধন = ১০ × ৪০ = ৪০০।
    M=10×40=400M = 10 \times 40 = 400
    1. কোষটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য = পর্যবেক্ষিত দৈর্ঘ্য ÷ মোট বিবর্ধন = ২৪ mm ÷ ৪০০ = ০.০৬ mm।
    Actual length=24 mm400=0.06 mm\text{Actual length} = \frac{24\text{ mm}}{400} = 0.06\text{ mm}
  3. কুমিল্লার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (BARD) একটি কৃষিবিজ্ঞান ও জীবপরিসংখ্যান গবেষণায় ধান গাছের (Oryza sativa) ফলন পরিমাপ করা হলো। ২৫ m দৈর্ঘ্য এবং ১৬ m প্রস্থবিশিষ্ট একটি আয়তাকার পরীক্ষামূলক প্লটে প্রতি বর্গমিটারে ধানের গড় উৎপাদন ০.৭৫ kg পাওয়া গেল। ওই প্লটটি থেকে মোট কত kg ধান উৎপাদিত হবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৩০০ kg

    1. প্লটটির মোট ক্ষেত্রফল A = দৈর্ঘ্য × প্রস্থ = ২৫ m × ১৬ m = ৪০০ m²।
    A=25 m×16 m=400 m2A = 25\text{ m} \times 16\text{ m} = 400\text{ m}^2
    1. মোট ধানের উৎপাদন = ক্ষেত্রফল × প্রতি বর্গমিটারে উৎপাদন = ৪০০ m² × ০.৭৫ kg/m² = ৩০০ kg।
    Total mass=400 m2×0.75 kg/m2=300 kg\text{Total mass} = 400\text{ m}^2 \times 0.75\text{ kg/m}^2 = 300\text{ kg}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো