পড়ার নোট
প্রকৃতিতে আমরা মোটা দাগে দুই ধরনের জিনিস দেখি: যাদের জীবন আছে তারা জীব, আর যাদের জীবন নেই সেগুলো জড়। জীবের জীবন ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত বিজ্ঞানের শাখাকে জীববিজ্ঞান বলে। ইংরেজিতে একে বলে Biology, যা গ্রিক শব্দ bios (জীবন) ও logos (জ্ঞান) মিলে তৈরি।
তবে বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম বিচারে কোথায় জড়ের শেষ আর কোথায় জীবনের শুরু, তা বলা অনেক সময় কঠিন। জীবনের ভিত্তিতে কাজ করে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের সেই একই নিয়ম, যা জড়জগৎকেও নিয়ন্ত্রণ করে। তাই জীবকে বুঝতে ভৌতবিজ্ঞানের জ্ঞান জরুরি।
কিন্তু ভৌতবিজ্ঞান জানলেই জীববিজ্ঞান পড়ার দরকার নেই, এমন ভাবা ভুল। জীবনকে ভাবা যায় অনেক জড়ের এক জটিল সমাবেশ হিসেবে, যেখানে এই জটিলতার কারণে নতুন গুণের উদ্ভব ঘটে। যেমন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নির্দিষ্ট অনুপাতে যুক্ত হয়ে পানি তৈরি করে, কিন্তু পানির ধর্ম হাইড্রোজেন বা অক্সিজেন কোনোটির মতো নয়। হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দুটিই গ্যাস, অথচ সাধারণ তাপমাত্রায় পানি তরল, যা পিপাসা মেটায় এবং আগুন নেভায়। তেমনি জড় উপাদান দিয়ে গঠিত হলেও জীবের মধ্যে বৃদ্ধি ও প্রজননের মতো এমন বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যা তার উপাদানগুলোর কোনোটিতে নেই।
জীববিজ্ঞান একটি প্রাচীন বিজ্ঞান। চিকিৎসা ও কৃষিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে গ্রিস, মিশর, মধ্যপ্রাচ্য, ভারতবর্ষ ও চীনসহ বিভিন্ন সভ্যতায় আদিকাল থেকেই এর চর্চা হয়েছে। সেসব চর্চা আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিচারে বিজ্ঞান না হলেও জ্ঞানের এ শাখার বিকাশে অপরিহার্য ছিল। এ শতকেও খাদ্য উৎপাদন, চিকিৎসার উন্নয়ন এবং বিরূপ পরিবেশে জীবনের অস্তিত্ব রক্ষায় জীববিজ্ঞানের ভূমিকা অপরিসীম।
সাধারণ ভুল হলো জীববিজ্ঞানকে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় ভাবা। জীবনের প্রক্রিয়াগুলো ভৌত ও রাসায়নিক নিয়ম মেনেই চলে; জীববিজ্ঞান এর সঙ্গে জীবের নতুন বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করে।
মনে রাখো: জীববিজ্ঞান জীবের জীবন ও বৈশিষ্ট্যের বিজ্ঞান; জীব জড় উপাদানে গঠিত হলেও তার মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।