লেবুর রসে স্ট্যাপলার পিন: এসিড ও ক্ষারের প্রভাব
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
বাড়ির কাজ হিসেবে তানিয়া একটা লোহার স্ট্যাপলার পিন সারারাত লেবুর রসে আর আরেকটা ভিনেগারে ডুবিয়ে রাখবে। তার বড় বোন বলল, খাবারের জিনিস তো ধাতুর কিছু করতে পারে না, সকালে পিন যেমন ছিল তেমনই থাকবে। সকালে কী দেখা যাবে?
সারারাত লেবুর রস বা ভিনেগারে রাখা লোহার পিনে সকালে কী দেখা যাবে?
- পিনের গায়ে খুব ধীরে ছোট বুদবুদ (হাইড্রোজেন) উঠবে, পিন একটু ক্ষয়ে যাবে আর রস হালকা হলদেটে হবে
- কিছুই হবে না, কারণ খাবারের এসিড ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে না
- পিন জোরে বুদবুদ তুলে কয়েক মিনিটেই পুরো গলে যাবে
- পিনের গায়ে লালচে তামার প্রলেপ পড়বে
যা বদলাতে পারবে
- টেস্টটিউবে আছে: লোহার স্ট্যাপলার পিন (Fe), তামার কুচি (Cu), অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল (Al), দস্তার দানা (Zn), ম্যাগনেসিয়াম ফিতা (Mg), মার্বেলের টুকরো (CaCO₃), ডিমের খোসা (CaCO₃), লাল রঙের সুতি কাপড়
- যা যোগ করবে: কিছুই না, একাই পরীক্ষা, লেবুর রস (সাইট্রিক এসিড), ভিনেগার বা সিরকা (CH₃COOH), লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), কস্টিক সোডার দ্রবণ (NaOH), পাতিত পানি
- গ্যাস পরীক্ষা: গ্যাস পরীক্ষা নয়, জ্বলন্ত কাঠি, গ্যাস চুনের পানিতে চালনা
যা মেপে দেখাবে
- পরিবর্তনের ধরন
- উৎপন্ন গ্যাস
- বিক্রিয়ার গতি
- পরে মিশ্রণের রং
- গ্যাস পরীক্ষার ফল
- সমীকরণ
চালানোর সময় খেয়াল করো
- একই পিন লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিডে দাও আর বিক্রিয়ার গতি তুলনা করো। জ্বলন্ত কাঠিতে 'পপ' শব্দ হয় কি?
- তামার কুচি এসিডে, আর অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল কস্টিক সোডায় দিয়ে দেখো।
নিজে করে দেখো
- এমন একটি ধাতু ও এসিড বেছে নাও যাতে জোরে হাইড্রোজেন বের হয়, আর জ্বলন্ত কাঠিতে 'পপ' শব্দ শোনাও।
ইঙ্গিত
ম্যাগনেসিয়াম অনেক সক্রিয় ধাতু।
- দেখাও যে ক্ষারও কোনো কোনো ধাতু থেকে হাইড্রোজেন বের করতে পারে।
ইঙ্গিত
অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল কস্টিক সোডায় দাও।
- লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিডেও কিছু হয় না এমন একটি ধাতু খুঁজে বের করো।
ইঙ্গিত
সক্রিয়তা সিরিজে হাইড্রোজেনের নিচে কোন ধাতু?
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
এসিড ও ক্ষারের রাসায়নিক ধর্ম: ধাতু, কার্বনেট ও অন্যান্য বস্তুর উপর প্রভাব
এসিড হাইড্রোজেনের চেয়ে সক্রিয় ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস দেয়; জ্বলন্ত কাঠি ধরলে 'পপ' শব্দ হয়। লেবুর রস ও ভিনেগারের এসিড দুর্বল, তাই লোহার পিনে বিক্রিয়া খুব ধীরে হয়: সারারাতে পিন একটু ক্ষয়ে যায় আর আয়রন আয়নে রস হলদেটে হয়। লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মতো তীব্র এসিডে একই বিক্রিয়া দ্রুত হয়। তামা হাইড্রোজেনের চেয়ে কম সক্রিয়, তাই লঘু এসিডে তার কিছু হয় না। এসিড মার্বেল ও ডিমের খোসার মতো কার্বনেটকে ক্ষয় করে কার্বন ডাইঅক্সাইড বের করে। ক্ষারও কিছু ধাতুকে ক্ষয় করে: অ্যালুমিনিয়াম ও দস্তা কস্টিক সোডায় হাইড্রোজেন দিয়ে দ্রবীভূত হয়, তাই অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে সোডা বা চুনজাতীয় ক্ষার রাখা ঠিক নয়।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
লেবুর রসের সাইট্রিক এসিড ও ভিনেগারের অ্যাসিটিক এসিড দুর্বল হলেও এসিড, তাই লোহার সঙ্গে ধীরে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন দেয়। দুর্বল বলেই এক রাতে পিন পুরো গলে না।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- খাবারের এসিড ধাতুর সঙ্গে কোনো বিক্রিয়া করে না
- সব এসিড সমান তীব্রভাবে ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে
- যেকোনো দ্রবণে লোহা রাখলে গায়ে তামার প্রলেপ পড়ে
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- আচার ও টক খাবার লোহা বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রাখলে ধাতু ক্ষয়ে খাবারে মেশে, তাই কাচ বা চীনামাটির বয়ামে রাখা হয়।
- রাজধানীর পুরোনো ভবনের মার্বেল ও চুনাপাথরের কারুকাজ অম্লবৃষ্টিতে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়।