পড়ার নোট
নির্দেশকের রং পরিবর্তন
লিটমাস এমন একটি নির্দেশক, যার রং দেখে জলীয় দ্রবণের অম্লীয় বা ক্ষারীয় প্রকৃতি বোঝা যায়। আপেলের কুচি সামান্য পানি দিয়ে পিষে বিকারে নাও। এতে পাতিত পানি মিশিয়ে কাচদণ্ড দিয়ে নাড়ো। ছাঁকন কাগজ ও ফানেল দিয়ে ছেঁকে জলীয় অংশ টেস্টটিউবে নাও। আলাদা লাল ও নীল লিটমাস পেপার ডুবিয়ে পরিবর্তন দেখো।
আপেলের দ্রবণে নীল লিটমাস লাল হয়, কিন্তু লাল লিটমাস অপরিবর্তিত থাকে; তাই এটি অম্লীয়। তেঁতুলের জলীয় দ্রবণেও একই ধরনের ফল পাওয়া যায়। সাবানের ক্ষারীয় দ্রবণ লাল লিটমাস নীল করে। নিরপেক্ষ দ্রবণে কোনো রঙের লিটমাসই বদলায় না। শুধু লাল লিটমাস অপরিবর্তিত দেখে নিরপেক্ষ বলবে না, কারণ এসিডেও সেটি অপরিবর্তিত থাকে।
ব্যবহার্য পদার্থের পরিবর্তন
ক্ষয়কারী ধর্ম হলো সংস্পর্শে কোনো পদার্থকে রাসায়নিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার ক্ষমতা। শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিডে অল্প ম্যাগনেসিয়াম দিলে বুদ্বুদ দেখা যায়:
এখানে ম্যাগনেসিয়াম, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড এবং হাইড্রোজেন। ঊর্ধ্বমুখী তির গ্যাস নির্গমন বোঝায়। ধাতু ক্ষয় হয়ে লবণ ও হাইড্রোজেন তৈরি হয়। বাংলাদেশের রান্নাঘরে লেবুর রস লোহার পাত্রে দীর্ঘক্ষণ রাখলে ক্ষয় হওয়ার সঙ্গে এই ধর্মের সম্পর্ক আছে।
মার্বেল বা ডিমের খোসার ক্যালসিয়াম কার্বনেটে লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড দিলে অন্য গ্যাস তৈরি হয়:
এখানে ক্যালসিয়াম কার্বনেট, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড। এই গ্যাস চুনের পানিকে ঘোলা করে। সমীকরণের সংকেতগুলো পদার্থের পরিচয়, পরিমাপের রাশি নয়; এদের SI একক নেই।
একই পরিবেশে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সঙ্গে ম্যাগনেসিয়াম বা মার্বেলে এসিডের মতো বুদ্বুদ দেখা যায় না।
এসিড কাপড় বা কাগজ দুর্বল করতে পারে; তীব্র ক্ষারও ক্ষতিকর। সাধারণ সাবানপানি তুলনামূলক মৃদু হলেও তাকে সব অবস্থায় নিরাপদ ভাববে না। এসিডিক পানিতে সাবানের কার্যকারিতা কমতে পারে; আবার খর পানিতেও ফেনা কম হয়। তাই ফেনার পরিমাণ দিয়ে একা এসিড শনাক্ত করা যায় না।
সাধারণ ভুল: সব বুদ্বুদকে একই গ্যাস ভাবা। বিক্রিয়ক দেখে গ্যাসের পরিচয় বিচার করতে হয়। গ্লাভস ও গগলস পরবে; ত্বক বা চোখে কোনো পরীক্ষা করবে না।
মনে রাখো: রং পরিবর্তন, ক্ষয় ও গ্যাস নির্গমন আলাদা পর্যবেক্ষণ—প্রতিটির সঠিক ব্যাখ্যা লেখো।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।