পড়ার নোট
লেবুর রস বা সিরকায় স্ট্যাপলার পিন রেখে ধাতুর ওপর এসিডের প্রভাব দেখা যায়। লেবুর রসে সাইট্রিক এসিড এবং সিরকায় ইথানোয়িক বা অ্যাসিটিক এসিড থাকে। উভয়ই দুর্বল এসিড, কিন্তু তাই বলে ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারে না—এমন নয়। এই কাজের উদ্দেশ্য হলো সময়ের সঙ্গে পিনের উপরিভাগের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা।
একটি পরিষ্কার ছোট কাচের পাত্র, একটি লোহাযুক্ত স্টিলের স্ট্যাপলার পিন এবং পিন ডোবানোর মতো লেবুর রস বা সিরকা নাও। কোন তরল ব্যবহার করছ, তা পাত্রে লিখে রাখো। কাজটি বড়দের তত্ত্বাবধানে করো; ধারালো পিন হাতে বিঁধতে দেবে না।
- প্রথমে পিনের রং, চকচকে ভাব ও উপরিভাগের অবস্থা লিখে রাখো। এতে পরে সত্যিই কী পরিবর্তন হয়েছে, তা তুলনা করা সহজ হবে।
- পাত্রে তরল নিয়ে পিনটি ডুবিয়ে নিরাপদ স্থানে রাখো। পাত্রটি খাবার বা পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার সুযোগ রেখো না।
- প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে পরিবর্তন দেখো। প্রয়োজনে পরের দিনও পর্যবেক্ষণ করো। পিন তোলার জন্য চিমটা ব্যবহার করো।
- বুদ্বুদ, চকচকে ভাব কমা, উপরিভাগের ক্ষয় অথবা তরলের রং বদলালে তা লিখে রাখো। পরিবর্তন না দেখলেও সেই ফলই লেখো।
সিরকার এসিডের সঙ্গে লোহার সরলীকৃত বিক্রিয়া হলো । এখানে লোহা ও অ্যাসিটিক এসিড থেকে ফেরাস অ্যাসিটেট লবণ এবং হাইড্রোজেন গ্যাস হয়। ঊর্ধ্বতীর গ্যাস নির্গমন বোঝায়; রাসায়নিক সংকেতের SI একক নেই। এটি সিরকার বিক্রিয়া, লেবুর সাইট্রিক এসিডের সমীকরণ নয়।
সব পিনে একই সময়ে একই পরিবর্তন নাও হতে পারে। পিনের আবরণ ও তরলের প্রকৃতি ফলকে প্রভাবিত করে। বাদামি দাগ বা হলুদাভ তরল দেখা যেতেই হবে—এমন ধরে নেওয়া ভুল। আবার ক্ষয় মানেই মরিচা নয়; এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়ায় লোহা লবণেও পরিণত হয়।
বাংলাদেশের ঘরে টক আচার বা লেবুর রসে ধাতব চামচ দীর্ঘক্ষণ রাখলে কেন ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, এই পর্যবেক্ষণ তা বুঝতে সাহায্য করে। পরীক্ষার তরল কখনো খাবে না এবং গ্যাসের কাছে আগুন ধরাবে না।
মনে রাখো: দুর্বল খাদ্য-এসিডও ধাতু ক্ষয় করতে পারে; প্রত্যাশিত ফল বানিয়ে না লিখে যা দেখবে, সেটিই লিখবে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।