পড়ার নোট
ক্ষয়কারী ধর্ম হলো রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো পদার্থের উপরিভাগ বা গঠন নষ্ট করার ক্ষমতা। এসিড ও ক্ষারের প্রভাব পদার্থভেদে আলাদা হয়। দ্রবণের ঘনমাত্রা এবং কতক্ষণ সংস্পর্শে আছে, তা-ও ক্ষতির পরিমাণে প্রভাব ফেলে। তাই খাবারের দুর্বল এসিডও দীর্ঘ সময় ধাতুর সংস্পর্শে থাকলে ক্ষয় করতে পারে।
লঘু এসিড লোহা, জিংক ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো সক্রিয় ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে। ধাতুর কিছু অংশ নতুন যৌগে পরিণত হওয়ায় সেটি ক্ষয় হয়। যেমন, । এখানে ম্যাগনেসিয়াম ও সালফিউরিক এসিড থেকে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ও হাইড্রোজেন হয়; ঊর্ধ্বতীর গ্যাস নির্গমন বোঝায়। রাসায়নিক সংকেতের SI একক নেই।
বাংলাদেশের রান্নাঘরে লেবুর রস বা সিরকায় লোহার চামচ দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখা তাই ভালো অভ্যাস নয়। চামচের উপরিভাগের পরিবর্তন এসিডের প্রভাব বোঝাতে পারে। তবে এসিডে ধাতুর সব ক্ষয়কে মরিচা বলা ঠিক নয়; মরিচা লোহার ক্ষয়ের একটি নির্দিষ্ট ফল।
মার্বেলের ক্যালসিয়াম কার্বনেট এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড দেয়। ফলে পাথরের উপরিভাগ ক্ষয়ে যেতে পারে। সিমেন্টযুক্ত নির্মাণসামগ্রীও এসিডে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই পরিষ্কার করার নামে যেকোনো পাথরের মেঝেতে এসিড ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত নয়।
গাঢ় সালফিউরিক এসিডসহ গাঢ় এসিড কাপড় ও ত্বক নষ্ট করতে পারে। গাঢ় সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডও কাপড়ের তন্তু, ত্বক এবং চোখের ক্ষতি করে। ক্ষারযুক্ত টয়লেট ক্লিনারের মতো তীব্র পরিষ্কারকের ভুল ব্যবহারে দেহের ক্ষতি হতে পারে।
অনেক পরিচিত লঘু দ্রবণ পরীক্ষায় উপযুক্ত কাচের পাত্র ব্যবহার করা হয়; কিছু প্লাস্টিকও নির্দিষ্ট রাসায়নিকের জন্য উপযোগী। কিন্তু সব এসিড-ক্ষারে সব কাচ বা প্লাস্টিক অক্ষত থাকে—এটি ভুল ধারণা। পাত্র বাছাই করতে রাসায়নিকটির উপযোগিতা জানতে হবে; শুধু পাত্রের বাহ্যিক চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
মনে রাখো: এসিড ও ক্ষার উভয়ই ব্যবহার্য পদার্থ ক্ষয় করতে পারে; প্রভাব নির্ভর করে রাসায়নিক ও উপাদানের প্রকৃতির ওপর।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।