পড়ার নোট
এসিডের রাসায়নিক ধর্ম তার জলীয় দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুষ্ক অক্সালিক এসিডের দানায় শুষ্ক নীল লিটমাসের রং না বদলালেও পানিতে দ্রবীভূত করলে নীল লিটমাস লাল হয়।
লঘু এসিড সক্রিয় ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও হাইড্রোজেন দেয়। যেমন, । এখানে জিংক ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড থেকে জিংক ক্লোরাইড ও হাইড্রোজেন হয়। ম্যাগনেসিয়ামও উপযুক্ত লঘু এসিডের সঙ্গে একই ধরনের বিক্রিয়া করে। সব ধাতুর ক্ষেত্রে একই ফল ধরে নেওয়া যাবে না।
ধাতব কার্বনেট ও বাইকার্বনেটের সঙ্গে লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড হয়:
এখানে যথাক্রমে ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও সোডিয়াম বাইকার্বনেট থেকে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ও সোডিয়াম নাইট্রেট লবণ হয়। রান্নাঘরের খাবার সোডায় সিরকা দিলে বুদ্বুদ ওঠা দ্বিতীয় ধরনের বিক্রিয়ার পরিচিত উদাহরণ।
প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষারক থেকে লবণ ও পানি হয়: । এখানে হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড থেকে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও পানি হয়। ক্যালসিয়াম অক্সাইডের মতো ক্ষারকও এসিডকে প্রশমিত করে। ক্ষারীয় দ্রবণ লাল লিটমাস নীল করে; পিচ্ছিল হলেও স্পর্শ করে পরীক্ষা করা উচিত নয়।
চুনের পানির সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিক্রিয়ায় অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি হয়ে পানি ঘোলা হয়। অতিরিক্ত গ্যাস দিলে দ্রবণীয় ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট তৈরি হওয়ায় আবার পরিষ্কার হয়।
ক্ষার ধাতব লবণের দ্রবণে অধঃক্ষেপ, অর্থাৎ অদ্রবণীয় কঠিন পদার্থ, তৈরি করতে পারে। সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডে অ্যালুমিনিয়াম ও জিংকের লবণ সাদা, ফেরাস লবণ সবুজ, ফেরিক লবণ লালচে বাদামি এবং কপার লবণ হালকা নীল হাইড্রোক্সাইড দেয়। অ্যামোনিয়াম লবণের সঙ্গে ক্ষারে অ্যামোনিয়া হয়: । এখানে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড থেকে অ্যামোনিয়া, সোডিয়াম ক্লোরাইড ও পানি হয়।
সব লবণের দ্রবণ নিরপেক্ষ নয়: সোডিয়াম ক্লোরাইড নিরপেক্ষ, ফেরিক ক্লোরাইড এসিডিক এবং সোডিয়াম অ্যাসিটেট ক্ষারীয়। অস্থায়ী খর পানির ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট তাপে বিয়োজিত হয়: ; এতে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট উৎপন্ন হয়। সমীকরণের ঊর্ধ্বতীর গ্যাস, আর ডেল্টা তাপ বোঝায়; রাসায়নিক সংকেতের SI একক নেই।
মনে রাখো: বুদ্বুদ দেখলেই হাইড্রোজেন বলবে না—ধাতুতে হাইড্রোজেন, কার্বনেটে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।