offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৯ · টপিক ৩

অম্ল, ক্ষারক ও লবণের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য

পড়ার নোট

এসিডের রাসায়নিক ধর্ম তার জলীয় দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুষ্ক অক্সালিক এসিডের দানায় শুষ্ক নীল লিটমাসের রং না বদলালেও পানিতে দ্রবীভূত করলে নীল লিটমাস লাল হয়।

লঘু এসিড সক্রিয় ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও হাইড্রোজেন দেয়। যেমন, Zn+2HCl→ZnCl2+H2↑Zn+2HCl\rightarrow ZnCl_2+H_2\uparrow। এখানে জিংক ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড থেকে জিংক ক্লোরাইড ও হাইড্রোজেন হয়। ম্যাগনেসিয়ামও উপযুক্ত লঘু এসিডের সঙ্গে একই ধরনের বিক্রিয়া করে। সব ধাতুর ক্ষেত্রে একই ফল ধরে নেওয়া যাবে না।

ধাতব কার্বনেট ও বাইকার্বনেটের সঙ্গে লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড হয়:

CaCO3+2HCl→CaCl2+H2O+CO2↑CaCO_3+2HCl\rightarrow CaCl_2+H_2O+CO_2\uparrow

NaHCO3+HNO3→NaNO3+H2O+CO2↑NaHCO_3+HNO_3\rightarrow NaNO_3+H_2O+CO_2\uparrow

এখানে যথাক্রমে ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও সোডিয়াম বাইকার্বনেট থেকে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ও সোডিয়াম নাইট্রেট লবণ হয়। রান্নাঘরের খাবার সোডায় সিরকা দিলে বুদ্‌বুদ ওঠা দ্বিতীয় ধরনের বিক্রিয়ার পরিচিত উদাহরণ।

প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষারক থেকে লবণ ও পানি হয়: HCl+NaOH→NaCl+H2OHCl+NaOH\rightarrow NaCl+H_2O। এখানে হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড থেকে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও পানি হয়। ক্যালসিয়াম অক্সাইডের মতো ক্ষারকও এসিডকে প্রশমিত করে। ক্ষারীয় দ্রবণ লাল লিটমাস নীল করে; পিচ্ছিল হলেও স্পর্শ করে পরীক্ষা করা উচিত নয়।

চুনের পানির সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিক্রিয়ায় অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি হয়ে পানি ঘোলা হয়। অতিরিক্ত গ্যাস দিলে দ্রবণীয় ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট তৈরি হওয়ায় আবার পরিষ্কার হয়।

ক্ষার ধাতব লবণের দ্রবণে অধঃক্ষেপ, অর্থাৎ অদ্রবণীয় কঠিন পদার্থ, তৈরি করতে পারে। সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডে অ্যালুমিনিয়াম ও জিংকের লবণ সাদা, ফেরাস লবণ সবুজ, ফেরিক লবণ লালচে বাদামি এবং কপার লবণ হালকা নীল হাইড্রোক্সাইড দেয়। অ্যামোনিয়াম লবণের সঙ্গে ক্ষারে অ্যামোনিয়া হয়: NH4Cl+NaOH→NH3↑+NaCl+H2ONH_4Cl+NaOH\rightarrow NH_3\uparrow+NaCl+H_2O। এখানে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড থেকে অ্যামোনিয়া, সোডিয়াম ক্লোরাইড ও পানি হয়।

সব লবণের দ্রবণ নিরপেক্ষ নয়: সোডিয়াম ক্লোরাইড নিরপেক্ষ, ফেরিক ক্লোরাইড এসিডিক এবং সোডিয়াম অ্যাসিটেট ক্ষারীয়। অস্থায়ী খর পানির ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট তাপে বিয়োজিত হয়: Ca(HCO3)2→ΔCaCO3+H2O+CO2Ca(HCO_3)_2\xrightarrow{\Delta}CaCO_3+H_2O+CO_2; এতে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট উৎপন্ন হয়। সমীকরণের ঊর্ধ্বতীর গ্যাস, আর ডেল্টা তাপ বোঝায়; রাসায়নিক সংকেতের SI একক নেই।

মনে রাখো: বুদ্‌বুদ দেখলেই হাইড্রোজেন বলবে না—ধাতুতে হাইড্রোজেন, কার্বনেটে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. গাজীপুরের একটি বিদ্যালয়ের রসায়ন পরীক্ষাগারে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি ধাতব যৌগ পর্যবেক্ষণ করল। নিচের কোন যৌগটি এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করায় একটি ক্ষারক (base), কিন্তু পানিতে অদ্রবণীয় হওয়ায় ক্ষার (alkali) নয়?

    1. ক

      NaOH (সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড)

    2. খ

      Fe(OH)₃ (ফেরিক হাইড্রোক্সাইড)

    3. গ

      Ca(OH)₂ (ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড)

    4. ঘ

      NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) Fe(OH)₃ (ফেরিক হাইড্রোক্সাইড)

    1. ধাতুর অক্সাইড ও হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তাদের ক্ষারক (base) বলে। যেমন: NaOH, Ca(OH)₂, Fe(OH)₃ ইত্যাদি সবাই ক্ষারক।
    2. ক্ষারকের মধ্যে যেসকল ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদের ক্ষার (alkali) বলে। Fe(OH)₃ পানিতে অদ্রবণীয় হওয়ায় এটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়।
  2. চাঁদপুরের একটি বিদ্যালয়ের রসায়ন পরীক্ষাগারে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীর একটি কনিক্যাল ফ্লাস্কে ৩০ mL আয়তনের ০.১ mol/L ঘনমাত্রার সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) দ্রবণ নিল। সংঘটিত প্রশমন বিক্রিয়াটি হলো: H₂SO₄ + 2NaOH → Na₂SO₄ + 2H₂O। এই এসিড দ্রবণকে সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত করতে ০.১৫ mol/L ঘনমাত্রার সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) দ্রবণের ঠিক কত মিলিলিটার (mL) প্রয়োজন হবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৪০ mL

    1. বিক্রিয়ার সমতাকৃত সমীকরণ: H₂SO₄ + 2NaOH → Na₂SO₄ + 2H₂O। সমীকরণ অনুসারে ১ মোল H₂SO₄ কে প্রশমিত করতে ২ মোল NaOH প্রয়োজন হয়।
    H2SO4+2NaOH→Na2SO4+2H2O\text{H}_2\text{SO}_4 + 2\text{NaOH} \rightarrow \text{Na}_2\text{SO}_4 + 2\text{H}_2\text{O}
    1. এসিডের মোলের সংখ্যা n_A = V_A × S_A = (৩০ ⁄ ১০০০) L × ০.১ mol/L = ০.০০৩ mol। অতএব প্রয়োজনীয় ক্ষারের মোলের সংখ্যা n_B = ২ × n_A = ২ × ০.০০৩ = ০.০০৬ mol।
    nB=2×nA=2×(0.030×0.1)=0.006 moln_B = 2 \times n_A = 2 \times (0.030 \times 0.1) = 0.006\text{ mol}
    1. প্রয়োজনীয় NaOH দ্রবণের আয়তন V_B = n_B ⁄ S_B = ০.০০৬ mol ⁄ ০.১৫ mol/L = ০.০৪ L = ৪০ mL।
    VB=0.0060.15=0.04 L=40 mLV_B = \frac{0.006}{0.15} = 0.04\text{ L} = 40\text{ mL}
  3. প্রশমনের জন্য কত ভরের ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড প্রয়োজন?

    1. ক

      ৩.৭ g

    2. খ

      ১৪.৮ g

    3. গ

      ৭.৪ g

    4. ঘ

      ৭.৩ g

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) ৭.৪ g

    1. বিক্রিয়ায় ১ mol ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সঙ্গে ২ mol হাইড্রোক্লোরিক অম্ল বিক্রিয়া করে।
    Ca(OH)2+2HCl→CaCl2+2H2O\mathrm{Ca(OH)_2 + 2HCl \rightarrow CaCl_2 + 2H_2O}
    1. হাইড্রোক্লোরিক অম্লের মোলার ভর ৩৬.৫ g/mol এবং ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মোলার ভর ৭৪ g/mol। তাই ৭৩ g অম্লের জন্য ৭৪ g ক্ষার প্রয়োজন।
    2. সুতরাং প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ভর ৭.৪ g।
    m=74×7.373 g=7.4 gm=\frac{74\times7.3}{73}\,\mathrm{g}=7.4\,\mathrm{g}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো