পড়ার নোট
লেবুর রস, চুনের পানি ও রান্নার লবণের দ্রবণ দেখতে কাছাকাছি হলেও তাদের রাসায়নিক প্রকৃতি আলাদা। নির্দেশক এমন পদার্থ, যার বর্ণের পরিবর্তন থেকে কোনো দ্রবণের এসিডিক বা ক্ষারীয় প্রকৃতি বোঝা যায়। লাল ও নীল লিটমাস পেপার ব্যবহার করে দলগতভাবে এই তিনটি পরিচিত নমুনা পরীক্ষা করা যায়।
উপকরণ হিসেবে তিনটি পরিষ্কার ছোট পাত্র, আলাদা ড্রপার বা পরিষ্কার কাচদণ্ড, লাল ও নীল লিটমাস, লেবুর রস, প্রস্তুত চুনের পানি এবং পানিতে গুলে নেওয়া রান্নার লবণ নাও। পাত্রগুলোতে নমুনার নাম লিখে রাখো। বাংলাদেশের রান্নাঘরের লেবু ও লবণই এখানে পরিচিত নমুনা; চুনের পানি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে সংগ্রহ করো।
- প্রথমে লেবুর রসের এক ফোঁটা নতুন নীল লিটমাসে দাও। নীল রং লাল হবে। লাল লিটমাসে দিলে সেটি লালই থাকবে। লেবুর সাইট্রিক এসিড জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন করে বলে এই ফল পাওয়া যায়।
- এরপর চুনের পানি নতুন লাল লিটমাসে দাও। সেটি নীল হবে; নীল লিটমাসের পরিবর্তন হবে না। চুনের পানিতে দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের জন্য দ্রবণটি ক্ষারীয়।
- শেষে রান্নার লবণের দ্রবণ দিয়ে দুই রঙের নতুন লিটমাস পরীক্ষা করো। কোনোটির রং বদলাবে না। সোডিয়াম ক্লোরাইডের এই দ্রবণ নিরপেক্ষ।
একজন নমুনা দিতে পারে, আরেকজন রং দেখতে পারে এবং অন্যজন ফল লিখতে পারে। প্রতিবার আলাদা ড্রপার ও নতুন কাগজ ব্যবহার করলে নমুনা মিশে ফল বদলে যাওয়া এড়ানো যায়। পর্যবেক্ষণে প্রথম রং, শেষ রং এবং সিদ্ধান্ত আলাদা করে লেখো। প্রয়োজনে ইউনিভার্সাল ইন্ডিকেটরের বর্ণও নির্দিষ্ট বর্ণতালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারো।
সাধারণ ভুল হলো, শুধু লাল লিটমাস অপরিবর্তিত দেখে দ্রবণকে নিরপেক্ষ বলা। এসিডেও লাল লিটমাস অপরিবর্তিত থাকে। আবার নিরপেক্ষ হলেই পদার্থটি লবণ—এ সিদ্ধান্তও ঠিক নয়; বিশুদ্ধ পানিও নিরপেক্ষ। তাই উভয় লিটমাসের ফল মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নাও। কোনো নমুনা চেখে বা হাতে মেখে পরীক্ষা করবে না।
মনে রাখো: নীল থেকে লাল হলে এসিডিক, লাল থেকে নীল হলে ক্ষারীয়; নিরপেক্ষতা যাচাইয়ে দুই রঙের লিটমাসই ব্যবহার করো।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।