পড়ার নোট
অম্ল বা এসিড হলো এমন পদার্থ, যা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন, , উৎপন্ন করে। এই আয়নের জন্য জলীয় দ্রবণ এসিডের ধর্ম দেখায় এবং নীল লিটমাসকে লাল করে। পরিচিত খাবারের টক স্বাদের সঙ্গে বিভিন্ন এসিডের সম্পর্ক আছে। তবে কোনো অজানা পদার্থ চেখে এসিড শনাক্ত করা যাবে না।
লেবু ও কমলায় সাইট্রিক এসিড, তেঁতুলে টারটারিক এসিড, দুধ ও দইয়ে ল্যাকটিক এসিড, সিরকায় ইথানোয়িক বা অ্যাসিটিক এসিড এবং কোমল পানীয়তে কার্বনিক এসিড থাকে। চায়ে থাকে ট্যানিক এসিড। বাংলাদেশের ঘরে তৈরি তেঁতুলের চাটনি ও লেবুর শরবত তাই পরিচিত এসিডযুক্ত খাবারের উদাহরণ। পাকস্থলীর হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।
সবল এসিড পানিতে প্রায় সম্পূর্ণ আয়নিত হয়; হাইড্রোক্লোরিক, সালফিউরিক ও নাইট্রিক এসিড এর উদাহরণ। দুর্বল এসিড আংশিক আয়নিত হয়; যেমন অ্যাসিটিক ও কার্বনিক এসিড। অন্যদিকে, গাঢ় ও লঘু শব্দ দ্রবণে এসিডের আপেক্ষিক পরিমাণ বোঝায়। তাই সবল ও গাঢ় একই অর্থ নয়।
ক্ষারক এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করে। পানিতে দ্রবণীয় হাইড্রোক্সাইড ক্ষারককে ক্ষার বলে; এর দ্রবণে হাইড্রোক্সাইড আয়ন, , থাকে। সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চুনের পানির ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড পরিচিত ক্ষার। কিছু পরিষ্কারক দ্রব্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এবং কিছু কাচ পরিষ্কারকে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড থাকে। ক্ষারীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে; পিচ্ছিল অনুভূত হলেও স্পর্শ করে পরীক্ষা নিরাপদ নয়।
লবণ এসিডের প্রতিস্থাপনযোগ্য হাইড্রোজেন ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে গঠিত যৌগ। রান্নার সোডিয়াম ক্লোরাইড ছাড়াও সোডিয়াম বাইকার্বনেট, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ও সোডিয়াম সালফেট লবণ। এসিড ও ক্ষারকের প্রশমনেও লবণ তৈরি হয়। সব লবণ খাবার উপযোগী বা সব লবণের দ্রবণ নিরপেক্ষ মনে করা ভুল। পরিচিত খাবারের উপাদান আর গবেষণাগারের রাসায়নিককে একইভাবে ব্যবহার করা চলে না।
মনে রাখো: এসিডের জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন এবং ক্ষারের দ্রবণে হাইড্রোক্সাইড আয়ন তাদের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।