কম্পাস ও রুলার ব্যবহার করে প্রদত্ত নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী যে চিত্র আঁকা হয়, তাকে জ্যামিতিক অঙ্কন বলে। উপপাদ্য প্রমাণের জন্য আঁকা চিত্র হুবহু মাপমতো না হলেও চলে, কারণ সেখানে যুক্তিই মুখ্য।
ত্রিভুজের ভূমি, ভূমি সংলগ্ন একটি কোণ ও উচ্চতা দেওয়া আছে, ত্রিভুজটি অঙ্কন করতে হবে · ত্রিভুজের ভূমি, শিরঃকোণ ও অপরবাহুদ্বয়ের সমষ্টি দেওয়া আছে, ত্রিভুজটি অঙ্কন করতে হবে · ত্রিভুজের ভূমি, শিরঃকোণ এবং অপর দুইবাহুর অন্তর দেওয়া আছে, ত্রিভুজটি অঙ্কন করতে হবে · ত্রিভুজের উচ্চতা, ভূমির উপর মধ্যমা এবং ভূমি সংলগ্ন একটি কোণ দেওয়া আছে ত্রিভুজটি অঙ্কন করতে হবে
পড়ে নাও
ত্রিভুজ আঁকার জন্য তিনটি স্বাধীন তথ্য দেওয়া থাকে। এখানে চার ধরনের ত্রিভুজ অঙ্কন শেখা হয়েছে: ১. ভূমি, ভূমিসংলগ্ন কোণ ও উচ্চতা দেওয়া থাকলে ভূমি আগে আঁকুন। ভূমির এক প্রান্তে প্রদত্ত কোণ আঁকুন।
এমন একটি বৃত্ত অঙ্কন করতে হবে যা দুইটি নির্দিষ্ট বিন্দু দিয়ে যায় এবং যার কেন্দ্র একটি নির্দিষ্ট সরলরেখায় অবস্থিত থাকে · একটি নির্দিষ্ট রেখাংশের সমান ব্যাসার্ধবিশিষ্ট একটি বৃত্ত অঙ্কন করতে হবে যা দুইটি নির্দিষ্ট বিন্দু দিয়ে যায় · এরূপ একটি বৃত্ত অঙ্কন করতে হবে যা একটি নির্দিষ্ট বৃত্তকে নির্দিষ্ট বিন্দুতে স্পর্শ করে এবং বৃত্তের বহিঃস্থ কোনো নির্দিষ্ট বিন্দু দিয়ে যায় · এরূপ একটি বৃত্ত অঙ্কন করতে হবে যা একটি নির্দিষ্ট সরলরেখাকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে স্পর্শ করে এবং রেখার বহিঃস্থ কোনো বিন্দু দিয়ে যায়
পড়ে নাও
বৃত্ত আঁকার জন্য কেন্দ্র ও ব্যাসার্ধ জানা থাকলে সহজে আঁকা যায়। কিন্তু কখনো কখনো কেন্দ্র বা ব্যাসার্ধ না জানা থাকলে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে আঁকতে হয়। নিচের চার ধরনের অঙ্কন শেখা হয়েছে: ১.
মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কের পাশে একটি আধুনিক ট্রাফিক নিরাপত্তা পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পার্কের নকশায় প্রকৌশলীরা দুটি বিশেষ জ্যামিতিক কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করলেন:
১. একটি ত্রিভুজাকার বিশ্রামাগার △ABC, যার ভূমি BC=৫ cm, ভূমি সংলগ্ন কোণ ∠B=৪৫∘ এবং অপর দুই বাহুর অন্তর (difference of other two sides) AB−AC=২ cm (নকশার স্কেলে)।
২. পার্কের ফোয়ারার জন্য একটি বৃত্তাকার জলাধার, যা সংলগ্ন সোজা পদচারী পথ PQ-কে একটি নির্দিষ্ট বিন্দু T-তে স্পর্শ করে এবং পথের বাইরে অবস্থিত একটি আলোকস্তম্ভ K দিয়ে অতিক্রম করে।
ক
নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধ r বিশিষ্ট একটি বৃত্ত দুটি নির্দিষ্ট বিন্দু দিয়ে আঁকা সম্ভব কি না, তা বিন্দুদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর কীভাবে নির্ভর করে — ব্যাখ্যা করো।
উত্তর দেখাও
বিন্দু দুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব d হলে বৃত্তের কেন্দ্র থেকে উভয় বিন্দুর দূরত্ব r হতে হবে। বৃত্তটি গঠিত হতে হলে কেন্দ্রকে শীর্ষ ধরে গঠিত ত্রিভুজের বাহুর শর্তানুসারে r+r≥d⟹2r≥d বা r≥2d হতে হবে। যদি r<2d হয় তবে কোনো বৃত্ত আঁকা সম্ভব নয়; r=2d হলে ঠিক একটি বৃত্ত (AB ব্যাস ধরে) এবং r>2d হলে ঠিক দুটি ভিন্ন বৃত্ত আঁকা সম্ভব।
খ
উদ্দীপকের ১নং তথ্যের ভিত্তিতে ত্রিভুজাকার বিশ্রামাগার △ABC-এর অঙ্কনের বিবরণ দাও। (অঙ্কনের বিবরণ ও যথার্থতা আবশ্যক)
উত্তর দেখাও
অঙ্কন প্রণালী:
১. যেকোনো রশ্মি BE থেকে ভূমি BC=৫ cm-এর সমান করে BC অংশ কেটে নিই।
২. B বিন্দুতে ∠EBF=∠B=৪৫∘ আঁকি।
৩. BF রশ্মি থেকে অপর দুই বাহুর অন্তর d=২ cm-এর সমান করে BD কেটে নিই এবং C,D যোগ করি।
৪. CD রেখাংশের লম্ব সমদ্বিখণ্ডক আঁকি, যা BF রশ্মিকে A বিন্দুতে ছেদ করে।
৫. A,C যোগ করি। তাহলে △ABC-ই উদ্দিষ্ট ত্রিভুজাকার বিশ্রামাগার, কারণ A বিন্দু CD-এর লম্ব সমদ্বিখণ্ডকের উপর অবস্থিত হওয়ায় AD=AC, ফলে AB−AC=AB−AD=BD=২ cm।
গ
উদ্দীপকের ২নং কাঠামোটির জন্য বৃত্তাকার জলাধারের নকশা কীভাবে আঁকতে হবে তা অঙ্কন ও জ্যামিতিক প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখাও
অঙ্কন প্রণালী ও জ্যামিতিক প্রমাণ:
১. সোজা পদচারী পথ PQ-এর স্পর্শবিন্দু T-তে লম্ব TM আঁকি। বৃত্তের স্পর্শবিন্দুগামী ব্যাসার্ধ স্পর্শকের উপর লম্ব হওয়ায় বৃত্তের কেন্দ্র O অবশ্যই TM রেখার উপর থাকবে।
২. স্পর্শবিন্দু T ও আলোকস্তম্ভ K যোগ করে TK রেখাংশ গঠন করি, যা উদ্দিষ্ট বৃত্তটির একটি জ্যা (chord)।
৩. TK রেখাংশের লম্ব সমদ্বিখণ্ডক XY অঙ্কন করি, যা স্পর্শবিন্দুতে অঙ্কিত লম্ব TM-কে O বিন্দুতে ছেদ করে। এই O বিন্দুই বৃত্তটির কেন্দ্র।
৪. O-কে কেন্দ্র করে OT (বা OK)-এর সমান ব্যাসার্ধ নিয়ে বৃত্তটি অঙ্কন করি।
প্রমাণ: কেন্দ্র O বিন্দুটি TK-এর লম্ব সমদ্বিখণ্ডক XY-এর উপর অবস্থিত হওয়ায় OT=OK=ব্যাসার্ধ। আবার OT⊥PQ হওয়ায় PQ সরলরেখাটি T বিন্দুতে বৃত্তের স্পর্শক হয়। অতএব, অঙ্কিত বৃত্তটি PQ-কে T বিন্দুতে স্পর্শ করে এবং বহিঃস্থ বিন্দু K দিয়ে যায়।