পড়ার নোট
ত্রিভুজ সংক্রান্ত
ত্রিভুজ আঁকার জন্য তিনটি স্বাধীন তথ্য দেওয়া থাকে। এখানে চার ধরনের ত্রিভুজ অঙ্কন শেখা হয়েছে:
১. ভূমি, ভূমিসংলগ্ন কোণ ও উচ্চতা দেওয়া থাকলে
- ভূমি আগে আঁকুন।
- ভূমির এক প্রান্তে প্রদত্ত কোণ আঁকুন।
- ভূমির সমান্তরালে উচ্চতার সমান দূরত্বে একটি রেখা আঁকুন (উচ্চতা হলো ভূমি থেকে বিপরীত শীর্ষের লম্ব দূরত্ব)।
- কোণের রশ্মি ও এই সমান্তরাল রেখার ছেদবিন্দুই হবে ত্রিভুজের তৃতীয় শীর্ষ।
২. ভূমি, শিরঃকোণ ও অপর দুই বাহুর সমষ্টি দেওয়া থাকলে
- ভূমি আঁকুন।
- ভূমির এক প্রান্তে অর্ধেক শিরঃকোণ আঁকুন।
- সেই রশ্মির উপর অপর দুই বাহুর সমষ্টির সমান দৈর্ঘ্য কেটে নিন।
- কাটা বিন্দু থেকে ভূমির অপর প্রান্তের লম্বদ্বিখণ্ডক আঁকুন।
- লম্বদ্বিখণ্ডক ও রশ্মির ছেদবিন্দু হবে শীর্ষ।
৩. ভূমি, শিরঃকোণ ও অপর দুই বাহুর অন্তর দেওয়া থাকলে
- ভূমি আঁকুন।
- ভূমির এক প্রান্তে অর্ধেক শিরঃকোণ আঁকুন।
- সেই রশ্মির উপর অন্তরের সমান দৈর্ঘ্য কেটে নিন।
- কাটা বিন্দু থেকে ভূমির অপর প্রান্তের লম্বদ্বিখণ্ডক আঁকুন।
- ছেদবিন্দু হবে শীর্ষ।
৪. উচ্চতা, ভূমির উপর মধ্যমা ও ভূমিসংলগ্ন কোণ দেওয়া থাকলে
- ভূমির সমান্তরালে উচ্চতার সমান দূরত্বে একটি রেখা আঁকুন।
- ভূমির মধ্যবিন্দু থেকে মধ্যমার দৈর্ঘ্যের সমান করে উপরের রেখায় ছেদ করান।
- ভূমির প্রান্তে প্রদত্ত কোণ আঁকুন।
- কোণের রশ্মি ও উপরের রেখার ছেদবিন্দু হবে শীর্ষ।
উদাহরণ: ভূমি BC = ৫ সে.মি., ∠B = ৪৫°, উচ্চতা = ৩ সে.মি. দেওয়া আছে।
- BC = ৫ সে.মি. আঁকুন।
- B তে ৪৫° কোণ আঁকুন।
- BC এর সমান্তরালে B থেকে ৩ সে.মি. উপরে একটি রেখা আঁকুন।
- কোণের রশ্মি ও এই রেখার ছেদবিন্দু A হবে।
- A, C যোগ করুন। △ABC নির্ণেয় ত্রিভুজ।
মনে রাখো: ত্রিভুজ আঁকার সময় প্রতিটি ধাপ ধাপে শর্ত মেনে চলুন—কোণ, দৈর্ঘ্য ও লম্ব ঠিকমতো আঁকা জরুরি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।