বৃত্ত আঁকার জন্য কেন্দ্র ও ব্যাসার্ধ জানা থাকলে সহজে আঁকা যায়। কিন্তু কখনো কখনো কেন্দ্র বা ব্যাসার্ধ না জানা থাকলে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে আঁকতে হয়। নিচের চার ধরনের অঙ্কন শেখা হয়েছে:
১. দুটি বিন্দু দিয়ে যায় এবং কেন্দ্র নির্দিষ্ট রেখায় থাকে
দুটি বিন্দু যোগ করুন।
তাদের সংযোজক রেখাংশের লম্বদ্বিখণ্ডক আঁকুন।
এই লম্বদ্বিখণ্ডক নির্দিষ্ট রেখাকে যে বিন্দুতে ছেদ করবে, সেটিই হবে কেন্দ্র।
কেন্দ্র থেকে যেকোনো বিন্দুর দূরত্ব ব্যাসার্ধ হবে।
২. নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধ ও দুটি বিন্দু দিয়ে যায়
প্রতিটি বিন্দুকে কেন্দ্র করে প্রদত্ত ব্যাসার্ধের সমান ব্যাসার্ধে দুটি বৃত্ত আঁকুন।
এদের ছেদবিন্দুই হবে নির্ণেয় বৃত্তের কেন্দ্র।
সেখান থেকে বৃত্ত আঁকুন।
৩. একটি বৃত্তকে নির্দিষ্ট বিন্দুতে স্পর্শ করে এবং বহিঃস্থ বিন্দু দিয়ে যায়
প্রদত্ত বৃত্তের কেন্দ্র ও স্পর্শবিন্দু যোগ করুন।
এই রেখার উপর স্পর্শবিন্দুতে লম্ব আঁকুন (স্পর্শকের লম্ব)।
স্পর্শবিন্দু ও বহিঃস্থ বিন্দুর লম্বদ্বিখণ্ডক আঁকুন।
লম্ব ও লম্বদ্বিখণ্ডকের ছেদবিন্দু হবে নতুন বৃত্তের কেন্দ্র।
৪. একটি সরলরেখাকে নির্দিষ্ট বিন্দুতে স্পর্শ করে এবং রেখার বহিঃস্থ বিন্দু দিয়ে যায়
স্পর্শবিন্দুতে রেখার উপর লম্ব আঁকুন।
স্পর্শবিন্দু ও বহিঃস্থ বিন্দুর লম্বদ্বিখণ্ডক আঁকুন।
এদের ছেদবিন্দু হবে কেন্দ্র।
কেন্দ্র থেকে স্পর্শবিন্দু পর্যন্ত দূরত্ব ব্যাসার্ধ।
উদাহরণ: A(২,৩) ও B(৬,৭) দিয়ে যায় এবং কেন্দ্র x-অক্ষে থাকে।
AB এর মধ্যবিন্দু = (৪,৫)
AB এর ঢাল = ১, তাই লম্বের ঢাল = -১
লম্বদ্বিখণ্ডকের সমীকরণ: y - ৫ = -১(x - ৪) → y = -x + ৯
x-অক্ষে y = ০, তাই ০ = -x + ৯ → x = ৯
কেন্দ্র (৯, ০)
ব্যাসার্ধ = দূরত্ব (৯,০) থেকে (২,৩) = (৯−২)2+(০−৩)2=৪৯+৯=৫৮
তাই বৃত্তটি আঁকা যাবে।
মনে রাখো: বৃত্তের কেন্দ্র দুটি বিন্দু থেকে সমদূরবর্তী হয়—এই ধারণা সব অঙ্কনেই কাজে লাগে।
গ্রামের দুটি নলকূপ P ও Q। পানির ট্যাংক বসবে সোজা রাস্তার (y = k রেখা) ওপর, এমনভাবে যাতে দুই নলকূপ থেকে সমান দূরে থাকে; তাহলে ট্যাংককে কেন্দ্র করে এমন বৃত্ত আঁকা যায় যা P ও Q দিয়ে যায়। Q কে ঠিক P এর নিচে (একই x) সরালে কী হবে?
অনুশীলনের প্রশ্ন
১
রাজশাহীর পদ্মা নদীর তীরে একটি পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের নকশায় দুটি নির্দিষ্ট বিন্দু A ও B-এর মধ্যবর্তী দূরত্ব ৮ cm। বিন্দু দুটির উভয়টি দিয়ে অতিক্রম করে এমন ৫ cm ব্যাসার্ধবিশিষ্ট (radius) কয়টি ভিন্ন বৃত্ত অঙ্কন করা সম্ভব?
ক
২টি
খ
১টি
গ
অসীম সংখ্যক
ঘ
একটিও নয়
উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
ক) ২টি
A ও B বিন্দুগামী বৃত্তের কেন্দ্র O সর্বদা AB-এর লম্ব সমদ্বিখণ্ডকের (perpendicular bisector) উপর অবস্থিত হবে, যেখানে OA=OB=r=৫ cm।
AB-এর মধ্যবিন্দু M হলে AM=৮/২=৪ cm। সমকোণী ত্রিভুজ △OMA-তে পিথাগোরাসের উপপাদ্য অনুসারে কেন্দ্রের দূরত্ব OM=r2−AM2=৫2−৪2=৯=৩ cm।
OM=52−42=3 cm
যেহেতু r=৫ cm>৪ cm (r>AB/২), তাই AB-এর উভয় পাশে M থেকে ৩ cm দূরে দুটি ভিন্ন কেন্দ্র O1 ও O2 পাওয়া যায়। ফলে ঠিক ২টি ভিন্ন বৃত্ত অঙ্কন করা যায়।
২
বগুড়ার একটি গ্রামীণ মেলায় একটি বৃত্তাকার নাগরদোলার নকশা প্রণয়ন করা হচ্ছে। নকশায় একটি সোজা সীমানা রেখাকে নাগরদোলার পরিধি P বিন্দুতে স্পর্শ করে। স্পর্শবিন্দু P থেকে সীমানা বরাবর ৪ m দূরে এবং সীমানা থেকে লম্বালম্বি ২ m ভেতরের দিকে একটি বিদ্যুৎ খুঁটি Q অবস্থিত। নাগরদোলাটির পরিধি P বিন্দুতে সীমানাকে স্পর্শ করে এবং Q বিন্দু দিয়ে অতিক্রম করলে এর ব্যাসার্ধ (radius) কত মিটার হতে হবে?
ক
৫ m
খ
১০ m
গ
২.৫ m
ঘ
৪ m
উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
ক) ৫ m
ধরি, সোজা সীমানা রেখাটি x-অক্ষ এবং স্পর্শবিন্দুটি মূলবিন্দু P(০,০)। স্পর্শবিন্দুতে স্পর্শকের উপর অঙ্কিত লম্ব y-অক্ষ বরাবর হওয়ায় বৃত্তের কেন্দ্র O(০,R)।
সমীকরণটি সমাধান করে পাই: ১৬ + ৪ − ৪R + R² = R² ⇒ ২০ − ৪R = ০ ⇒ ৪R = ২০ ⇒ R = ৫ m।
20−4R=0⟹R=5 m
৩
চাঁদপুরের মেঘনা নদীর পাড়ে একটি কৃষি খামারে দুটি সেচ পয়েন্ট A ও B-এর মধ্যবর্তী দূরত্ব ১২ m। AB রেখাংশের সমান্তরালে ৮ m লম্ব দূরত্বে একটি সোজা সেচ নালা (irrigation canal) অবস্থিত। এমন একটি বৃত্তাকার সেচ অঞ্চল নির্ধারণ করা হলো যার পরিধি A ও B উভয় পয়েন্ট দিয়ে অতিক্রম করে এবং যার কেন্দ্র ওই সেচ নালার উপর অবস্থিত। এই বৃত্তাকার সেচ অঞ্চলটির ব্যাসার্ধ (radius) কত মিটার?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
১০ m
A ও B বিন্দুগামী যেকোনো বৃত্তের কেন্দ্র O অবশ্যই AB-এর লম্ব সমদ্বিখণ্ডকের (perpendicular bisector) উপর অবস্থিত।
AB-এর মধ্যবিন্দু M হলে AM=MB=১২/২=৬ m। যেহেতু সেচ নালাটি AB-এর সমান্তরাল এবং ৮ m দূরে অবস্থিত, তাই লম্ব সমদ্বিখণ্ডক ও নালার ছেদবিন্দু O-এর দূরত্ব OM=৮ m।
AM=6 m,OM=8 m
সমকোণী ত্রিভুজ △OMA-তে পিথাগোরাসের উপপাদ্য অনুসারে ব্যাসার্ধ R=OA=OM2+AM2=৮2+৬2=৬৪+৩৬=১০০=১০ m।
R=82+62=10 m
এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?
মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।