সিলেটের একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া ও তামিম বিজ্ঞান গবেষণাগারে শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে কিছু রাসায়নিক পদার্থ ও বাস্তব জীবনের রাসায়নিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করল। তারা লক্ষ্য করল বোতল-X এর গায়ে একটি বিস্ফোরিত বোমার সাংকেতিক চিহ্ন (exploding bomb) এবং বোতল-Y (গাঢ় নাইট্রিক এসিড) এর গায়ে বৃত্তের ওপর আগুনের শিখার চিহ্ন (flame over circle) আঁকা রয়েছে। ল্যাবরেটরি থেকে ফেরার পথে তারা আলোচনা করল কীভাবে ফসলের জমিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ স্থানীয় সুরমা নদীর জলজ পরিবেশকে দূষিত করে এবং কীভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ধাপসমূহ অনুসরণ করে এই নদীদূষণ অনুসন্ধান করা যায়।
- ক
রসায়নবিদ্যার প্রাচীন নাম বা মধ্যযুগীয় রূপকে কী বলা হতো?
উত্তর দেখাও
মধ্যযুগে আরবের মুসলিম পণ্ডিতদের দ্বারা চর্চিত প্রাচীন রসায়নবিদ্যাকে আলকেমি (Alchemy) বলা হতো।
- খ
গাছের কাঁচা আম টক স্বাদের হলেও পাকার পর তা মিষ্টি লাগে কেন — ব্যাখ্যা করো।
উত্তর দেখাও
কাঁচা আমে সাকসিনিক এসিড ও ম্যালিক এসিডের মতো বিভিন্ন জৈব এসিড উপস্থিত থাকায় কাঁচা আম টক স্বাদের হয়। আম পাকার সময় রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এসব জৈব এসিড গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের মতো মিষ্টি শর্করায় রূপান্তরিত হয়, ফলে পাকা আম মিষ্টি লাগে।
- গ
উদ্দীপকের বোতল-X ও বোতল-Y এর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে? সাংকেতিক চিহ্নের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর দেখাও
উদ্দীপকের বোতল-X এর বিস্ফোরিত বোমার চিহ্ন নির্দেশ করে এটি একটি বিস্ফোরক পদার্থ (যেমন টিএনটি বা পারঅক্সাইড) এবং বোতল-Y এর বৃত্তের ওপর আগুনের শিখার চিহ্ন নির্দেশ করে এটি একটি জারক পদার্থ (যেমন গাঢ় HNO₃)। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা: ১. বোতল-X (বিস্ফোরক দ্রব্য): এতে সামান্য ঘর্ষণ, আঘাত বা উত্তাপে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তাই এটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নাড়াচাড়া করতে হবে, কোনো অবস্থাতেই আগুন বা তাপের কাছে নেওয়া যাবে না এবং কাজ করার সময় অবশ্যই নিরাপত্তা চশমা পরিধান করতে হবে। ২. বোতল-Y (জারক পদার্থ): জারক পদার্থ নিজে সরাসরি না জ্বললেও অন্য পদার্থকে জ্বলতে তীব্র সহায়তা করে এবং ত্বক বা চোখে লাগলে মারাত্মক ক্ষতি হয়। তাই এটি কোনো দাহ্য পদার্থের পাশে রাখা যাবে না, ব্যবহারের সময় চোখে গগলস, হাতে গ্লাভস ও অ্যাপ্রন ব্যবহার করতে হবে এবং কাজ শেষে বোতলের মুখ বায়ুরোধী করে আটকে রাখতে হবে।
- ঘ
সুরমা নদীর পানিদূষণ মূল্যায়নে শিক্ষার্থীরা কীভাবে রসায়নের অনুসন্ধান ও গবেষণা প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ বাস্তবায়ন করতে পারে? যৌক্তিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করো।
উত্তর দেখাও
সুরমা নদীর পানিদূষণ মূল্যায়নে শিক্ষার্থীরা রসায়ন পাঠ্যপুস্তকের অনুসন্ধান ও গবেষণার সাতটি ধারাবাহিক ধাপ নিম্নোক্তভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে: ১. বিষয়বস্তু নির্ধারণ: সুরমা নদীর পানিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও বর্জ্যজনিত দূষণের মাত্রা মূল্যায়নের লক্ষ্য স্থির করা। ২. প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ: পাঠ্যপুস্তক, পূর্ববর্তী বৈজ্ঞানিক জার্নাল ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য থেকে নদীর পানির আদর্শ মানদণ্ড (যেমন আদর্শ pH ও দ্রবীভূত উপাদান) সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। ৩. কাজের পরিকল্পনা ও হাইপোথিসিস গঠন: 'জমির অতিরিক্ত সারের কারণে নদীর পানির স্বাভাবিক অম্ল-ক্ষারক ভারসাম্যে ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটেছে'—এমন একটি অনুমিত সিদ্ধান্ত (hypothesis) প্রণয়ন করা এবং ধাপে ধাপে কাজের পরিকল্পনা তৈরি করা। ৪. পরীক্ষণ পদ্ধতি ও বস্তু নির্ধারণ: পানির অম্লত্ব/ক্ষারকত্ব যাচাইয়ের জন্য লিটমাস পেপার, pH পেপার, বিকার এবং ফিল্টার পেপার নির্বাচন করা। ৫. তথ্য সংগ্রহ ও পরীক্ষণ পরিচালনা: নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে সতর্কতার সাথে একাধিকবার পরীক্ষা চালানো এবং পর্যবেক্ষিত মান খাতায় লিপিবদ্ধ করা। ৬. তথ্য বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ: সংগৃহীত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পানির দূষণের মাত্রা যাচাই করা এবং প্রাথমিক অনুমিত সিদ্ধান্তটি সঠিক কি না সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। ৭. ফলাফল উপস্থাপন ও প্রতিবেদন তৈরি: প্রাপ্ত সমস্ত ফলাফল, সীমাবদ্ধতা এবং সুরমা নদীর দূষণ প্রতিরোধে করণীয় সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ লিখিত প্রতিবেদন তৈরি করে উপস্থাপন করা। এই প্রণালীবদ্ধ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত কার্যকর ও নির্ভরযোগ্যভাবে পানিদূষণ নিরূপণ করতে পারবে।