পড়ার নোট
সভ্যতার অগ্রগতির সাথে মানুষ রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে ব্যবহারের জন্য নানা সামগ্রী তৈরি করছে। রসায়নের পরিধি এত বিস্তৃত যে সংক্ষেপে বলা কঠিন। কয়েকটি প্রধান ক্ষেত্র:
চিকিৎসা
জীবন রক্ষাকারী ওষুধ রসায়নের অবদান। গাছের নির্যাস থেকে ওষুধ নিষ্কাশন করা হয়। পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড হলে এন্টাসিড খাওয়া হয়, যা ক্ষারধর্মী হওয়ায় এসিডকে প্রশমিত করে। ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতায় লবণ দিয়ে তৈরি স্যালাইন দেওয়া হয়।
দৈনন্দিন জীবন
জামাকাপড়, টুথপেস্ট, চিরুনি, প্রসাধনী, সাবান, শ্যাম্পু, টয়লেট ক্লিনার সবই রাসায়নিক পণ্য। রান্নার গ্যাস, কেরোসিন ও মোম হাইড্রোকার্বন; এদের দহনে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয়বাষ্প, আলো ও তাপ তৈরি হয়।
নির্মাণ
ঘরবাড়ি ও সেতু তৈরির সিমেন্ট, রড বা ইস্পাত, রং ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরি। চুনাপাথর সিমেন্ট তৈরির প্রধান কাঁচামাল।
শিল্প
যানবাহনের পরিশোধিত পেট্রল ও ডিজেল, সার, কাগজ, প্লাস্টিক, সাবান সবই শিল্পে বিভিন্ন পদার্থের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরি।
খাদ্য সংরক্ষণ
লবণ, চিনি ও ভিনেগারের মতো রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়, যাতে খাবার পচে না যায়।
কৃষি
খাদ্য চাহিদা পূরণে ফসলের খেতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। সারে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়ামের যৌগ থাকে, যা উদ্ভিদের পুষ্টি জোগায়।
উদাহরণ: একজন কৃষকের দিনের কাজে রসায়নের কোন কোন ক্ষেত্র আসে?
| কাজ | ক্ষেত্র |
|---|---|
| জমিতে ইউরিয়া সার দেওয়া | কৃষি |
| পাম্পে ডিজেল ভরা | শিল্প (পরিশোধিত জ্বালানি) |
| মাছ লবণ দিয়ে শুকানো | খাদ্য সংরক্ষণ |
| পেটের অসুখে স্যালাইন খাওয়া | চিকিৎসা |
| টিনের চালে রং করা | নির্মাণ |
সাধারণ ভুল হলো রসায়নকে শুধু উপকারী হিসেবে দেখা। অতিরিক্ত কীটনাশক বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে জলাশয় এবং উদ্বায়ী হয়ে বাতাস দূষিত করে; তাই রাসায়নিক পদার্থ বুঝেশুনে ব্যবহার করতে হয়।
মনে রাখো: চিকিৎসা, দৈনন্দিন জীবন, নির্মাণ, শিল্প, খাদ্য সংরক্ষণ ও কৃষি সব ক্ষেত্রেই রসায়নের ব্যবহার আছে; তবে অযৌক্তিক ব্যবহার পরিবেশের ক্ষতি করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।