offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ১ · টপিক ২

রসায়নের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিতকরণ

পড়ার নোট

যেখানে পদার্থ আছে, সেখানেই রসায়ন আছে। তাই রসায়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে হলে চারপাশের পদার্থ ও তাদের পরিবর্তন খুঁজতে হয়।

প্রকৃতিতে রসায়ন

  • বায়ুমণ্ডল: বায়ুতে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ থাকে এবং সেখানে কিছু না কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন অনবরত ঘটছে।
  • মাটি: যে মাটিতে আমরা বাস করি, সেখানেও প্রতি মুহূর্তে অসংখ্য পরিবর্তন ঘটছে।
  • পৃথিবীর ইতিহাস: জন্মের সময় পৃথিবী খুব উত্তপ্ত ছিল; বাতাস, পানি বা জীব ছিল না। কোটি কোটি বছরের রাসায়নিক পরিবর্তনে বায়ুমণ্ডল, পানি ও হাজারো পদার্থ তৈরি হয়ে পৃথিবী বাসযোগ্য হয়েছে।

জীবদেহে রসায়ন

ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা থেকে বিশাল উদ্ভিদ ও প্রাণী, মানুষসহ সবার দেহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থে তৈরি। প্রতিটি দেহ যেন একটি বড় রাসায়নিক কারখানা, যেখানে প্রতি মুহূর্তে অসংখ্য বিক্রিয়া চলছে; এসব বিক্রিয়ার কারণেই আমরা বেঁচে থাকি।

কয়েকটি ক্ষেত্র

বস্তুউপাদানরাসায়নিক দিক
বায়ুপ্রধানত নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনশ্বাসের অক্সিজেন দেহে খাদ্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি দেয়; নাইট্রোজেন বিক্রিয়ার তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করে
খাবার পানিপানি ও খনিজ লবণদেহের বিষাক্ত পদার্থ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে প্রস্রাব ও ঘামে বের হয়; পানিশূন্যতা কলেরায় মৃত্যুর মূল কারণ
সারনাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ইত্যাদিউদ্ভিদের খাদ্য উপাদান জোগায়, ফসল ভালো হয়
কাগজসেলুলোজবাঁশ ও আখের ছোবড়ার সেলুলোজ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কাগজ হয়

উদাহরণ: তোমার স্কুলব্যাগের জিনিসগুলোতে রসায়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করো:

  • খাতার কাগজ: বাঁশ বা আখের ছোবড়ার সেলুলোজ থেকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরি।
  • পানির বোতলের পানি: পানি ও খনিজ লবণ, দেহের রাসায়নিক কাজে লাগে।
  • টিফিনের খাবার: দেহে বিক্রিয়ায় শক্তি দেয়।
  • কলমের কালি ও প্লাস্টিক: শিল্পে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরি।

একটি ব্যাগেই রসায়নের অনেক ক্ষেত্র পাওয়া গেল।

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে রসায়ন শুধু কলকারখানায় বানানো জিনিসে আছে। বায়ু, মাটি, পানি ও আমাদের দেহেও প্রতিনিয়ত রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটছে।

মনে রাখো: যেখানে পদার্থ আছে সেখানেই রসায়ন আছে; বায়ু, মাটি, পানি, জীবদেহ এবং সার ও কাগজের মতো তৈরি পণ্য সবই রসায়নের ক্ষেত্র।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো