পড়ার নোট
বিজ্ঞান হলো মানবজাতির পদ্ধতিগত ও নিয়মানুগ প্রচেষ্টা, যার দ্বারা প্রকৃতিকে বুঝে নিজেদের কল্যাণে কাজে লাগানো হয়। বিজ্ঞানের প্রধান শাখাগুলোর একটি রসায়ন।
রসায়ন হলো বিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম এবং পদার্থের পারস্পরিক রূপান্তর, আর রূপান্তরের সময় শক্তি, মূলত তাপের শোষণ ও নিঃসরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কয়লা পোড়ালে তাপ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়; আর্দ্র পরিবেশে লোহায় মরিচা পড়ে; গাছের নির্যাস থেকে ওষুধ ও সুগন্ধি পাওয়া যায়; আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশন করা হয়। এগুলো সবই রসায়নের উদাহরণ।
রসায়নের ইতিহাস
- এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে মানুষের প্রথম ব্যবহৃত ধাতু তামা।
- খ্রিস্টপূর্ব প্রায় 3500 অব্দে কপার ও টিন গলিয়ে মিশিয়ে ব্রোঞ্জ নামের সংকর ধাতু তৈরি হয়, যা দিয়ে অস্ত্র ও কৃষি সরঞ্জাম বানানো হতো।
- খ্রিস্টপূর্ব প্রায় 380 অব্দে গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস বলেন, পদার্থ ভাঙতে থাকলে শেষে অবিভাজ্য কণা পাওয়া যাবে; তিনি এর নাম দেন অ্যাটম। প্রায় একই সময়ে ভারতীয় দার্শনিক কণাদ 'অণু'র ধারণা দেন। কিন্তু অ্যারিস্টটল মনে করতেন সব পদার্থ মাটি, আগুন, পানি ও বাতাসে তৈরি, তাই অ্যাটমের ধারণা দীর্ঘদিন গৃহীত হয়নি।
- মধ্যযুগে আরবের রসায়নচর্চাকে আলকেমি বলা হতো; আরবি 'আল-কিমিয়া' ও তার মূল 'কিমি' শব্দ থেকেই Chemistry শব্দের উৎপত্তি। জাবির ইবনে হাইয়ান প্রথম গবেষণাগারে রসায়নের চর্চা করেন, তাই তাঁকে রসায়নের জনক বলা হয়।
- অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়েকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়; বয়েল, বেকন ও ডালটনও রসায়নের প্রকৃত রহস্য উদ্ভাবনে কাজ করেন।
উদাহরণ: কাঁচা আম টক কিন্তু পাকা আম মিষ্টি কেন? কাঁচা আমে সাক্সিনিক এসিড, ম্যালিয়িক এসিডের মতো জৈব এসিড থাকে। আম পাকার সময় এসব এসিডের রাসায়নিক পরিবর্তনে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ তৈরি হয়। অর্থাৎ একটি পদার্থ অন্য পদার্থে রূপান্তরিত হলো; এটিই রসায়নের বিষয়।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে রসায়ন শুধু গবেষণাগারের বিষয়। মরিচা পড়া, রান্না, ফল পাকা সবই আমাদের চারপাশের রাসায়নিক পরিবর্তন।
মনে রাখো: রসায়ন পদার্থের গঠন, ধর্ম ও পারস্পরিক রূপান্তর এবং রূপান্তরের সময় শক্তির পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে; জাবির ইবনে হাইয়ান রসায়নের জনক আর ল্যাভয়সিয়ে আধুনিক রসায়নের জনক।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।