পড়ার নোট
বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা, যেমন রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, পরিবেশবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব, একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। অন্য শাখা যেমন রসায়নের উপর নির্ভরশীল, রসায়নও তেমনি অন্য শাখার উপর নির্ভরশীল।
জীববিজ্ঞানের সাথে
- উদ্ভিদ পাতা দিয়ে বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মূল দিয়ে পানি নেয়, আর সূর্যালোকে ক্লোরোফিলের সাহায্যে এদের রাসায়নিক সংযোগে গ্লুকোজ তৈরি করে। সালোকসংশ্লেষণ মূলত একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া।
- প্রাণী শর্করা ও প্রোটিন জাতীয় খাবার খায়; দেহ সেগুলো ভেঙে গ্লুকোজ ও অ্যামাইনো এসিড তৈরি করে।
- সমগ্র জীবদেহ রাসায়নিক পদার্থে তৈরি; জীববিজ্ঞানে এসব পদার্থ ও বিক্রিয়া আলোচনা করা হয়।
পদার্থবিজ্ঞানের সাথে
- পদার্থবিজ্ঞানে চুম্বক, বিদ্যুৎ ও যন্ত্র নিয়ে আলোচনা হয়। বিদ্যুৎ পাওয়ার ব্যাটারি রসায়নের অবদান।
- তেল, গ্যাস বা কয়লা পোড়ালে যে শক্তি পাওয়া যায়, তা যানবাহন চালাতে ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
- রসায়নও পদার্থবিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল: রসায়নের একটি শাখা ভৌত রসায়ন, যার তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্ব ও সূত্রের উপর নির্ভর করে। নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞান ও নিউক্লিয়ার রসায়ন একে অপরের সাথে জড়িত।
গণিতের সাথে
রসায়নের বিভিন্ন হিসাবে সহজ থেকে জটিল গাণিতিক সূত্র ব্যবহৃত হয়; যেমন দ্রবণের ঘনমাত্রা, যৌগের সংযুতি এবং বিক্রিয়ার হার নির্ণয়।
এ ছাড়া বিজ্ঞানের প্রায় সব শাখার সাথে রসায়নের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক আছে।
উদাহরণ (গণিতের ব্যবহার): 200 g পানিতে 10 g লবণ মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করা হলো। দ্রবণে লবণের শতকরা পরিমাণ কত? মোট ভর g। লবণের শতকরা পরিমাণ । এখানে রসায়নের প্রশ্নের উত্তর দিতে গণিতের ভাগ ও শতকরা লাগল।
সাধারণ ভুল হলো শতকরা হিসাবে শুধু পানির ভর দিয়ে ভাগ করা। দ্রবণের মোট ভর হলো দ্রাবক ও দ্রবের যোগফল।
মনে রাখো: রসায়ন জীববিজ্ঞান (সালোকসংশ্লেষণ, পরিপাক), পদার্থবিজ্ঞান (ব্যাটারি, শক্তি, ভৌত রসায়ন) এবং গণিত (ঘনমাত্রা ও সংযুতির হিসাব) সহ বিজ্ঞানের প্রায় সব শাখার সাথে পারস্পরিকভাবে সম্পর্কিত।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।