offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ১ · টপিক ১২

রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং সতর্কতামূলক চিহ্ন

পড়ার নোট

রাসায়নিক পদার্থের কোনোটি বিস্ফোরক, কোনোটি দাহ্য, কোনোটি শরীরের সরাসরি ক্ষতি করে, আবার কোনোটি পরিবেশের ক্ষতি করে। পরীক্ষাগারের বেশির ভাগ যন্ত্রপাতিও কাচের তৈরি। তাই পরীক্ষাগারে ঢোকা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্ক থাকতে হয়; একটু অসতর্কতায় এসিডে ক্ষত, পোশাক নষ্ট, অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

নিরাপত্তা সরঞ্জাম

  • অ্যাপ্রোন: সাধারণত সাদা; হাতা কবজি পর্যন্ত এবং লম্বায় হাঁটুর নিচ পর্যন্ত।
  • হ্যান্ড গ্লাভস: হাত রক্ষার জন্য।
  • সেফটি গগলস: চোখ রক্ষার জন্য।
  • মাস্ক: ক্ষতিকর ধোঁয়া ও ধুলা থেকে শ্বাসতন্ত্র রক্ষার জন্য।

সতর্কতামূলক সাংকেতিক চিহ্ন

রাসায়নিকের বোতল বা কৌটার লেবেলে পদার্থের প্রকৃতি বোঝাতে সাংকেতিক চিহ্ন বা পিকটোগ্রাম থাকে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি এ জন্য গ্লোবালি হারমোনাইজড সিস্টেম নামে একটি সর্বজনীন নিয়ম চালু করেছে।

চিহ্নউদাহরণসাবধানতা
বিস্ফোরক পদার্থটিএনটি, পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিনআগুন থেকে দূরে, খুব সাবধানে নাড়াচাড়া
দাহ্য পদার্থঅ্যালকোহল, ইথারআগুন ও তাপ থেকে দূরে রাখা
বিষাক্ত পদার্থবেনজিন, ক্লোরোবেনজিন, মিথানলঅ্যাপ্রোন, গ্লাভস, গগলস, মাস্ক পরা
উত্তেজক পদার্থধুলা, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইডত্বক, চোখ ও শ্বাসতন্ত্র রক্ষা
স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থত্বকে লাগলে বা শ্বাসে ঢুকলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে এমন পদার্থসুরক্ষা সরঞ্জাম পরা
তেজস্ক্রিয় পদার্থইউরেনিয়াম, রেডিয়ামক্ষতিকর রশ্মি ক্যানসারের মতো রোগ ঘটাতে পারে; বিশেষ সতর্কতা
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকরলেড, মার্কারিযেখানে-সেখানে না ফেলা, নিরাপদে নিষ্কাশন

সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নিয়ম

  • ব্যবহারের আগে লেবেল ও চিহ্ন পড়ে পদার্থের প্রকৃতি জেনে নেওয়া।
  • দাহ্য পদার্থ আগুন থেকে দূরে, ঠান্ডা জায়গায় রাখা।
  • কোনো রাসায়নিক মুখে দেওয়া বা সরাসরি শোঁকা যাবে না।
  • কাজ শেষে হাত ধোয়া এবং বর্জ্য নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা।

উদাহরণ: একটি বোতলে আগুনের শিখার চিহ্ন। এর পাশে কি বুনসেন বার্নার জ্বালানো যাবে? না; শিখার চিহ্ন মানে দাহ্য পদার্থ, যেমন অ্যালকোহল বা ইথার, যাতে দ্রুত আগুন ধরে। বোতলটি বার্নার থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।

মনে রাখো: পরীক্ষাগারে অ্যাপ্রোন, গ্লাভস, গগলস ও মাস্ক পরতে হয়, আর রাসায়নিক ব্যবহারের আগে লেবেলের সাংকেতিক চিহ্ন দেখে পদার্থটি বিস্ফোরক, দাহ্য, বিষাক্ত, উত্তেজক, তেজস্ক্রিয় নাকি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তা জেনে সাবধানতা নিতে হয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ঘন এসিড লঘুকরণে নিরাপত্তা সতর্কতাচালিয়ে দেখো

    বিদ্যালয়ের রসায়ন গবেষণাগারে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ৫০ mL পানিতে ১০ mL ঘন সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) মিশিয়ে লঘু দ্রবণ তৈরি করতে বললেন। গবেষণাগারে বিকার, পরিমাপক চোঙ, ডিস্টিল্ড ওয়াটার, ফিউম হুড ও সুরক্ষাসামগ্রী (গগলস, অ্যাপ্রন, গ্লাভস) রয়েছে। দ্রবণ তৈরির সময় বিকারটিতে তরল দুটি মেশানোর সবচেয়ে নিরাপদ ও সঠিক নিয়ম কোনটি?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. বিদ্যালয়ের রসায়নাগারে রাখা একটি বোতলের গায়ে 'গাঢ় সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)' লেখা রয়েছে। আন্তর্জাতিক গ্লোবালি হারমোনাইজড সিস্টেম (GHS) অনুসারে এই বোতলের গায়ে কোন সতর্কতামূলক সাংকেতিক চিহ্নটি থাকা আবশ্যক এবং এর প্রধান ঝুঁকি কী?

    1. ক

      ক্ষয়কারী চিহ্ন (Corrosive); এটি ত্বক পুড়িয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে এবং ধাতব পদার্থকে ক্ষয় করে

    2. খ

      বিস্ফোরক চিহ্ন (Explosive); এটি সামান্য নাড়া দিলে ফেটে মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটায়

    3. গ

      দাহ্য পদার্থ চিহ্ন (Flammable); এটি সামান্য তাপে নিজে আগুনে জ্বলে ওঠে

    4. ঘ

      তেজস্ক্রিয় চিহ্ন (Radioactive); এটি ক্ষতিকর পারমাণবিক রশ্মি বিকিরণ করে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ক্ষয়কারী চিহ্ন (Corrosive); এটি ত্বক পুড়িয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে এবং ধাতব পদার্থকে ক্ষয় করে

    1. গাঢ় সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) একটি অত্যন্ত তীব্র খনিজ এসিড ও শক্তিশালী নিরুদক, যা মানবদেহের সংস্পর্শে এলে ত্বক পুড়িয়ে দেয় এবং ধাতুর সংস্পর্শে ক্ষয় ঘটায়।
    2. GHS প্রতীক নির্দেশিকা অনুসারে ক্ষয়কারী পদার্থের বোতলে টেস্টটিউব থেকে অ্যাসিড ঢেলে হাত ও ধাতু ক্ষয় হওয়ার ছবিসংবলিত 'ক্ষয়কারী (Corrosive)' সাংকেতিক চিহ্নটি ব্যবহার করা হয়।
  2. রসায়নাগারে রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণের সময় গাঢ় এসিড, তীব্র ক্ষার এবং উদ্বায়ী দাহ্য পদার্থকে একই তাকে পাশাপাশি রাখা বিপজ্জনক কেন? ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গাঢ় এসিড ও তীব্র ক্ষার দুর্ঘটনাবশত পরস্পরের সংস্পর্শে এলে তীব্র তাপোৎপাদী প্রশমন বিক্রিয়া ঘটে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয় এবং মিশ্রণ ছিটকে কাচের পাত্র ফেটে যেতে পারে। নির্গত এই তীব্র তাপের সংস্পর্শে পাশে থাকা উদ্বায়ী দাহ্য পদার্থে (যেমন অ্যালকোহল বা ইথার) তাৎক্ষণিক আগুন ধরে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঘটার ঝুঁকি থাকে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে ল্যাবরেটরিতে এসিড, ক্ষার এবং দাহ্য পদার্থকে সর্বদা সুরক্ষিতভাবে পৃথক পৃথক নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ করতে হয়।

    1. এসিড ও ক্ষারের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শজনিত ঝুঁকি: গাঢ় এসিড ও তীব্র ক্ষারের মধ্যকার তীব্র তাপোৎপাদী প্রশমন বিক্রিয়ায় প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয় যা কাচের পাত্র ফাটিয়ে দিতে পারে।
    2. দাহ্য পদার্থের অগ্নিকাণ্ড ঝুঁকি: উৎপন্ন তাপের কারণে পাশে থাকা উদ্বায়ী দাহ্য পদার্থে দ্রুত আগুন ধরে গিয়ে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড সৃষ্টি করতে পারে, ফলে এদের পৃথকভাবে সংরক্ষণ আবশ্যক।
  3. নিরাপদে কাজ চালাতে শিক্ষকের নির্দেশনায় করণীয়— i. বোতলটি আগুনের উৎস থেকে দূরে রাখা; ii. প্রয়োজনীয় স্পিরিট নেওয়ার পর বোতলের মুখ বন্ধ রাখা; iii. খোলা শিখার পাশে বোতল থেকে স্পিরিট ঢালা। নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও iii

    2. খ

      ii ও iii

    3. গ

      i ও ii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) i ও ii

    1. স্পিরিট দাহ্য পদার্থ, তাই এর বোতল আগুন থেকে দূরে রাখতে হবে এবং ব্যবহারের পর মুখ বন্ধ করতে হবে।
    2. খোলা শিখার পাশে স্পিরিট ঢাললে আগুন লাগতে পারে। তাই i ও ii সঠিক, iii ভুল।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো