পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পদ্ধতিগতভাবে অর্জিত সুসংবদ্ধ জ্ঞানই বিজ্ঞান, আর সঠিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অজানা কিছু জানার নামই গবেষণা। যিনি গবেষণা করেন তিনিই বিজ্ঞানী; তাই তুমিও পদ্ধতি মেনে জ্ঞান অন্বেষণ করলে বিজ্ঞানী হতে পারো।
গবেষণার ধাপ
বিষয় নির্বাচন: তুমি কী জানতে চাও বা কোন নতুন পদার্থ আবিষ্কার করতে চাও, তা ঠিক করা।
পূর্বের জ্ঞান সংগ্রহ: বই বা আগের গবেষণাপত্র পড়ে বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং ফলাফল সম্পর্কে একটি অনুমান করা।
পরিকল্পনা: প্রয়োজনীয় পদার্থ, যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষা প্রণালি নির্ধারণ।
পরীক্ষণ: পরিকল্পনা অনুযায়ী পরীক্ষাটি করা।
তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ: প্রতিটি ধাপের তথ্য খাতায় লিখে তালিকায় সাজানো এবং বিশ্লেষণ করা।
ফলাফল ও আলোচনা: বিশ্লেষণ থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এবং প্রাথমিক অনুমানের সাথে মিলিয়ে আলোচনা করা।
এই ধাপগুলোকে একটি ফ্লো চার্ট বা প্রবাহমান তালিকায় দেখানো যায়।
উদাহরণ: প্রশ্ন: অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডকে পানিতে দ্রবীভূত করলে তাপ উৎপন্ন হয় নাকি শোষিত হয়?
পূর্বের জ্ঞান: একটি বই থেকে জানা গেল, ক্যালসিয়াম অক্সাইড পানিতে দ্রবীভূত হলে তাপ নির্গত হয়। এ থেকে অনুমান: অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডেও হয়তো তাপ উৎপন্ন হবে।
পরিকল্পনা ও পরীক্ষণ: একটি বিকারে পানি নিয়ে থার্মোমিটারে তাপমাত্রা মাপো, তারপর ধাপে ধাপে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড যোগ করে প্রতিবার তাপমাত্রা লেখো।
তথ্য (নমুনা):
যোগ করা NH4Cl
তাপমাত্রা
0 g
25°C
5 g
21°C
10 g
18°C
বিশ্লেষণ: যত বেশি অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড দ্রবীভূত হচ্ছে, তাপমাত্রা তত কমছে; প্রথম 5 g এ কমেছে 25−21=4°C।
ফলাফল: অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড পানি থেকে তাপ শোষণ করে দ্রবীভূত হয়। প্রাথমিক অনুমানটি ভুল প্রমাণিত হলো।
সাধারণ ভুল হলো অনুমানের সাথে ফল না মিললে গবেষণাকে ব্যর্থ ভাবা। অনুমান ভুল প্রমাণিত হওয়াও একটি বৈধ ফলাফল; এভাবেই নতুন জ্ঞান তৈরি হয়।
মনে রাখো: গবেষণার ধাপ হলো বিষয় নির্বাচন, পূর্বের জ্ঞান ও অনুমান, পরিকল্পনা, পরীক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং ফলাফল ও আলোচনা।
সাভারের চামড়া শিল্পনগরী (ট্যানারি) এলাকার একটি জলাশয়ের পানিতে এসিড বর্জ্য মিশেছে কি না তা যাচাই করতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অনুসন্ধানমূলক কাজের পরিকল্পনা করল। তারা অনুমান করল (hypothesis) যে ট্যানারির বর্জ্যের কারণে জলাশয়ের পানি অম্লীয় হয়েছে। গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য জলাশয় থেকে ৫০ mL পানির নমুনা কনিক্যাল ফ্লাস্কে নেওয়া হলো, যাতে এসিডের ঘনমাত্রা ০.০২ mol/L। এরপর এতে নির্দেশক যোগ করে ব্যুরেট থেকে ০.১ mol/L ঘনমাত্রার সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার দ্রবণ ফোঁটা ফোঁটা করে যোগ করা শুরু হলো। নমুনা পানিটিকে সম্পূর্ণ প্রশমিত করতে (তুল্যতা বিন্দুতে) কত mL ক্ষার দ্রবণ লাগবে?
অনুশীলনের প্রশ্ন
১
রসায়নে অনুসন্ধান ও গবেষণার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিষয়বস্তু নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের ঠিক পরবর্তী আবশ্যকীয় ধাপ কোনটি?
ক
পরীক্ষণ পরিচালনা ও উপাত্ত সংগ্রহ
খ
ফলাফল প্রকাশ ও প্রতিবেদন তৈরি
গ
কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অনুমিত সিদ্ধান্ত (hypothesis) গঠন
ঘ
উপাত্ত বিশ্লেষণ ও সাধারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ
উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
গ) কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অনুমিত সিদ্ধান্ত (hypothesis) গঠন
পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী রসায়নে গবেষণার ধাপসমূহের ধারাবাহিক ক্রম: ১. বিষয়বস্তু নির্ধারণ → ২. তথ্য সংগ্রহ → ৩. কাজের পরিকল্পনা ও অনুমিত সিদ্ধান্ত (hypothesis) গ্রহণ → ৪. পরীক্ষণ পদ্ধতি ও উপকরণ নির্ধারণ → ৫. তথ্য সংগ্রহ ও পরীক্ষণ → ৬. তথ্য বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ → ৭. ফলাফল উপস্থাপন।
সুতরাং তথ্য সংগ্রহের পরবর্তী অনিবার্য ধাপ হলো কাজের সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অনুমিত সিদ্ধান্ত (hypothesis) গঠন।
এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?
মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।