offSchoolবেটা

পদার্থবিজ্ঞান · অধ্যায় ৯

পানিতে স্ট্র বাঁকা দেখার রহস্য: আলোর প্রতিসরণ

মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।

এক গ্লাস স্বচ্ছ পানিতে একটি সোজা স্ট্র ডুবালে ওপর থেকে দেখলে পানির বিভেদতলে সেটি ভেঙে বা বেঁকে গেছে বলে মনে হয়। আলো যখন বায়ু (n₁ = ১.০০) থেকে তীর্যকভাবে পানিতে (n₂ = ১.৩৩) প্রবেশ করে, তখন আলোকরশ্মি কোন দিকে বাঁকবে? আর আলো যদি অভিলম্ব বরাবর লম্বভাবে (আপতন কোণ ০°) আপতিত হয়, তবেই বা কী ঘটবে?

বায়ু (n₁ = ১.০০) থেকে আলো যখন তীর্যকভাবে পানিতে (n₂ = ১.৩৩) প্রবেশ করে, তখন আলোকরশ্মি কোন দিকে বাঁকবে এবং লম্বভাবে (০° কোণে) আপতিত হলে কী ঘটবে?

  1. তীর্যক আলো অভিলম্বের দিকে বেঁকে যাবে এবং ০° কোণে কোনো বিচ্যুতি না ঘটে সোজা যাবে
  2. তীর্যক আলো অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যাবে এবং ০° কোণেও দূরে সরে যাবে
  3. উভয় ক্ষেত্রেই আলো মোটেও বাঁকবে না: কারণ বাতাস ও পানি দুটোই স্বচ্ছ মাধ্যম

যা বদলাতে পারবে

  • দ্বিতীয় মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক (n₂): ১ থেকে ২.৪২
  • আপতন কোণ (i): ০ থেকে ৮৫ °

যা মেপে দেখাবে

  • প্রতিসরণ কোণ (r) (°)
  • বিচ্যুতি কোণ (δ) (°)

চালানোর সময় খেয়াল করো

  • আপতন কোণ ০° থেকে বাড়িয়ে ৩০° বা ৪৫° করো। প্রতিসরণ কোণ (r) কি আপতন কোণ (i)-এর চেয়ে ছোট হচ্ছে? আলো কোন দিকে বাঁকছে?

নিজে করে দেখো

  1. আপতন কোণ ৬০° এ রেখে এমন একটি মাধ্যম (n₂) খুঁজে বের করো যাতে প্রতিসরণ কোণ ঠিক ৩০° হয়।
    ইঙ্গিত

    স্নেলের সূত্র: n₂ = sin(৬০°) ÷ sin(৩০°)। হিসাব করে দেখো মানটি প্রায় ১.৭৩ হয় কি না।

  2. কাচের মাধ্যম বেছে নিয়ে (n₂ = ১.৫০) বিচ্যুতি কোণ শূন্য (০°) করো।
    ইঙ্গিত

    বিভেদতলে আলো লম্বভাবে অর্থাৎ ০° কোণে আপতিত হলে কোনো বিচ্যুতি ঘটে না।

ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।

স্নেলের সূত্র ও প্রতিসরাঙ্ক

n1sin⁡i=n2sin⁡rn_1 \sin i = n_2 \sin r

আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তীর্যকভাবে প্রবেশ করলে বিভেদতলে এর দিক পরিবর্তন হয়, যাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। আলোক রশ্মি হালকা মাধ্যম (যেমন বায়ু, n₁ = ১.০০) থেকে ঘন মাধ্যমে (যেমন পানি, n₂ = ১.৩৩) প্রবেশ করলে অভিলম্বের দিকে বেঁকে যায়। ফলে প্রতিসরণ কোণ আপতন কোণের চেয়ে ছোট হয় (r < i)। তবে আলো অভিলম্ব বরাবর লম্বভাবে (i = ০°) আপতিত হলে কোনো দিক পরিবর্তন হয় না, আলো সরাসরি সোজা চলে যায় (r = ০°, বিচ্যুতি δ = ০°)। স্ট্র-এর পানির নিচের অংশ থেকে আসা আলোকরশ্মি পানি থেকে বাতাসে আসার সময় অভিলম্ব থেকে দূরে সরে দর্শকের চোখে পৌঁছায়। আমাদের চোখ আলোর বাঁকা পথ বুঝতে পারে না, ফলে স্ট্র-এর নিচের অংশ কিছুটা ওপরে ও বাঁকা অবস্থানে দেখা যায়। স্নেলের সূত্রানুসারে: n₁ sin i = n₂ sin r, অর্থাৎ প্রতিসরাঙ্ক n = sin i / sin r।

অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল

আলো বাঁকার মূল কারণ হলো বিভিন্ন মাধ্যমে আলোর গতিবেগের পার্থক্য। বাতাসে আলোর বেগ প্রায় ৩ × ১০⁸ m/s, কিন্তু পানিতে বেগ কমে প্রায় ২.২৬ × ১০⁸ m/s হয়ে যায়। ঘন মাধ্যমে বেগ কমে যাওয়ায় তরঙ্গমুখের এক পাশ আগে ধীর হয়ে আলো অভিলম্বের দিকে ঝুঁকে পড়ে। পানি ভারী বলে আলো দূরে ছিটকে যায় না। আবার মাধ্যম দুটি স্বচ্ছ হলেও আলোর বেগ ভিন্ন হওয়ায় আলো না বেঁকে যেতে পারে না। শুধু আপতন কোণ ০° হলে তরঙ্গমুখের সব বিন্দু একই সাথে মাধ্যমে প্রবেশ করায় কোনো বিচ্যুতি ছাড়াই সোজা চলে যায়।

যেসব ভুল ধারণা হয়

  • হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করলে আলো অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়
  • উভয় মাধ্যম স্বচ্ছ হলে আলোর গতিপথের কোনো দিক পরিবর্তন বা প্রতিসরণ ঘটে না

বাস্তবে কোথায় দেখা যায়

  • নদী ও হাওরে টেঁটা বা কোচ দিয়ে মাছ শিকার: প্রতিসরণের কারণে পানির নিচের মাছকে আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা ওপরে দেখা যায়, তাই অভিজ্ঞ শিকারিরা মাছের দৃশ্যমান অবস্থানের কিছুটা নিচে লক্ষ্যভেদ করেন
  • চশমা ও অপটিক্যাল লেন্সের মাধ্যমে দৃষ্টির ত্রুটি সংশোধন: কাচ বা প্লাস্টিক লেন্সের প্রতিসরাঙ্কের সাহায্যে আলোকরশ্মিকে প্রতিসরিত করে চোখের রেটিনায় স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়

পাঠ্যবইয়ের টপিক