আলোর প্রতিফলন
আলো কোনো তলে আপতিত হয়ে আগের মাধ্যমে ফিরে এলে তাকে প্রতিফলন বলে। প্রতিফলনের দুটি সূত্র: আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি আর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে; এবং আপতন কোণ প্রতিফলন কোণের সমান। আলো একই মাধ্যমে থাকে বলে এর বেগ বদলায় না।
আলোর প্রতিসরণ
আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করলে বিভেদতলে এর দিক বদলে যায়; একে প্রতিসরণ বলে। কারণ দুই মাধ্যমে আলোর বেগ আলাদা: হালকা মাধ্যম (বায়ু) থেকে ঘন মাধ্যমে (পানি, কাচ) ঢুকলে আলো অভিলম্বের দিকে বেঁকে যায়, আর ঘন থেকে হালকায় গেলে অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। আলো লম্বভাবে আপতিত হলে অবশ্য দিক বদলায় না।
পানিতে স্ট্র বাঁকা দেখায় কেন
গ্লাসের পানিতে ডোবানো স্ট্রের নিচের অংশ থেকে আলো পানি থেকে বায়ুতে আসার সময় প্রতিসৃত হয়ে অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। আমাদের চোখ ধরে নেয় আলো সোজা পথে এসেছে, তাই স্ট্রের ডোবানো অংশকে একটু ওপরে উঠে আসা মনে হয়, আর স্ট্রটি বাঁকা দেখায়। একই কারণে পুকুরের তল আসলের চেয়ে অগভীর মনে হয়।
মিল কোথায়
- দুটিতেই আপতন কোণ মাপা হয় অভিলম্ব থেকে।
- দুটিতেই আপতিত রশ্মি, অভিলম্ব আর প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত রশ্মি একই সমতলে থাকে।
- বাস্তবে প্রায়ই দুটি একসাথে ঘটে: কাচে আলোর কিছুটা প্রতিফলিত হয়, বাকিটা প্রতিসৃত।
সাধারণ ভুল
- কোণ মাপা হয় তল থেকে ভাবা। আপতন, প্রতিফলন ও প্রতিসরণ কোণ সবই মাপা হয় অভিলম্ব থেকে।
- প্রতিসরণে আলোর বেগ একই থাকে ভাবা। মাধ্যম বদলালে আলোর বেগ বদলায়, সেটিই প্রতিসরণের কারণ।