পড়ার নোট
এক মাধ্যম থেকে আসা আলোর কিছু অংশ দুই মাধ্যমের বিভেদতলে বাধা পেয়ে আগের মাধ্যমে ফিরে আসে; একে প্রতিফলন বলে। প্রতিফলনের সূত্র বোঝার আগে কয়েকটি শব্দ জানা দরকার।
- যে রশ্মি এসে তলের কোনো বিন্দুতে পড়ে, তা আপাতন রশ্মি; বিন্দুটি আপাতন বিন্দু।
- আপাতন বিন্দুতে তলের ওপর কল্পিত লম্বকে অভিলম্ব বলে।
- যে রশ্মি ফিরে আসে, তা প্রতিফলিত রশ্মি।
- আপাতন রশ্মি অভিলম্বের সঙ্গে যে কোণ করে, তা আপাতন কোণ ; প্রতিফলিত রশ্মি অভিলম্বের সঙ্গে যে কোণ করে, তা প্রতিফলন কোণ ।
প্রতিফলনের সূত্র:
- আপাতন রশ্মি ও অভিলম্ব যে সমতলে আছে, প্রতিফলিত রশ্মিও সেই একই সমতলে থাকে।
- প্রতিফলন কোণ আপাতন কোণের সমান: ।
কোণ মাপা হয় অভিলম্ব থেকে, তল থেকে নয়। কোণের একক ডিগ্রি বা রেডিয়ান।
মসৃণ সমতল তলে, যেমন সমতল আয়নায়, সমান্তরাল রশ্মিগুলো প্রতিফলনের পরও সমান্তরাল থাকে; অমসৃণ তলে বিভিন্ন বিন্দুর অভিলম্ব বিভিন্ন দিকে থাকায় প্রতিফলিত রশ্মি নানা দিকে ছড়িয়ে যায়। দুই ক্ষেত্রেই প্রতিটি রশ্মি সূত্র মেনে চলে। আপাতন কোণ বাড়লে প্রতিফলিত আলোর পরিমাণও বাড়ে; সাধারণ কাচে প্রায় সোজা আলোর মাত্র থেকে প্রতিফলিত হয়, কিন্তু কাচ ঘেঁষে তাকালে অনেক বেশি প্রতিফলন দেখা যায়।
উদাহরণ: একটি আলোক রশ্মি আয়নায় অভিলম্বের সঙ্গে কোণে পড়ল। তাহলে প্রতিফলন কোণও , এবং আপাতন ও প্রতিফলিত রশ্মির মধ্যবর্তী কোণ । আবার রশ্মিটি আয়নার তলের সঙ্গে কোণ করলে আপাতন কোণ হবে ।
সাধারণ ভুল হলো আপাতন কোণকে আয়নার তলের সঙ্গে রশ্মির কোণ ধরা। আপাতন ও প্রতিফলন কোণ সবসময় অভিলম্বের সাপেক্ষে মাপতে হয়।
মনে রাখো: আপাতন রশ্মি, অভিলম্ব ও প্রতিফলিত রশ্মি একই সমতলে থাকে, এবং অভিলম্ব থেকে মাপা প্রতিফলন কোণ আপাতন কোণের সমান।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।