পড়ার নোট
যে মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন হয়, তাকে দর্পণ বা আয়না বলে। দর্পণ প্রধানত দুই রকম: সমতল ও গোলীয়।
সমতল দর্পণ: প্রতিফলক তলটি সমতল, যেমন ঘরের সাধারণ আয়না। এতে বস্তুর প্রতিবিম্ব সোজা, সমান আকারের এবং আয়না থেকে বস্তুর সমান দূরত্বে পেছনে মনে হয়।
গোলীয় দর্পণ: একটি ফাঁপা গোলকের খানিকটা কেটে তার এক পৃষ্ঠে রুপা বা অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ দিলে গোলীয় আয়না তৈরি হয়। কোন পৃষ্ঠে প্রলেপ, তার ওপর নির্ভর করে এটি দুই রকম:
- অবতল দর্পণ: গোলকের ভেতরের দিকের বাঁকা পৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলন হয়। প্রধান অক্ষের সমান্তরাল রশ্মি প্রতিফলনের পর একটি বিন্দুতে মিলিত হয়, এটি অভিসারী।
- উত্তল দর্পণ: গোলকের বাইরের দিকের উঁচু পৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলন হয়। সমান্তরাল রশ্মি প্রতিফলনের পর ছড়িয়ে যায়, যেন একটি বিন্দু থেকে আসছে; এটি অপসারী।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ: প্রতিফলক পৃষ্ঠের মাঝের বিন্দু মেরু বিন্দু; আয়নাটি যে গোলকের অংশ তার কেন্দ্র বক্রতার কেন্দ্র এবং ব্যাসার্ধ ; মেরু ও বক্রতার কেন্দ্র দিয়ে যাওয়া সরলরেখা প্রধান অক্ষ; সমান্তরাল রশ্মি প্রতিফলনের পর যে বিন্দুতে মেলে বা যেখান থেকে ছড়ায় বলে মনে হয়, তা ফোকাস বিন্দু; মেরু থেকে ফোকাসের দূরত্ব ফোকাস দূরত্ব । গোলীয় আয়নায় প্রায় সঠিকভাবে ।
উদাহরণ: একটি অবতল আয়না cm ব্যাসার্ধের গোলকের অংশ হলে এর ফোকাস দূরত্ব cm। সমতল আয়নাকে অসীম ব্যাসার্ধের গোলকের অংশ ভাবা যায়, তাই এর ফোকাস দূরত্ব অসীম।
একটি চকচকে চামচ দিয়ে দুটিই পরীক্ষা করা যায়: চামচের উল্টো পিঠ উত্তল আয়নার মতো (ছোট, সোজা প্রতিবিম্ব), আর ভেতরের দিক অবতল আয়নার মতো কাজ করে।
সাধারণ ভুল হলো ফোকাস দূরত্ব আর বক্রতার ব্যাসার্ধকে সমান ভাবা। ফোকাস বিন্দু মেরু ও বক্রতার কেন্দ্রের মাঝামাঝি থাকে।
মনে রাখো: দর্পণ সমতল বা গোলীয়; গোলীয় দর্পণ অবতল (অভিসারী) বা উত্তল (অপসারী), এবং এদের ফোকাস দূরত্ব ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।