offSchoolবেটা

পদার্থবিজ্ঞান · অধ্যায় ৮ · টপিক ৩

দর্পণ: সমতল ও গোলীয় (অবতল, উত্তল)

পড়ার নোট

যে মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন হয়, তাকে দর্পণ বা আয়না বলে। দর্পণ প্রধানত দুই রকম: সমতল ও গোলীয়।

সমতল দর্পণ: প্রতিফলক তলটি সমতল, যেমন ঘরের সাধারণ আয়না। এতে বস্তুর প্রতিবিম্ব সোজা, সমান আকারের এবং আয়না থেকে বস্তুর সমান দূরত্বে পেছনে মনে হয়।

গোলীয় দর্পণ: একটি ফাঁপা গোলকের খানিকটা কেটে তার এক পৃষ্ঠে রুপা বা অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ দিলে গোলীয় আয়না তৈরি হয়। কোন পৃষ্ঠে প্রলেপ, তার ওপর নির্ভর করে এটি দুই রকম:

  • অবতল দর্পণ: গোলকের ভেতরের দিকের বাঁকা পৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলন হয়। প্রধান অক্ষের সমান্তরাল রশ্মি প্রতিফলনের পর একটি বিন্দুতে মিলিত হয়, এটি অভিসারী।
  • উত্তল দর্পণ: গোলকের বাইরের দিকের উঁচু পৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলন হয়। সমান্তরাল রশ্মি প্রতিফলনের পর ছড়িয়ে যায়, যেন একটি বিন্দু থেকে আসছে; এটি অপসারী।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ: প্রতিফলক পৃষ্ঠের মাঝের বিন্দু মেরু বিন্দু; আয়নাটি যে গোলকের অংশ তার কেন্দ্র বক্রতার কেন্দ্র এবং ব্যাসার্ধ rr; মেরু ও বক্রতার কেন্দ্র দিয়ে যাওয়া সরলরেখা প্রধান অক্ষ; সমান্তরাল রশ্মি প্রতিফলনের পর যে বিন্দুতে মেলে বা যেখান থেকে ছড়ায় বলে মনে হয়, তা ফোকাস বিন্দু; মেরু থেকে ফোকাসের দূরত্ব ফোকাস দূরত্ব ff। গোলীয় আয়নায় প্রায় সঠিকভাবে f=r2f=\dfrac{r}{2}।

উদাহরণ: একটি অবতল আয়না 4040 cm ব্যাসার্ধের গোলকের অংশ হলে এর ফোকাস দূরত্ব f=402=20f=\dfrac{40}{2}=20 cm। সমতল আয়নাকে অসীম ব্যাসার্ধের গোলকের অংশ ভাবা যায়, তাই এর ফোকাস দূরত্ব অসীম।

একটি চকচকে চামচ দিয়ে দুটিই পরীক্ষা করা যায়: চামচের উল্টো পিঠ উত্তল আয়নার মতো (ছোট, সোজা প্রতিবিম্ব), আর ভেতরের দিক অবতল আয়নার মতো কাজ করে।

সাধারণ ভুল হলো ফোকাস দূরত্ব আর বক্রতার ব্যাসার্ধকে সমান ভাবা। ফোকাস বিন্দু মেরু ও বক্রতার কেন্দ্রের মাঝামাঝি থাকে।

মনে রাখো: দর্পণ সমতল বা গোলীয়; গোলীয় দর্পণ অবতল (অভিসারী) বা উত্তল (অপসারী), এবং এদের ফোকাস দূরত্ব f=r2f=\dfrac{r}{2}।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • কাজের প্রয়োজনে সঠিক দর্পণ নির্বাচনচালিয়ে দেখো

    একটি সেলুনের শেভিং মিরর, একটি রিকশার সাইড মিরর এবং বান্দরবানের পাহাড়ি বিপজ্জনক বাঁকের গোল দর্পণ: ভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের দর্পণ প্রয়োজন। বান্দরবানের পাহাড়ি সড়কের অন্ধ বাঁকে একটি গোল দর্পণ (ফোকাস দূরত্ব ২০ cm) বসানো হলো। বাঁকের মুখে ৫০ cm দূর থেকে এগিয়ে আসা একটি গাড়ির পুরো দৃশ্য আয়নায় দেখতে হবে। কোন দর্পণটি বেছে নিলে গাড়িটির সোজা কিন্তু আকারে ছোট প্রতিবিম্ব দেখা যাবে, যাতে পুরো রাস্তাটি এক নজরে আয়নায় ধরে?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. বান্দরবানের পাহাড়ি সড়কের বিপদজ্জনক অন্ধ বাঁকে (blind turns) এবং যানবাহনের পেছনের দৃশ্য দেখার ভিউ-মিরর হিসেবে উত্তল দর্পণ ব্যবহারের মূল কারণ কোনটি?

    1. ক

      এটি সর্বদা সোজা ও খর্বিত প্রতিবিম্ব তৈরি করে বিস্তৃত দৃষ্টি ক্ষেত্র (wider field of view) প্রদান করে

    2. খ

      এটি সর্বদা বাস্তব ও অত্যন্ত বিবর্ধিত প্রতিবিম্ব গঠন করে

    3. গ

      এটি প্রতিফলিত আলোক রশ্মিকে চালকের চোখে একটি বাস্তব ফোকাস বিন্দুতে অভিসারী করে

    4. ঘ

      উত্তল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের কোনো পার্শ্বীয় পরিবর্তন ঘটে না

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) এটি সর্বদা সোজা ও খর্বিত প্রতিবিম্ব তৈরি করে বিস্তৃত দৃষ্টি ক্ষেত্র (wider field of view) প্রদান করে

    1. উত্তল দর্পণ সর্বদা লক্ষ্যবস্তুর সোজা, অবাস্তব এবং বস্তুর চেয়ে ছোট (খর্বিত) প্রতিবিম্ব দর্পণের পেছনে তৈরি করে।
    2. প্রতিবিম্ব ছোট হওয়ায় উত্তল দর্পণে সমতল দর্পণের চেয়ে অনেক বেশি এলাকা দেখা যায়, অর্থাৎ এর দৃষ্টি ক্ষেত্র অনেক বড় হয়। ফলে চালক বাঁকের উল্টো দিকের গাড়ি বা পেছনের বড় রাস্তা দেখতে পান।
  2. ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলমান একটি দূরপাল্লার বাসে ২ m বক্রতার ব্যাসার্ধবিশিষ্ট একটি উত্তল পার্শ্ব-দর্পণ (convex side mirror) রয়েছে। বাসটির পেছনে ৪ m দূরত্বে একটি মোটরসাইকেল থাকলে, দর্পণের পেছনে মোটরসাইকেলটির প্রতিবিম্ব কত মিটার দূরত্বে গঠিত হবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ০.৮ m

    1. উত্তল দর্পণের ফোকাস দূরত্ব f = −r/২ = −২/২ = −১ m এবং লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব u = ৪ m।
    f=−r2=−2 m2=−1 mf = -\frac{r}{2} = -\frac{2\text{ m}}{2} = -1\text{ m}
    1. গোলীয় দর্পণ সমীকরণ ১/f = ১/u + ১/v ব্যবহার করি: ১/(−১) = ১/৪ + ১/v ⇒ ১/v = −১ − ১/৪ = −৫/৪ m⁻¹।
    1v=−1−14=−54 m−1\frac{1}{v} = -1 - \frac{1}{4} = -\frac{5}{4}\text{ m}^{-1}
    1. অতএব প্রতিবিম্বের দূরত্ব v = −৪/৫ = −০.৮ m। ঋণাত্মক চিহ্ন নির্দেশ করে প্রতিবিম্বটি অবাস্তব এবং দর্পণের পেছনে ০.৮ m দূরত্বে গঠিত হয়েছে।
    v=−0.8 m  ⟹  ∣v∣=0.8 mv = -0.8\text{ m} \implies |v| = 0.8\text{ m}
  3. রাতের বেলা মহাসড়কে চলার সময় দূরপাল্লার বাসের হেডলাইটে অবতল প্রতিফলক (concave reflector) ব্যবহার করা হয় কেন? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    বাসের হেডলাইটের বাল্বটিকে অবতল প্রতিফলকের প্রধান ফোকাসে (principal focus) স্থাপন করা হয়। ফোকাস থেকে নির্গত অপসারী আলোকরশ্মি প্রতিফলকের অবতল পৃষ্ঠে প্রতিফলিত হওয়ার পর প্রধান অক্ষের সমান্তরাল শক্তিশালী রশ্মিগুচ্ছে পরিণত হয়। এই সমান্তরাল আলো চারদিকে ছড়িয়ে না পড়ে মহাসড়কের বহুদূর পর্যন্ত পথ উজ্জ্বলভাবে আলোকিত করে।

    1. অবতল দর্পণের জ্যামিতিক বৈশিষ্ট্য হলো প্রধান ফোকাস থেকে আপতিত আলোক রশ্মি প্রতিফলনের পর প্রধান অক্ষের সমান্তরালভাবে নির্গত হয়।
    2. হেডলাইটে বাতির ফিলামেন্ট ফোকাসে থাকায় প্রতিফলিত রশ্মিগুলো সমান্তরাল ও কেন্দ্রীভূত হয়ে দূরপাল্লার রাস্তায় শক্তিশালী আলো ফেলে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো