পড়ার নোট
কোনো বস্তুর একটি বিন্দু থেকে আসা আলোক রশ্মিগুলো প্রতিফলন বা প্রতিসরণের পর যে বিন্দুতে মিলিত হয়, অথবা যে বিন্দু থেকে আসছে বলে মনে হয়, সেটিই ঐ বিন্দুর প্রতিবিম্ব। বস্তুর প্রতিটি বিন্দুর প্রতিবিম্ব মিলে পুরো বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। প্রতিবিম্ব দুই রকম।
বাস্তব প্রতিবিম্ব: রশ্মিগুলো সত্যি সত্যি যে বিন্দুতে মিলিত হয়, সেখানে বাস্তব প্রতিবিম্ব হয়। সেখানে সত্যিকারের আলো কেন্দ্রীভূত হয় এবং সেখান থেকে আলো বের হয়, তাই একে পর্দায় ফেলা যায়। অবতল আয়নায় বস্তু ফোকাস দূরত্বের বাইরে থাকলে এমন প্রতিবিম্ব হয়, এবং তা উল্টো হয়।
অবাস্তব প্রতিবিম্ব: প্রতিফলিত রশ্মিগুলো সত্যি মিলিত হয় না, কিন্তু পেছনের দিকে বাড়ালে একটি বিন্দু থেকে আসছে বলে মনে হয়। সেখানে কোনো আলোর উৎস নেই, তাই একে পর্দায় ফেলা যায় না। সমতল আয়নায় এবং উত্তল আয়নায় সবসময় অবাস্তব প্রতিবিম্ব হয়। সমতল আয়নার প্রতিবিম্ব খুব বাস্তব মনে হলেও আসলে তা অবাস্তব।
| বিষয় | বাস্তব প্রতিবিম্ব | অবাস্তব প্রতিবিম্ব |
|---|---|---|
| রশ্মির মিলন | সত্যিই মিলিত হয় | মিলিত হচ্ছে বলে মনে হয় |
| পর্দায় ফেলা | যায় | যায় না |
| উদাহরণ | পিনহোল ক্যামেরা, অবতল আয়না (ফোকাসের বাইরে) | সমতল আয়না, উত্তল আয়না |
উদাহরণ (পিনহোল ক্যামেরা): অন্ধকার ঘরে একটি বোর্ডে খুব ছোট ফুটো করে তার সামনে জ্বলন্ত মোমবাতি রাখো, পেছনে সাদা কাগজ রাখো। কাগজে শিখার একটি উল্টো প্রতিবিম্ব দেখা যাবে। কাগজটি যত দূরে নেওয়া হয়, প্রতিবিম্বটি তত বড়ো হয়। এটি পর্দায় পড়েছে, তাই বাস্তব প্রতিবিম্ব।
সমতল আয়নায় নিজের চেহারা দেখা যায়, কিন্তু শুধু সমতল আয়না দিয়ে কখনো নিজের চেহারা পর্দায় ফেলা যায় না; এটিই অবাস্তব প্রতিবিম্বের পরীক্ষা।
সাধারণ ভুল হলো "অবাস্তব" মানে চোখে দেখা যায় না ভাবা। অবাস্তব প্রতিবিম্ব চোখে স্পষ্ট দেখা যায়; শুধু পর্দায় ধরা যায় না।
মনে রাখো: রশ্মি সত্যিই মিলিত হলে বাস্তব প্রতিবিম্ব, যা পর্দায় ফেলা যায়; মিলিত হচ্ছে বলে মনে হলে অবাস্তব প্রতিবিম্ব, যা পর্দায় পড়ে না।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।