পড়ার নোট
সমতল আয়নায় প্রতিবিম্ব
বস্তুর বিন্দু থেকে আসা রশ্মিগুলো আয়নায় প্রতিফলনের সূত্র মেনে প্রতিফলিত হয়। প্রতিফলিত রশ্মিগুলো আয়নার পেছনে বাড়ালে সবগুলো একটি বিন্দু এ মিলিত হচ্ছে বলে মনে হয়; হলো এর প্রতিবিম্ব। অবস্থান বের করতে দুটি রশ্মিই যথেষ্ট: একটি আয়নার ওপর লম্বভাবে পড়া রশ্মি , আর একটি যেকোনো রশ্মি । ত্রিভুজ ও সর্বসম, তাই ।
সমতল আয়নায় প্রতিবিম্ব: (ক) আয়না থেকে বস্তুর সমান দূরত্বে, (খ) অবাস্তব, (গ) সোজা এবং (ঘ) বস্তুর সমান দৈর্ঘ্যের। তবে ডান-বাম উল্টে যায়: বাম হাতের প্রতিবিম্ব ডান হাতের মতো দেখায়।
গোলীয় আয়নায় প্রতিবিম্ব আঁকার নিয়ম
তিনটি বিশেষ রশ্মি জানলেই প্রতিবিম্ব আঁকা যায়:
- বক্রতার কেন্দ্রমুখী বা কেন্দ্র থেকে আসা রশ্মি লম্বভাবে পড়ে একই পথে ফিরে যায়।
- প্রধান অক্ষের সমান্তরাল রশ্মি প্রতিফলনের পর অবতল আয়নায় ফোকাস দিয়ে যায়; উত্তল আয়নায় ফোকাস থেকে ছড়াচ্ছে বলে মনে হয়।
- ফোকাস দিয়ে আসা (বা ফোকাসমুখী) রশ্মি প্রতিফলনের পর প্রধান অক্ষের সমান্তরাল হয়ে যায়, কারণ আলো উল্টো পথে হুবহু একই পথ অনুসরণ করে।
বস্তুর মাথার বিন্দু থেকে যেকোনো দুটি বিশেষ রশ্মি এঁকে যেখানে তারা মেলে (বা মেলে বলে মনে হয়) সেখানে মাথার প্রতিবিম্ব; সেখান থেকে প্রধান অক্ষে লম্ব টানলে পুরো প্রতিবিম্ব পাওয়া যায়।
উদাহরণ: m লম্বা একজন মানুষ পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রতিবিম্ব দেখতে চাইলে সমতল আয়নার দৈর্ঘ্য অন্তত m হলেই চলবে। জ্যামিতি থেকে দেখা যায়, আয়নার দৈর্ঘ্য সবসময় মানুষটির উচ্চতার অর্ধেক হলেই যথেষ্ট, সে আয়না থেকে যত দূরেই দাঁড়াক।
সাধারণ ভুল হলো প্রতিবিম্ব আঁকতে শুধু একটি রশ্মি আঁকা। একটি রশ্মি শুধু দিক দেয়; প্রতিবিম্বের অবস্থান পেতে অন্তত দুটি রশ্মির ছেদবিন্দু লাগে।
মনে রাখো: সমতল আয়নায় প্রতিবিম্ব সমদূরত্বে, অবাস্তব, সোজা ও সমান; গোলীয় আয়নায় প্রতিবিম্ব আঁকতে কেন্দ্রমুখী, সমান্তরাল ও ফোকাসগামী রশ্মির যেকোনো দুটি ব্যবহার করো।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।