পড়ার নোট
আমরা দেখতে পাই আলোর কারণে। গাছপালা, চেয়ার-টেবিল বা মানুষ নিজেরা আলো নয়; এগুলো থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে চোখে পড়ে, চোখের রেটিনা থেকে সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং মস্তিষ্ক বুঝতে পারে কোনটি কী।
আলো বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। এটি পর্যাবৃত্ত তরঙ্গ, তাই এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে। বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কয়েক কিলোমিটার থেকে শুরু করে মিটারের অতি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ পর্যন্ত যেকোনো মান হতে পারে। এর মধ্যে মাত্র nm থেকে nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তরঙ্গ আমরা দেখতে পাই; একেই আলো বা দৃশ্যমান আলো বলি। তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট থেকে বড়ো হলে রং বেগুনি থেকে নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা হয়ে লাল হয়।
দৃশ্যমান আলোর চেয়ে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে আছে অতিবেগুনি, তারপর এক্স-রে ও গামা রে; বড়ো তরঙ্গদৈর্ঘ্যে আছে ইনফ্রারেড বা অবলোহিত, তারপর মাইক্রোওয়েভ ও রেডিও ওয়েভ। মানুষ এগুলো দেখতে পায় না, যদিও কিছু পোকামাকড় দৃশ্যমান সীমার বাইরেও দেখতে পায়।
সাধারণ তরঙ্গ, যেমন পুকুরের ঢেউ, চলতে মাধ্যম লাগে। কিন্তু আলো বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রের তরঙ্গ, তাই এর চলার জন্য মাধ্যমের দরকার নেই; সূর্যের আলো শূন্য মহাকাশ পেরিয়ে পৃথিবীতে আসে। এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে আলো গেলে তিনটি ঘটনা ঘটে: কিছু আলো ফিরে আসে (প্রতিফলন), কিছু দ্বিতীয় মাধ্যমে ঢোকে (প্রতিসরণ) এবং কিছু শোষিত হয় (শোষণ)।
উদাহরণ: সাদা আলোতে সব রঙের আলো থাকে। লাল গোলাপ লাল ছাড়া অন্য সব রং শোষণ করে, তাই প্রতিফলিত লাল আলো চোখে পড়ে বলে ফুলটি লাল দেখায়। শুধু সবুজ আলোতে সেই গোলাপে প্রতিফলিত করার মতো আলো থাকে না, তাই ফুলটি কালো দেখায়। টিভির রিমোটের ইনফ্রারেড আলো খালি চোখে দেখা না গেলেও মোবাইলের ক্যামেরায় দেখা যায়।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে বস্তু নিজের রং "তৈরি" করে। বস্তু কোন রং প্রতিফলিত করে আর কোনটি শোষণ করে, তার ওপরই রং নির্ভর করে।
মনে রাখো: আলো বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ, যার – nm অংশ আমরা দেখি; এর চলতে মাধ্যম লাগে না।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।