মাইটোসিস কী?
যে বিভাজনে একটি মাতৃকোষ ভাগ হয়ে সমান ক্রোমোজোমবিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ তৈরি করে, তাকে মাইটোসিস বলে। বিভাজনের আগে কোষ ইন্টারফেজে থাকে, তখন ডিএনএ-র প্রতিরূপ তৈরি হয়। তারপর নিউক্লিয়াস পাঁচটি পর্যায়ে ভাগ হয়: প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ। শেষে সাইটোকাইনেসিসে সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়ে দুটি আলাদা কোষ হয়।
মিয়োসিস কী?
যে বিভাজনে জনন মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস পরপর দুবার বিভাজিত হয়ে চারটি অপত্য কোষ তৈরি করে, আর প্রতিটির ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়, তাকে মিয়োসিস বলে। মানুষের দেহকোষে ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, কিন্তু শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে থাকে ২৩টি করে।
মিয়োসিস কেন দরকার
শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলে জাইগোট তৈরি হয়। গ্যামেটে ক্রোমোজোম অর্ধেক না হলে প্রতি প্রজন্মে সংখ্যাটি দ্বিগুণ হয়ে যেত। মিয়োসিস অর্ধেক করে বলেই ২৩ + ২৩ = ৪৬ হয়, আর প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে একই থাকে। মিয়োসিসের সময় জিনগত বিনিময়ের ফলে সন্তানেরা বাবা-মায়ের মতো হয়, কিন্তু হুবহু এক হয় না।
মিল কোথায়
- দুটিই কোষ বিভাজন; দুটিতেই একটি মাতৃকোষ থেকে অপত্য কোষ তৈরি হয়।
- দুটির আগেই ডিএনএ-র প্রতিরূপ তৈরি হয়।
- দুটিতেই প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজের মতো পর্যায় থাকে।
সাধারণ ভুল
- "মিয়োসিসে দুটি কোষ হয়" লেখা। মিয়োসিসে দুবার বিভাজন, তাই কোষ হয় চারটি।
- ভাবা যে মাইটোসিস কেবল প্রাণীতে হয়। উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগেও মাইটোসিসে বৃদ্ধি ঘটে।