ক্রোমোজোম
নিউক্লিয়াসের ভেতরে সুতার মতো যে গঠন ছড়িয়ে থাকে, তার নাম ক্রোমাটিন; কোষ বিভাজনের সময় এগুলো মোটা ও খাটো হয়ে ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা যায়। ক্রোমোজোম জিন বহন করে বাবা-মা থেকে সন্তানে পৌঁছে দেয়, তাই একে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলে। মানুষের দেহকোষে ২৩ জোড়া, অর্থাৎ ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
জিন
জিন জীবের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের একক। ক্রোমোজোমে জিনের নির্দিষ্ট অবস্থানকে লোকাস বলে। জিন কাজ করে এভাবে: ডিএনএ → আরএনএ → প্রোটিন → বৈশিষ্ট্য। একই জিনের ভিন্ন রূপকে অ্যালিল বলে; যেমন মটর গাছে লম্বার জিন T, আর বামনের জিন t।
সম্পর্কটা এক নজরে
নিউক্লিয়াসে থাকে ক্রোমোজোম, ক্রোমোজোমে থাকে ডিএনএ, আর ডিএনএ-র এক একটি অংশ হলো এক একটি জিন। একটি বইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে ক্রোমোজোম যেন একটি অধ্যায়, আর জিন সেই অধ্যায়ের একেকটি অনুচ্ছেদ।
সাধারণ ভুল
- জিন আর ক্রোমোজোমকে এক জিনিস ভাবা। জিন ক্রোমোজোমের অংশ; একটি ক্রোমোজোমে অনেক জিন থাকে।
- "একটি বৈশিষ্ট্য সবসময় একটি জিনই নিয়ন্ত্রণ করে" লেখা। কখনো কয়েকটি জিন মিলে একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, আবার একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।