পড়ার নোট
জিন ও বৈশিষ্ট্য প্রকাশ
জিন জীবের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের একক। এটি ক্রোমোজোমে অবস্থান করে; নির্দিষ্ট জিনের অবস্থানকে লোকাস বলে। বিভিন্ন জীবের জিনসংখ্যা এক নয়, তবে একই ধরনের জীবের জিনসংখ্যা মোটামুটি একই থাকে। ক্রোমোজোম বরাবর জিনগুলো নির্দিষ্ট বিন্যাসে সাজানো থাকে।
একটি বৈশিষ্ট্য একটি জিনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। আবার কয়েকটি জিনের মিলিত কাজেও একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, কিংবা একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। তাই প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সবসময় মাত্র একটি জিনের সম্পর্ক ধরে নেওয়া ভুল।
বৈশিষ্ট্য প্রকাশের ধারাটি হলো ডিএনএ → আরএনএ → প্রোটিন → বৈশিষ্ট্য। আরএনএ ডিএনএর সংকেত নিয়ে রাইবোসোমে গেলে সেই সংকেত অনুযায়ী প্রোটিন তৈরি হয়। সুকেন্দ্রিক কোষে এই প্রোটিন এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলজি বস্তু ও ভেসিকলের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে প্রয়োজনীয় স্থানে পৌঁছায়। আদিকেন্দ্রিক কোষে প্রোটিন সরাসরি গন্তব্যে যায়। প্রোটিন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রকৃতি ও গতি নির্ধারণ করে। এভাবে পরিবেশের সঙ্গে মিলিতভাবে জীবের গঠন থেকে আচরণ পর্যন্ত বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়।
অ্যালিল ও মেন্ডেলের পরীক্ষা
একই জিনের ভিন্ন রূপকে অ্যালিল বলে। মটরগাছের উচ্চতা নির্ধারণকারী অ্যালিল T লম্বা এবং t বামন বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। Tt গাছ লম্বা হয় বলে T প্রকট, আর তার উপস্থিতিতে প্রকাশ না পাওয়া t প্রচ্ছন্ন। শুধু tt হলে গাছ বামন হয়। T ও t অ্যালিলের প্রতীক; এদের কোনো এসআই একক নেই।
১৮৬৬ সালে গ্রেগর জোহান মেন্ডেল মটরগাছ নিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে বংশগতির নিয়ম প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয়। বিশুদ্ধ লম্বা TT ও বামন tt গাছের নিয়ন্ত্রিত সংকরায়ণে প্রথম প্রজন্মের সব গাছ Tt এবং লম্বা হয়। এই গাছের স্বপরাগায়ণে পরবর্তী প্রজন্মে লম্বা ও বামনের অনুপাত হয় । অনুপাতটি এককবিহীন।
অনুশীলনে এই অনুপাত অনুযায়ী ৮০টি গাছের প্রত্যাশিত সংখ্যা বের করো। প্রথমে চার ভাগের তিন ভাগ নাও: টি লম্বা। এরপর এক ভাগ নাও: টি বামন। এগুলো প্রত্যাশিত সংখ্যা; প্রতিটি ছোট দলে ঠিক এই ফল হতেই হবে না।
বাংলাদেশে উন্নত জাতের ফসল তৈরিতে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদের নিয়ন্ত্রিত প্রজনন ও নির্বাচন এই ধারণার ব্যবহার। সাধারণ ভুল হলো প্রথম প্রজন্মে বামন গাছ নেই বলে t হারিয়ে গেছে ভাবা; সেটি Tt গাছে উপস্থিত থাকে।
মনে রাখো: জিন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, আর প্রচ্ছন্ন অ্যালিল প্রকাশ না পেলেও পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হতে পারে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।