offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১২ · টপিক ৬

জিন

পড়ার নোট

জিন ও বৈশিষ্ট্য প্রকাশ

জিন জীবের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের একক। এটি ক্রোমোজোমে অবস্থান করে; নির্দিষ্ট জিনের অবস্থানকে লোকাস বলে। বিভিন্ন জীবের জিনসংখ্যা এক নয়, তবে একই ধরনের জীবের জিনসংখ্যা মোটামুটি একই থাকে। ক্রোমোজোম বরাবর জিনগুলো নির্দিষ্ট বিন্যাসে সাজানো থাকে।

একটি বৈশিষ্ট্য একটি জিনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। আবার কয়েকটি জিনের মিলিত কাজেও একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, কিংবা একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। তাই প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সবসময় মাত্র একটি জিনের সম্পর্ক ধরে নেওয়া ভুল।

বৈশিষ্ট্য প্রকাশের ধারাটি হলো ডিএনএ → আরএনএ → প্রোটিন → বৈশিষ্ট্য। আরএনএ ডিএনএর সংকেত নিয়ে রাইবোসোমে গেলে সেই সংকেত অনুযায়ী প্রোটিন তৈরি হয়। সুকেন্দ্রিক কোষে এই প্রোটিন এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলজি বস্তু ও ভেসিকলের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে প্রয়োজনীয় স্থানে পৌঁছায়। আদিকেন্দ্রিক কোষে প্রোটিন সরাসরি গন্তব্যে যায়। প্রোটিন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রকৃতি ও গতি নির্ধারণ করে। এভাবে পরিবেশের সঙ্গে মিলিতভাবে জীবের গঠন থেকে আচরণ পর্যন্ত বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়।

অ্যালিল ও মেন্ডেলের পরীক্ষা

একই জিনের ভিন্ন রূপকে অ্যালিল বলে। মটরগাছের উচ্চতা নির্ধারণকারী অ্যালিল T লম্বা এবং t বামন বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। Tt গাছ লম্বা হয় বলে T প্রকট, আর তার উপস্থিতিতে প্রকাশ না পাওয়া t প্রচ্ছন্ন। শুধু tt হলে গাছ বামন হয়। T ও t অ্যালিলের প্রতীক; এদের কোনো এসআই একক নেই।

১৮৬৬ সালে গ্রেগর জোহান মেন্ডেল মটরগাছ নিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে বংশগতির নিয়ম প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয়। বিশুদ্ধ লম্বা TT ও বামন tt গাছের নিয়ন্ত্রিত সংকরায়ণে প্রথম প্রজন্মের সব গাছ Tt এবং লম্বা হয়। এই গাছের স্বপরাগায়ণে পরবর্তী প্রজন্মে লম্বা ও বামনের অনুপাত হয় 3:13:1। অনুপাতটি এককবিহীন।

অনুশীলনে এই অনুপাত অনুযায়ী ৮০টি গাছের প্রত্যাশিত সংখ্যা বের করো। প্রথমে চার ভাগের তিন ভাগ নাও: 80×34=6080\times\frac{3}{4}=60টি লম্বা। এরপর এক ভাগ নাও: 80×14=2080\times\frac{1}{4}=20টি বামন। এগুলো প্রত্যাশিত সংখ্যা; প্রতিটি ছোট দলে ঠিক এই ফল হতেই হবে না।

বাংলাদেশে উন্নত জাতের ফসল তৈরিতে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদের নিয়ন্ত্রিত প্রজনন ও নির্বাচন এই ধারণার ব্যবহার। সাধারণ ভুল হলো প্রথম প্রজন্মে বামন গাছ নেই বলে t হারিয়ে গেছে ভাবা; সেটি Tt গাছে উপস্থিত থাকে।

মনে রাখো: জিন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, আর প্রচ্ছন্ন অ্যালিল প্রকাশ না পেলেও পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হতে পারে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • মেন্ডেলের মনোহাইব্রিড ক্রস: লম্বা ও খাটো মটরশুঁটিচালিয়ে দেখো

    একটি বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের গবেষণা বাগানে দুটি সংকর লম্বা মটরশুঁটি উদ্ভিদের (Aa) মধ্যে পরপরাগায়ন (Aa × Aa) ঘটিয়ে বীজ সংগ্রহ করা হলো। মটরশুঁটি গাছে লম্বা বৈশিষ্ট্যের অ্যালিল (A) খাটো বৈশিষ্ট্যের (a) ওপর প্রকট। ক্লাসের অর্পিতা বলল, 'উভয় গাছই লম্বা, তাই তাদের অপত্যের সব চারা গাছই লম্বা হবে।' শান্ত বলল, 'না, সংকর জনকের কারণে অর্ধেক গাছ লম্বা ও অর্ধেক খাটো (১:১) হবে।' অল্প কয়েকটি চারা (যেমন ১০টি) পর্যবেক্ষণ করলে দৈবচয়নের প্রভাবে অনুপাত এলোমেলো হতে পারে। বহুসংখ্যক অপত্য উদ্ভিদের ক্ষেত্রে লম্বা ও খাটো উদ্ভিদের ফিনোটাইপিক অনুপাত কেমন হবে?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. রাজশাহীর একটি কৃষি গবেষণা খামারে মেন্ডেলের মনোহাইব্রিড ক্রসের নিয়মানুসারে দুটি বিষমসংকর লম্বা (TtTt) মটরশুঁটি উদ্ভিদের মধ্যে পরাগায়ন ঘটিয়ে F2F_2 জনুতে মোট ৪০০টি চারা গাছ পাওয়া গেল। মেন্ডেলের ফিনোটাইপিক অনুপাত (৩:১৩:১) অনুসারে এদের মধ্যে সম্ভাব্য কতটি খাটো (tttt) উদ্ভিদ পাওয়া যাবে?

    1. ক

      ১০০টি

    2. খ

      ২০০টি

    3. গ

      ৩০০টি

    4. ঘ

      ১৩৩টি

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ১০০টি

    1. দুটি বিষমসংকর উদ্ভিদের সংকরায়নে (Tt×TtTt \times Tt) F2F_2 জনুর জিনোটাইপ অনুপাত হয় 1 TT:2 Tt:1 tt1\ TT : 2\ Tt : 1\ tt এবং ফিনোটাইপিক অনুপাত হয় ৩টি লম্বা : ১টি খাটো।
    Tt×Tt→1 TT:2 Tt:1 ttTt \times Tt \rightarrow 1\ TT : 2\ Tt : 1\ tt
    1. মোট ৪ ভাগের ১ ভাগ (২৫%) উদ্ভিদ প্রচ্ছন্ন হোমোজাইগাস খাটো (tttt) বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়।
    2. অতএব, ৪০০টি উদ্ভিদের মধ্যে সম্ভাব্য খাটো উদ্ভিদের সংখ্যা = ৪০০×১৪=১০০৪০০ \times \frac{১}{৪} = ১০০টি।
    Ndwarf=400×14=100N_{\text{dwarf}} = 400 \times \frac{1}{4} = 100
  2. ময়মনসিংহে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BFRI) গবেষকগণ রুই মাছের (Labeo rohita) বৃদ্ধির সাথে যুক্ত একটি নির্দিষ্ট জিনের দ্বিসূত্রক ডিএনএ (DNA) খণ্ড পৃথক করলেন। ওয়াটসন ও ক্রিক মডেল অনুসারে ডিএনএ ডাবল হেলিক্সের প্রতি সম্পূর্ণ প্যাঁচে (turn) ১০ জোড়া ক্ষারক (base pairs) থাকে এবং একটি সম্পূর্ণ প্যাঁচের দৈর্ঘ্য ৩.৪ nm (অর্থাৎ দুটি পাশাপাশি ক্ষারক জোড়ের দূরত্ব ০.৩৪ nm)। ওই জিন খণ্ডটিতে মোট ১,৫০০টি ক্ষারক জোড় থাকলে ডিএনএ খণ্ডটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য কত nm?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৫১০ nm

    1. ডিএনএ ডাবল হেলিক্সের প্রতি সম্পূর্ণ প্যাঁচে ১০টি ক্ষারক জোড় (base pair) থাকে। অতএব ১,৫০০টি ক্ষারক জোড়ে মোট সম্পূর্ণ প্যাঁচের সংখ্যা = ১,৫০০ ÷ ১০ = ১৫০টি।
    Nturns=150010=150N_{\text{turns}} = \frac{1500}{10} = 150
    1. একটি পূর্ণ প্যাঁচের দৈর্ঘ্য ৩.৪ nm হওয়ায় ডিএনএ খণ্ডটির দৈর্ঘ্য = ১৫০ × ৩.৪ nm = ৫১০ nm (অথবা পাশাপাশি দুটি ক্ষারক জোড়ের দূরত্ব ০.৩৪ nm দিয়ে গুণ করলে: ১,৫০০ × ০.৩৪ nm = ৫১০ nm)।
    L=150×3.4 nm=510 nmL = 150 \times 3.4\text{ nm} = 510\text{ nm}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো