পড়ার নোট
আরএনএ বা রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড একটি নিউক্লিক অ্যাসিড। এটি সাধারণত একটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্রক দিয়ে গঠিত। অর্থাৎ অনেক নিউক্লিওটাইড পরপর যুক্ত হয়ে এর সূত্রক তৈরি করে। ডিএনএ সাধারণত দ্বি-সূত্রক হলেও আরএনএ সাধারণত এক সূত্রকবিশিষ্ট। এই পার্থক্যটি আরএনএর গঠন মনে রাখতে সাহায্য করে।
আরএনএর উপাদান তিন ধরনের: পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত বেস। বেসগুলো হলো অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল। এদের প্রতীক যথাক্রমে A, G, C ও U। শর্করা, ফসফেট ও একটি বেস মিলে একটি নিউক্লিওটাইড তৈরি হয়। তাই আরএনএর সূত্রক শুধু বেস দিয়ে তৈরি নয়; শর্করা ও ফসফেটও এর গঠনের অংশ।
ডিএনএ ও আরএনএর উপাদান তুলনা করলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য পাওয়া যায়। ডিএনএতে ডি-অক্সিরাইবোজ থাকে, আর আরএনএতে রাইবোজ থাকে। আবার ডিএনএতে থাইমিন থাকলেও আরএনএতে তার পরিবর্তে ইউরাসিল থাকে। তবে উভয়ের মধ্যেই অ্যাডেনিন, গুয়ানিন ও সাইটোসিন পাওয়া যায়।
আরএনএ ডিএনএর সংকেত অনুযায়ী প্রোটিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ডিএনএ থেকে প্রয়োজনীয় সংকেত নিয়ে আরএনএ সাইটোপ্লাজমের রাইবোসোমে যায়। সেখানে সেই সংকেত অনুযায়ী প্রোটিন তৈরি হয়। প্রোটিন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রকৃতি ও গতি নির্ধারণের মাধ্যমে জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সাহায্য করে। ফলে তথ্য থাকা এবং সেই তথ্য কাজে লাগানোর মধ্যে আরএনএ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করে।
দৈনন্দিন উদাহরণ হিসেবে বাড়িতে লিখিত নির্দেশ দেখে কোনো কাজ করার কথা ভাবো। নির্দেশ থাকা এবং নির্দেশ অনুযায়ী কাজ হওয়া এক বিষয় নয়। এই তুলনা ডিএনএর তথ্য প্রোটিন তৈরিতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরএনএর ভূমিকা বুঝতে সাহায্য করে।
কিছু ভাইরাসে ডিএনএ অনুপস্থিত। যেমন তামাকের মোজেইক ভাইরাসে আরএনএ বংশগতির বস্তু হিসেবে কাজ করে। তাই আরএনএ শুধু প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে—এমন ধারণাও অসম্পূর্ণ।
একটি সাধারণ ভুল হলো ডিএনএর মতো আরএনএতেও থাইমিন লেখা। আরএনএর বেসের তালিকায় থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল লিখতে হবে।
মনে রাখো: আরএনএ সাধারণত এক সূত্রকবিশিষ্ট, এতে রাইবোজ ও ইউরাসিল থাকে এবং কিছু ভাইরাসে এটিই বংশগতির বস্তু।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।