offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · জীবের বংশগতি ও জৈব অভিব্যক্তি

ডিএনএ ও আরএনএ-এর পার্থক্য (DNA ও RNA)

সর্বশেষ হালনাগাদ ২১ অক্টোবর ২০২৬

সংক্ষেপে

ডিএনএ সাধারণত দুই সূত্রকের দ্বি-সর্পিল অণু; এতে ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা আর থাইমিন বেস থাকে, আর এটিই বংশগতির মূল বাহক। আরএনএ সাধারণত এক সূত্রকের; এতে রাইবোজ শর্করা আর থাইমিনের জায়গায় ইউরাসিল থাকে। মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA) ডিএনএ-র সংকেত রাইবোসোমে নিয়ে যায়, আর সেই সংকেত অনুযায়ী প্রোটিন তৈরি হয়।

ডিএনএ (DNA) ও আরএনএ (RNA): পার্থক্যের ছক
তুলনার বিষয়ডিএনএ (DNA)আরএনএ (RNA)
পূর্ণরূপ

ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড

রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড

সূত্রকের সংখ্যা

সাধারণত দুটি সূত্রক, পেঁচানো মইয়ের মতো দ্বি-সর্পিল

সাধারণত একটি সূত্রক

শর্করা

ডিঅক্সিরাইবোজ (পাঁচ কার্বনের)

রাইবোজ (পাঁচ কার্বনের)

নাইট্রোজেনঘটিত বেস

অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থাইমিন (A, G, C, T)

অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল (A, G, C, U)

বেস জোড়

দুই সূত্রকের বেস জোড়া বাঁধে: A–T ও G–C

এক সূত্রকবিশিষ্ট, তাই সাধারণত বেস জোড় থাকে না

কোথায় থাকে

প্রধানত নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোমে

নিউক্লিয়াসে তৈরি হয়ে সাইটোপ্লাজমে, রাইবোসোমে কাজ করে

প্রধান কাজ

বংশগতির বৈশিষ্ট্যের সংকেত ধারণ করে এবং নিজের প্রতিরূপ তৈরি করে

ডিএনএ-র সংকেত অনুযায়ী প্রোটিন তৈরিতে অংশ নেয়

বংশগতির বস্তু

প্রায় সব জীবে

কেবল কিছু ভাইরাসে, যেমন তামাকের মোজাইক ভাইরাসে

ডিএনএ কী?

ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান এবং বংশগতির রাসায়নিক বাহক। ১৯৫৩ সালে ওয়াটসন ও ক্রিক এর দ্বি-সর্পিল গঠন বর্ণনা করেন। মইয়ের দুই পাশ শর্করা ও ফসফেট দিয়ে তৈরি, আর ধাপগুলো নাইট্রোজেনঘটিত বেসের জোড়া: অ্যাডেনিন বাঁধে থাইমিনের সঙ্গে, গুয়ানিন বাঁধে সাইটোসিনের সঙ্গে।

আরএনএ কী?

আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) সাধারণত একটি মাত্র সূত্রক দিয়ে গঠিত। এতে রাইবোজ শর্করা, ফসফেট আর চারটি বেস থাকে, যার একটি ইউরাসিল: ডিএনএ-র থাইমিনের জায়গায় আরএনএ-তে ইউরাসিল বসে। মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA) ডিএনএ থেকে সংকেত নিয়ে সাইটোপ্লাজমের রাইবোসোমে যায়, আর সেখানে সেই সংকেত অনুযায়ী প্রোটিন তৈরি হয়।

মিল কোথায়

  • দুটিই নিউক্লিক অ্যাসিড, আর দুটিই নিউক্লিওটাইড দিয়ে তৈরি: শর্করা, ফসফেট আর একটি নাইট্রোজেনঘটিত বেস মিলে একটি নিউক্লিওটাইড।
  • দুটিতেই অ্যাডেনিন, গুয়ানিন ও সাইটোসিন থাকে।
  • দুটিই জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে, অর্থাৎ প্রোটিন তৈরিতে যুক্ত।

মনে রাখার সহজ উপায়

  • ডি মানে ডিঅক্সি: ডিএনএ-র শর্করা ডিঅক্সিরাইবোজ, যাতে রাইবোজের চেয়ে একটি অক্সিজেন কম।
  • T-এর জায়গায় U: ডিএনএ-তে থাইমিন (T) থাকে, আর আরএনএ-তে তার পরিবর্তে ইউরাসিল (U) থাকে; বাকি তিনটি বেস একই।
  • দুই আর এক: ডিএনএ দুই সূত্রকের, আরএনএ এক সূত্রকের।

সাধারণ ভুল

  • আরএনএ-তে থাইমিন লেখা। আরএনএ-তে থাকে ইউরাসিল, থাইমিন নয়।
  • শর্করার নাম উল্টে ফেলা: ডিএনএ-তে ডিঅক্সিরাইবোজ, আরএনএ-তে রাইবোজ।
  • ভাবা যে আরএনএ কখনো বংশগতির বস্তু নয়। কিছু ভাইরাসে, যেমন তামাকের মোজাইক ভাইরাসে, ডিএনএ নেই; সেখানে আরএনএ-ই বংশগতির বস্তু।

পরীক্ষায় যেভাবে লিখবে

"ডিএনএ ও আরএনএ-এর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো" প্রায়ই সৃজনশীল প্রশ্নের খ অংশে (অনুধাবন) বা আলাদা প্রশ্ন হিসেবে আসে। উত্তর পাশাপাশি দুই কলামে লেখো, প্রতিটি সারিতে একই বিষয়ের তুলনা, যাতে পরীক্ষক এক নজরে মিলিয়ে নিতে পারেন:

ডিএনএআরএনএ
১. সাধারণত দুই সূত্রক বিশিষ্ট।১. সাধারণত এক সূত্রক বিশিষ্ট।
২. ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা থাকে।২. রাইবোজ শর্করা থাকে।
৩. থাইমিন বেস থাকে।৩. থাইমিনের জায়গায় ইউরাসিল থাকে।

সবচেয়ে নিরাপদ তিনটি পার্থক্য হলো সূত্রকের সংখ্যা, শর্করা আর থাইমিন বনাম ইউরাসিল। যত পার্থক্য চাওয়া হয়েছে, ঠিক ততটি লেখো; একটি সারিতে দুটি বিষয় মিশিয়ে ফেলো না।

নিজে চালিয়ে দেখো

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. ওয়াটসন ও ক্রিকের ডিএনএ (DNA) ডাবল হেলিক্স মডেল অনুসারে গুয়ানিন (G) কয়টি হাইড্রোজেন বন্ধন দিয়ে সাইটোসিন (C)-এর সাথে যুক্ত থাকে?

    1. ক

      ১টি

    2. খ

      ২টি

    3. গ

      ৩টি

    4. ঘ

      ৪টি

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) ৩টি

    1. ওয়াটসন ও ক্রিকের ডাবল হেলিক্স মডেল অনুসারে ডিএনএ অণুর পিউরিন ক্ষারকগুলো সর্বদা পিরিমিডিন ক্ষারকের সাথে হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা পরিপূরক জোড় তৈরি করে।
    2. অ্যাডেনিন (A) থাইমিনের (T) সাথে ২টি হাইড্রোজেন বন্ধন (A=TA=T) এবং গুয়ানিন (G) সাইটোসিনের (C) সাথে ৩টি হাইড্রোজেন বন্ধন (G≡CG\equiv C) দ্বারা যুক্ত থাকে।
    G≡CG \equiv C
  2. উক্ত ডিএনএ খণ্ডাংশে অ্যাডেনিন (A) ক্ষারকের সংখ্যা কত?

    1. ক

      ২০

    2. খ

      ৬০

    3. গ

      ৮০

    4. ঘ

      ৪০

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) ৪০

    1. ওয়াটসন ও ক্রিক মডেল অনুসারে প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচের দৈর্ঘ্য ৩.৪ nm এবং এতে ১০ জোড়া ক্ষারক থাকে; সুতরাং ৩৪ nm দৈর্ঘ্যে মোট ক্ষারক জোড় ১০০টি এবং মোট ক্ষারক ২০০টি।
    Total bases=34 nm3.4 nm×10×2=200\text{Total bases} = \frac{34\text{ nm}}{3.4\text{ nm}} \times 10 \times 2 = 200
    1. ক্ষারক জোড় নীতি অনুসারে সাইটোসিন ও গুয়ানিনের সংখ্যা সমান (G=C=৬০G = C = ৬০); অর্থাৎ মোট G+C=৬০+৬০=১২০G + C = ৬০ + ৬০ = ১২০।
    G+C=60+60=120G + C = 60 + 60 = 120
    1. অবশিষ্ট ক্ষারক অ্যাডেনিন ও থাইমিন (A+T=২০০−১২০=৮০A + T = ২০০ - ১২০ = ৮০); যেহেতু A=TA = T, তাই অ্যাডেনিনের সংখ্যা 802=৪০\frac{80}{2} = ৪০।
    A=200−1202=40A = \frac{200 - 120}{2} = 40
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি গবেষণাগারে পদ্মার ইলিশ মাছের (Tenualosa ilisha) একটি দ্বিসূত্রক ডিএনএ (DNA) খণ্ড বিশ্লেষণ করা হলো। বিশ্লেষণে দেখা গেল ডিএনএ খণ্ডটির মোট নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারকের ২৮% হলো সাইটোসিন (Cytosine, C)। ওয়াটসন ও ক্রিকের পরিপূরক ক্ষারক জোড় (complementary base pairing) নীতি অনুসারে ওই ডিএনএ খণ্ডে অ্যাডেনিন (Adenine, A)-এর শতকরা পরিমাণ কত (%)?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ২২ %

    1. দ্বিসূত্রক ডিএনএ অণুতে ক্ষারক জোড় গঠনের নিয়ম অনুযায়ী গুয়ানিনের (G) পরিমাণ সাইটোসিনের (C) পরিমাণের সমান এবং অ্যাডেনিনের (A) পরিমাণ থাইমিনের (T) পরিমাণের সমান।
    G=C,A=TG = C, \quad A = T
    1. যেহেতু সাইটোসিন C=২৮%C = ২৮\%, সুতরাং গুয়ানিন G=২৮%G = ২৮\%। অতএব (G+C)=২৮%+২৮%=৫৬%(G + C) = ২৮\% + ২৮\% = ৫৬\%।
    G+C=28%+28%=56%G + C = 28\% + 28\% = 56\%
    1. মোট ক্ষারকের ১০০% থেকে অবশিষ্ট থাকে অ্যাডেনিন ও থাইমিন: (A+T)=১০০%−৫৬%=৪৪%(A + T) = ১০০\% - ৫৬\% = ৪৪\%। যেহেতু A=TA = T, সুতরাং অ্যাডেনিনের পরিমাণ A=৪৪%২=২২%A = \frac{৪৪\%}{২} = ২২\%।
    A=100%−(G+C)2=44%2=22%A = \frac{100\% - (G+C)}{2} = \frac{44\%}{2} = 22\%

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ডিএনএ ও আরএনএ-এর প্রধান পার্থক্য কী?

ডিএনএ সাধারণত দুই সূত্রকের এবং এতে ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা ও থাইমিন থাকে; আরএনএ সাধারণত এক সূত্রকের এবং এতে রাইবোজ শর্করা ও থাইমিনের জায়গায় ইউরাসিল থাকে।

আরএনএ-তে থাইমিনের জায়গায় কোন বেস থাকে?

ইউরাসিল (U)। বাকি তিনটি বেস, অ্যাডেনিন, গুয়ানিন ও সাইটোসিন, ডিএনএ ও আরএনএ দুটিতেই থাকে।

কোন জীবে আরএনএ বংশগতির বস্তু?

কিছু ভাইরাসে, যেমন তামাকের মোজেইক ভাইরাসে। এসব ভাইরাসে ডিএনএ থাকে না, তাই আরএনএ-ই বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো