ডিএনএ কী?
ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান এবং বংশগতির রাসায়নিক বাহক। ১৯৫৩ সালে ওয়াটসন ও ক্রিক এর দ্বি-সর্পিল গঠন বর্ণনা করেন। মইয়ের দুই পাশ শর্করা ও ফসফেট দিয়ে তৈরি, আর ধাপগুলো নাইট্রোজেনঘটিত বেসের জোড়া: অ্যাডেনিন বাঁধে থাইমিনের সঙ্গে, গুয়ানিন বাঁধে সাইটোসিনের সঙ্গে।
আরএনএ কী?
আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) সাধারণত একটি মাত্র সূত্রক দিয়ে গঠিত। এতে রাইবোজ শর্করা, ফসফেট আর চারটি বেস থাকে, যার একটি ইউরাসিল: ডিএনএ-র থাইমিনের জায়গায় আরএনএ-তে ইউরাসিল বসে। মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA) ডিএনএ থেকে সংকেত নিয়ে সাইটোপ্লাজমের রাইবোসোমে যায়, আর সেখানে সেই সংকেত অনুযায়ী প্রোটিন তৈরি হয়।
মিল কোথায়
- দুটিই নিউক্লিক অ্যাসিড, আর দুটিই নিউক্লিওটাইড দিয়ে তৈরি: শর্করা, ফসফেট আর একটি নাইট্রোজেনঘটিত বেস মিলে একটি নিউক্লিওটাইড।
- দুটিতেই অ্যাডেনিন, গুয়ানিন ও সাইটোসিন থাকে।
- দুটিই জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে, অর্থাৎ প্রোটিন তৈরিতে যুক্ত।
মনে রাখার সহজ উপায়
- ডি মানে ডিঅক্সি: ডিএনএ-র শর্করা ডিঅক্সিরাইবোজ, যাতে রাইবোজের চেয়ে একটি অক্সিজেন কম।
- T-এর জায়গায় U: ডিএনএ-তে থাইমিন (T) থাকে, আর আরএনএ-তে তার পরিবর্তে ইউরাসিল (U) থাকে; বাকি তিনটি বেস একই।
- দুই আর এক: ডিএনএ দুই সূত্রকের, আরএনএ এক সূত্রকের।
সাধারণ ভুল
- আরএনএ-তে থাইমিন লেখা। আরএনএ-তে থাকে ইউরাসিল, থাইমিন নয়।
- শর্করার নাম উল্টে ফেলা: ডিএনএ-তে ডিঅক্সিরাইবোজ, আরএনএ-তে রাইবোজ।
- ভাবা যে আরএনএ কখনো বংশগতির বস্তু নয়। কিছু ভাইরাসে, যেমন তামাকের মোজাইক ভাইরাসে, ডিএনএ নেই; সেখানে আরএনএ-ই বংশগতির বস্তু।