পড়ার নোট
ডিএনএ বা ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান এবং বংশগতির রাসায়নিক বাহক। এটি বংশগতির তথ্য ধারণ করে। ১৯৫৩ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী ওয়াটসন ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ক্রিক ডিএনএর দ্বি-সর্পিল গঠন বর্ণনা করেন। এই অবদানের জন্য তাঁরা নোবেল পুরস্কার পান।
ডিএনএর গঠনগত একক নিউক্লিওটাইড। প্রতিটি নিউক্লিওটাইডে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট ও একটি নাইট্রোজেনঘটিত বেস থাকে। অনেক নিউক্লিওটাইড যুক্ত হয়ে একটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্রক গঠন করে। সাধারণত এমন দুটি সূত্রক পরস্পরকে পেঁচিয়ে ডিএনএর দ্বি-সর্পিল গঠন তৈরি করে। সূত্রক দুটি বিপরীতমুখী বা অ্যান্টিপ্যারালাল।
পেঁচানো মই কল্পনা করলে গঠনটি সহজ হয়। মইয়ের দুই পাশের মতো বাইরের অংশে পর্যায়ক্রমে শর্করা ও ফসফেট থাকে। ভেতরের ধাপগুলো তৈরি করে দুই সূত্রকের বেসের জোড়া। বেসগুলো মূল অক্ষের সঙ্গে আড়াআড়িভাবে সাজানো থাকে।
বেস চারটি হলো অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থাইমিন; এদের প্রতীক যথাক্রমে A, G, C ও T। অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন পিউরিন, আর সাইটোসিন ও থাইমিন পাইরিমিডিন। অ্যাডেনিন থাইমিনের সঙ্গে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনে এবং গুয়ানিন সাইটোসিনের সঙ্গে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনে যুক্ত হয়। ফলে প্রতিটি জোড়ায় একটি পিউরিন ও একটি পাইরিমিডিন থাকে।
দুটি সূত্রক পরিপূরক, অর্থাৎ একটির বেস অন্যটির বেস নির্ধারণ করে। একটি সূত্রকের অংশে A–C–G থাকলে বিপরীত অংশে থাকবে T–G–C। সাধারণ ভুল হলো পরিপূরককে হুবহু একই ভাবা; বিপরীত অংশে A–C–G বসানো ভুল।
এক পূর্ণ পেঁচে ১০ জোড়া বেস থাকে, অর্থাৎ প্রতি সূত্রকে ১০টি নিউক্লিওটাইড। পেঁচের দৈর্ঘ্য ৩৪ অ্যাংস্ট্রম, পাশাপাশি বেসজোড়ার দূরত্ব ৩.৪ অ্যাংস্ট্রম এবং ব্যাস ২০ অ্যাংস্ট্রম। ; Å অ্যাংস্ট্রম, m মিটার, যা দৈর্ঘ্যের এসআই একক।
অনুশীলনে ৩টি পূর্ণ পেঁচের দৈর্ঘ্য বের করো। প্রথমে একটি পেঁচের দৈর্ঘ্য নাও, তারপর গুণ করো: । এখানে দৈর্ঘ্য, এসআই একক m। শ্রেণিকক্ষে রঙিন কাগজ ও স্ট্র দিয়ে পেঁচানো মই বানিয়ে এই বিন্যাস বোঝা যায়। প্রোক্যারিওটিক কোষে ডিএনএ সাধারণত বৃত্তাকার।
মনে রাখো: ডিএনএর দুটি বিপরীতমুখী সূত্রক পরিপূরক; অ্যাডেনিন–থাইমিন ও গুয়ানিন–সাইটোসিন জোড়া গঠন করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।