পড়ার নোট
ক্রোমোজোম বংশগতির প্রধান বাহক। নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে সুতার মতো ছড়িয়ে থাকা বস্তু হলো ক্রোমাটিন। কোষ বিভাজনের সময় এই বস্তু ঘনীভূত হয়ে পৃথক ক্রোমোজোম হিসেবে স্পষ্ট দেখা যায়। তাই ক্রোমাটিন ও ক্রোমোজোমকে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন দুটি বস্তু ভাবা ঠিক নয়। ১৮৭৫ সালে বিজ্ঞানী স্ট্রাসবার্গার ক্রোমোজোম প্রথম আবিষ্কার করেন।
ক্রোমোজোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান ডিএনএ। ক্রোমোজোমে জিন অবস্থান করে এবং জিন জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। ক্রোমোজোমের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এসব জিন মাতা-পিতা থেকে সন্তান-সন্ততিতে বহন করা। মানুষের চোখের রং, চুলের ধরন এবং ত্বকের বৈশিষ্ট্যের বংশগত ধারাবাহিকতার পেছনে এই ভূমিকা রয়েছে।
ডিপ্লয়েড কোষে ক্রোমোজোমের দুটি সেট থাকে। একটি সেট পিতার কাছ থেকে এবং অন্যটি মাতার কাছ থেকে আসে। বিভিন্ন প্রজাতিতে ডিপ্লয়েড ক্রোমোজোমসংখ্যা ভিন্ন; আলোচিত পরিসর ২ থেকে ১৬০০। এই পরিসর সব জীবের একটি কোষে একই সংখ্যা বোঝায় না। মানুষের সাধারণ দেহকোষে ৪৬টি, অর্থাৎ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এখানে ২৩ জোড়া মানে ২৩টি ক্রোমোজোম নয়।
ক্রোমোজোমের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩.৫ থেকে ৩০ মাইক্রন এবং প্রস্থ প্রায় ০.২ থেকে ২ মাইক্রন। মাইক্রন বা মাইক্রোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি ক্ষুদ্র একক: । এখানে μm মাইক্রোমিটার এবং m মিটার; দৈর্ঘ্যের এসআই একক মিটার।
একটি অনুশীলনে ক্রোমোজোমের দৈর্ঘ্য ৮ মাইক্রোমিটার ধরা যাক। প্রথমে প্রতি মাইক্রোমিটারের জন্য মিটারে রূপান্তর গুণক নাও। তারপর হিসাব করো: । এখানে দৈর্ঘ্য, যার এসআই একক m। এটি একক রূপান্তরের উদাহরণ, সব ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য নয়।
বাড়িতে কোনো শিশুর চুল তার বাবার মতো দেখলে ক্রোমোজোমের কাজটি ভাবতে পারো: চুল স্থানান্তরিত হয়নি, বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিন বহন হয়েছে। জিন বহনের এই দৃশ্যমান কোষীয় ভিত্তির জন্য ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়।
একটি সাধারণ ভুল হলো, ক্রোমোজোম নিজেই চোখ বা চুল তৈরি করে ভাবা। এটি জিন বহন করে; জিনের কার্যক্রমের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
মনে রাখো: বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিন বহন করে বলেই ক্রোমোজোম বংশগতির ভৌত ভিত্তি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।