কোষ বিভাজন: পেঁয়াজের মূলের মাইটোসিস বনাম মিয়োসিস
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
নবম শ্রেণির জীববিজ্ঞান ক্লাসে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পেঁয়াজের (Allium cepa) মূলের অগ্রভাগের ভাজক টিস্যু পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল এর প্রতিটি দেহকোষে ১৬টি ক্রোমোজোম (2n = ১৬) রয়েছে এবং মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে মূল দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষক জানালেন, উদ্ভিদের জনন মাতৃকোষেও ক্রোমোজোম সংখ্যা ১৬ থাকে, তবে পরাগরেণু ও ডিম্বক তৈরির সময় সেখানে মিয়োসিস বিভাজন ঘটে। পেঁয়াজের একটি জনন মাতৃকোষে মিয়োসিস বিভাজন সম্পন্ন হলে প্রতিটি অপত্য জননকোষে কতটি ক্রোমোজোম থাকবে?
পেঁয়াজের জনন মাতৃকোষে মিয়োসিস বিভাজন সম্পন্ন হলে প্রতিটি অপত্য জননকোষে কতটি ক্রোমোজোম থাকবে?
- ১৬টি — মাইটোসিসের মতোই অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে
- ৪টি — ৪টি অপত্য কোষ তৈরি হওয়ায় ১৬টি ক্রোমোজোম ৪ ভাগে ভাগ হয়ে যায় (১৬ ÷ ৪ = ৪)
- ৮টি — মিয়োসিস হ্রাসমূলক বিভাজন হওয়ায় ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয় (১৬ ÷ ২ = ৮)
যা বদলাতে পারবে
- বিভাজনের ধরন: মাইটোসিস (দেহকোষ), মিয়োসিস (জনন মাতৃকোষ)
- ধাপ: ১ থেকে ৫
যা মেপে দেখাবে
- পর্যায়
- কোষের সংখ্যা
- প্রতি কোষে ক্রোমোজোম
- অগ্রগতি (%)
চালানোর সময় খেয়াল করো
- বিভাজনের ধরন পরিবর্তন করে ‘মিয়োসিস’ নির্বাচন করো এবং ধাপগুলো এগিয়ে ৫ নম্বর ধাপে যাও। কোষ ও ক্রোমোজোম সংখ্যা কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে লক্ষ্য করো।
নিজে করে দেখো
- কোন বিভাজনের কোন ধাপে প্রথম দুটি কোষ তৈরি হয় যাদের প্রতিটিতে ৮টি ক্রোমোজোম?
ইঙ্গিত
মাইটোসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা কখনো কমে না।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
মিয়োসিস বিভাজন: হ্রাসমূলক বিভাজন ও ক্রোমোজোম সংখ্যার ধ্রুবতা
মাইটোসিস বিভাজনে নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম উভয়ই একবার বিভাজিত হয়। ফলে অপত্য কোষ দুটি মাতৃকোষের সমান সংখ্যক (১৬টি) ক্রোমোজোম লাভ করে—এটিকে সমীকরণিক বিভাজন বলে। কিন্তু জনন মাতৃকোষে মিয়োসিস বিভাজনে নিউক্লিয়াস দুইবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার। মিয়োসিস-১ ধাপে সমসংস্থ ক্রোমোজোম পৃথক হয়ে দুটি কোষে যায়, ফলে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক (৮টি) হয়ে যায়। পরবর্তীতে মিয়োসিস-২ এ ক্রোমাটিড পৃথক হয়ে মোট ৪টি অপত্য হ্যাপ্লয়েড (n = ৮) জননকোষ তৈরি হয়। পিতা ও মাতার দুটি হ্যাপ্লয়েড জননকোষের মিলনে আবার জাইগোটে ডিপ্লয়েড (2n = ১৬) সংখ্যা ফিরে আসে এবং প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা বংশপরম্পরায় নির্দিষ্ট থাকে।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
মাইটোসিস ও মিয়োসিস সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির কোষ বিভাজন। মাইটোসিস দেহকোষের বৃদ্ধি ঘটায় এবং সেখানে ক্রোমোজোম অপরিবর্তিত (১৬টি) থাকে। জননকোষেও যদি ১৬টি ক্রোমোজোম থাকত, তবে নিষেকের পর জাইগোটে ক্রোমোজোম দ্বিগুণ হয়ে ৩২ হয়ে যেত। আবার, ৪টি কোষ তৈরি হওয়া মানে এই নয় যে ১৬টি ক্রোমোজোম ৪ ভাগে ভাগ হয়ে ৪টি হবে। মিয়োসিস-১ এ ক্রোমোজোম সংখ্যা একবারই অর্ধেক হয় (১৬ ÷ ২ = ৮), এবং মিয়োসিস-২ হলো সমীকরণিক বিভাজন যেখানে ক্রোমোজোম সংখ্যা আর কমে না।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- সব ধরনের কোষ বিভাজনেই অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা হুবহু মাতৃকোষের সমান থাকে
- কোষ যত ভাগে ভাগ হয় ক্রোমোজোম সংখ্যাও মোট কোষের সংখ্যা দিয়ে ভাগ হয়ে যায়
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ও পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (BINA) মিয়োসিসের ক্রসিং ওভার ও পরাগরেণু কালচারের মাধ্যমে রোগপ্রতিরোধী ও উচ্চফলনশীল ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন।
- টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরিতে পেঁয়াজ, আলু ও কলার রোগমুক্ত চারা দ্রুত উৎপাদনের জন্য কাণ্ড ও মূলের শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুর মাইটোসিস বিভাজনকে কাজে লাগানো।