offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৩ · টপিক ৮

মিয়োসিস

পড়ার নোট

যে কোষ বিভাজনে একটি সুকেন্দ্রিক কোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয় এবং অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়, তাকে মিয়োসিস বলে। এতে নিউক্লিয়াস দুবার বিভাজিত হয় কিন্তু ক্রোমোজোম একবার, তাই ক্রোমোজোম সংখ্যা এবং DNA এর পরিমাণও প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়। ক্রোমোজোম সংখ্যা কমে যায় বলে একে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে।

দুটি ধারাবাহিক বিভাজন

  • মিয়োসিস-১ (প্রথম বিভাজন): অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়। এটিই হ্রাসমূলক ধাপ।
  • মিয়োসিস-২ (দ্বিতীয় বিভাজন): মূলত মাইটোসিসের মতো; প্রথম বিভাজনের দুটি কোষ আবার ভাগ হয়ে মোট চারটি কোষ হয়, ক্রোমোজোম সংখ্যা আর কমে না।

কোথায় মিয়োসিস হয়

  • গ্যামেট তৈরির সময় জনন মাতৃকোষে।
  • সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বকে।
  • প্রাণীর শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ে।
  • ছত্রাক, শৈবাল ও মসের মতো নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদের জীবনচক্রের কোনো এক পর্যায়ে।

হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড

অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকার অবস্থাকে হ্যাপ্লয়েড (nn) বলে। দুটি হ্যাপ্লয়েড কোষ মিলিত হলে দুই সেট ক্রোমোজোমযুক্ত যে অবস্থা হয়, তাকে ডিপ্লয়েড (2n2n) বলে। জনন মাতৃকোষ (2n2n) মিয়োসিসে হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু ও ডিম্বাণু (nn) তৈরি করে, এবং নিষেকে এরা মিলে ডিপ্লয়েড জাইগোট (2n2n) গঠন করে।

উদাহরণ: একটি প্রাণীর জনন মাতৃকোষে 2n=82n = 8।

  • মিয়োসিস-১ এর পর: 2টি কোষ, প্রতিটিতে 8÷2=48 \div 2 = 4টি ক্রোমোজোম।
  • মিয়োসিস-২ এর পর: 4টি কোষ, প্রতিটিতে 4টি ক্রোমোজোম (n=4n = 4)।
  • নিষেকের পর জাইগোট: 4+4=84 + 4 = 8, অর্থাৎ আবার 2n2n।

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে দুটি বিভাজনেই ক্রোমোজোম অর্ধেক হয়, ফলে শেষে এক-চতুর্থাংশ। সংখ্যা অর্ধেক হয় শুধু প্রথম বিভাজনে; দ্বিতীয়টি মাইটোসিসের মতো।

মনে রাখো: মিয়োসিসে দুবার বিভাজনে চারটি হ্যাপ্লয়েড অপত্য কোষ হয়; ক্রোমোজোম অর্ধেক হয় প্রথম বিভাজনে, আর এটি জনন মাতৃকোষে ঘটে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • কোষ বিভাজন: পেঁয়াজের মূলের মাইটোসিস বনাম মিয়োসিসচালিয়ে দেখো

    নবম শ্রেণির জীববিজ্ঞান ক্লাসে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পেঁয়াজের (Allium cepa) মূলের অগ্রভাগের ভাজক টিস্যু পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল এর প্রতিটি দেহকোষে ১৬টি ক্রোমোজোম (2n = ১৬) রয়েছে এবং মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে মূল দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষক জানালেন, উদ্ভিদের জনন মাতৃকোষেও ক্রোমোজোম সংখ্যা ১৬ থাকে, তবে পরাগরেণু ও ডিম্বক তৈরির সময় সেখানে মিয়োসিস বিভাজন ঘটে। পেঁয়াজের একটি জনন মাতৃকোষে মিয়োসিস বিভাজন সম্পন্ন হলে প্রতিটি অপত্য জননকোষে কতটি ক্রোমোজোম থাকবে?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধানের (Oryza sativa) দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ২৪ (২n = ২৪)। পরাগরেণু সৃষ্টির সময় একটি পরাগ মাতৃকোষে মিয়োসিস (Meiosis) কোষ বিভাজন সম্পন্ন হলে কয়টি অপত্য কোষ সৃষ্টি হবে এবং প্রতিটি কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত হবে?

    1. ক

      ২টি কোষ, প্রতিটিতে ২৪টি ক্রোমোজোম

    2. খ

      ৪টি কোষ, প্রতিটিতে ১২টি ক্রোমোজোম

    3. গ

      ৪টি কোষ, প্রতিটিতে ২৪টি ক্রোমোজোম

    4. ঘ

      ২টি কোষ, প্রতিটিতে ১২টি ক্রোমোজোম

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) ৪টি কোষ, প্রতিটিতে ১২টি ক্রোমোজোম

    1. মিয়োসিস একটি হ্রাসমূলক বিভাজন যা জীবের জনন মাতৃকোষে (যেমন পরাগ মাতৃকোষে) ঘটে। এ প্রক্রিয়ায় একটি ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষ পরপর দুইবার বিভাজিত হয়ে মোট ৪টি হ্যাপ্লয়েড (n) অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।
    2. যেহেতু ধানের ডিপ্লয়েড ক্রোমোজোম সংখ্যা ২n = ২৪, তাই মিয়োসিসের ফলে উৎপন্ন প্রতিটি অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা হবে মাতৃকোষের অর্ধেক, অর্থাৎ n = ২৪ ÷ ২ = ১২টি।
  2. মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রথম বিভাজনকে (Meiosis-I) হ্রাসমূলক বিভাজন এবং দ্বিতীয় বিভাজনকে (Meiosis-II) সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়। নিচের কোন যুক্তিটি এই পার্থক্যের যথার্থ কারণ ব্যাখ্যা করে?

    1. ক

      মিয়োসিস-I-এ সমসংস্থ ক্রোমোজোম পৃথক হয়ে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়, আর মিয়োসিস-II-এ সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে ক্রোমাটিড পৃথক হয় বলে ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে

    2. খ

      মিয়োসিস-I-এ সেন্ট্রোমিয়ার সরাসরি বিভক্ত হয় এবং মিয়োসিস-II-এ ক্রোমোজোমগুলো পুনরায় জোড় বাঁধে

    3. গ

      মিয়োসিস-I-এ কোষের আকার হ্রাস পায় এবং মিয়োসিস-II-এ কোষগুলো বৃদ্ধি পেয়ে সমান আকার ধারণ করে

    4. ঘ

      মিয়োসিস-I-এ ক্রোমোজোম দুইবার ও নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়, তবে মিয়োসিস-II-এ কেবল নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) মিয়োসিস-I-এ সমসংস্থ ক্রোমোজোম পৃথক হয়ে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়, আর মিয়োসিস-II-এ সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে ক্রোমাটিড পৃথক হয় বলে ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে

    1. মিয়োসিস-I-এ অ্যানাফেজ-১ পর্যায়ে সমসংস্থ (homologous) ক্রোমোজোম জোড়ার প্রতিটি সদস্য সেন্ট্রোমিয়ার বিভাজন ছাড়াই দুটি বিপরীত মেরুতে চলে যায়। ফলে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াসের প্রতিটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক (2n থেকে n) হয়ে যায়; তাই এটি হ্রাসমূলক বিভাজন।
    2. মিয়োসিস-II হলো মাইটোসিসের অনুরূপ একটি বিভাজন। এখানে অ্যানাফেজ-২ পর্যায়ে সেন্ট্রোমিয়ার লম্বালম্বি বিভক্ত হয়ে সিস্টার ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে অপত্য ক্রোমোজোমে পরিণত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্যাপ্লয়েড (n) অবস্থাতেই অপরিবর্তিত থাকে; তাই এটি সমীকরণিক বিভাজন।
  3. মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন এবং যৌন প্রজননশীল জীবের ক্ষেত্রে এটি কীভাবে বংশপরম্পরায় নির্দিষ্ট ক্রোমোজোম সংখ্যার ধ্রুবতা বজায় রাখে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    মিয়োসিস বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুইবার কিন্তু ক্রোমোজোম মাত্র একবার বিভাজিত হওয়ায় অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক (n) হয়ে যায়, তাই একে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে। যৌন প্রজননকারী জীবে মিয়োসিসের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড (n) পুং ও স্ত্রী জননকোষ তৈরি হয়, যা নিষেকের ফলে মিলিত হয়ে পুনরায় ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট গঠন করে। মিয়োসিস না ঘটলে প্রতি প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে প্রজাতির বৈশিষ্ট্য বিনষ্ট হতো; ফলে মিয়োসিসই বংশপরম্পরায় প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখে।

    1. হ্রাসমূলক বিভাজনের কারণ: নিউক্লিয়াস দুইবার ও ক্রোমোজোম একবার বিভাজিত হওয়ায় অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক (2n থেকে n) হয়।
    2. ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখার প্রক্রিয়া: হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট সৃষ্টির ফলে নিষেকের পর পুনরায় ডিপ্লয়েড (n + n = 2n) অবস্থা ফিরে আসে, যা প্রতি প্রজন্মে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান রাখে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো