পড়ার নোট
মিয়োসিস কেন দরকার, তা বোঝার মূল প্রশ্ন: যৌন জননে দুটি গ্যামেট মিলে জাইগোট তৈরি হলে ক্রোমোজোম সংখ্যা কী হবে?
মিয়োসিস না থাকলে কী হতো
মাইটোসিসে অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। যৌন জননে পুং ও স্ত্রী গ্যামেট মিলিত হতে হয়। গ্যামেটে যদি দেহকোষের সমান ক্রোমোজোম থাকত, তবে জাইগোটে দেহকোষের দ্বিগুণ ক্রোমোজোম হতো, আর পরের প্রতিটি প্রজন্মে তা আবার দ্বিগুণ হতে থাকত। ক্রোমোজোমে থাকে বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিন; প্রজন্মে প্রজন্মে ক্রোমোজোম বাড়তে থাকলে সন্তান মৌলিকভাবে ভিন্ন হয়ে যেত।
মিয়োসিস কীভাবে সমাধান দেয়
জননকোষ তৈরির সময় মিয়োসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক বা হ্যাপ্লয়েড () হয়। দুটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট মিলিত হলে জাইগোট আবার ডিপ্লয়েড () হয়। ফলে পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলন সত্ত্বেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্রোমোজোম সংখ্যা একই থাকে, আর প্রজাতির বৈশিষ্ট্যও বজায় থাকে।
দুই বিভাজনের ধারণা
মিয়োসিসে নিউক্লিয়াস দুবার ভাগ হয় কিন্তু ক্রোমোজোম একবার। প্রথম বিভাজনে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়, দ্বিতীয় বিভাজন মাইটোসিসের মতো। ফলে একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি কোষ পাওয়া যায়।
উদাহরণ: একটি জীবের দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা 4।
- মিয়োসিস না হলে: গ্যামেটে 4, জাইগোটে ; পরের প্রজন্মে 16, তার পরেরটিতে 32, প্রতি প্রজন্মে দ্বিগুণ।
- মিয়োসিস হলে: গ্যামেটে , জাইগোটে ; প্রতি প্রজন্মে 4-ই থাকে।
এ হিসাব থেকেই বোঝা যায়, মিয়োসিস না থাকলে মাত্র তিন প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা 4 থেকে 32 হয়ে যেত।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে মিয়োসিস দেহবৃদ্ধির জন্য। দেহবৃদ্ধি ঘটায় মাইটোসিস; মিয়োসিসের কাজ জননকোষে ক্রোমোজোম অর্ধেক করা।
মনে রাখো: মিয়োসিসে গ্যামেটের ক্রোমোজোম অর্ধেক () হয় বলে নিষেকে জাইগোট আবার হয়, তাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির থাকে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।