offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৩ · টপিক ৯

মিয়োসিসের ধারণা

পড়ার নোট

মিয়োসিস কেন দরকার, তা বোঝার মূল প্রশ্ন: যৌন জননে দুটি গ্যামেট মিলে জাইগোট তৈরি হলে ক্রোমোজোম সংখ্যা কী হবে?

মিয়োসিস না থাকলে কী হতো

মাইটোসিসে অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। যৌন জননে পুং ও স্ত্রী গ্যামেট মিলিত হতে হয়। গ্যামেটে যদি দেহকোষের সমান ক্রোমোজোম থাকত, তবে জাইগোটে দেহকোষের দ্বিগুণ ক্রোমোজোম হতো, আর পরের প্রতিটি প্রজন্মে তা আবার দ্বিগুণ হতে থাকত। ক্রোমোজোমে থাকে বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিন; প্রজন্মে প্রজন্মে ক্রোমোজোম বাড়তে থাকলে সন্তান মৌলিকভাবে ভিন্ন হয়ে যেত।

মিয়োসিস কীভাবে সমাধান দেয়

জননকোষ তৈরির সময় মিয়োসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক বা হ্যাপ্লয়েড (nn) হয়। দুটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট মিলিত হলে জাইগোট আবার ডিপ্লয়েড (2n2n) হয়। ফলে পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলন সত্ত্বেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্রোমোজোম সংখ্যা একই থাকে, আর প্রজাতির বৈশিষ্ট্যও বজায় থাকে।

দুই বিভাজনের ধারণা

মিয়োসিসে নিউক্লিয়াস দুবার ভাগ হয় কিন্তু ক্রোমোজোম একবার। প্রথম বিভাজনে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়, দ্বিতীয় বিভাজন মাইটোসিসের মতো। ফলে একটি 2n2n মাতৃকোষ থেকে চারটি nn কোষ পাওয়া যায়।

উদাহরণ: একটি জীবের দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা 4।

  • মিয়োসিস না হলে: গ্যামেটে 4, জাইগোটে 4+4=84 + 4 = 8; পরের প্রজন্মে 16, তার পরেরটিতে 32, প্রতি প্রজন্মে দ্বিগুণ।
  • মিয়োসিস হলে: গ্যামেটে 4÷2=24 \div 2 = 2, জাইগোটে 2+2=42 + 2 = 4; প্রতি প্রজন্মে 4-ই থাকে।

এ হিসাব থেকেই বোঝা যায়, মিয়োসিস না থাকলে মাত্র তিন প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা 4 থেকে 32 হয়ে যেত।

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে মিয়োসিস দেহবৃদ্ধির জন্য। দেহবৃদ্ধি ঘটায় মাইটোসিস; মিয়োসিসের কাজ জননকোষে ক্রোমোজোম অর্ধেক করা।

মনে রাখো: মিয়োসিসে গ্যামেটের ক্রোমোজোম অর্ধেক (nn) হয় বলে নিষেকে জাইগোট আবার 2n2n হয়, তাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির থাকে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রথম বিভাজনকে (Meiosis-I) হ্রাসমূলক বিভাজন এবং দ্বিতীয় বিভাজনকে (Meiosis-II) সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়। নিচের কোন যুক্তিটি এই পার্থক্যের যথার্থ কারণ ব্যাখ্যা করে?

    1. ক

      মিয়োসিস-I-এ সমসংস্থ ক্রোমোজোম পৃথক হয়ে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়, আর মিয়োসিস-II-এ সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে ক্রোমাটিড পৃথক হয় বলে ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে

    2. খ

      মিয়োসিস-I-এ সেন্ট্রোমিয়ার সরাসরি বিভক্ত হয় এবং মিয়োসিস-II-এ ক্রোমোজোমগুলো পুনরায় জোড় বাঁধে

    3. গ

      মিয়োসিস-I-এ কোষের আকার হ্রাস পায় এবং মিয়োসিস-II-এ কোষগুলো বৃদ্ধি পেয়ে সমান আকার ধারণ করে

    4. ঘ

      মিয়োসিস-I-এ ক্রোমোজোম দুইবার ও নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়, তবে মিয়োসিস-II-এ কেবল নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) মিয়োসিস-I-এ সমসংস্থ ক্রোমোজোম পৃথক হয়ে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়, আর মিয়োসিস-II-এ সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে ক্রোমাটিড পৃথক হয় বলে ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে

    1. মিয়োসিস-I-এ অ্যানাফেজ-১ পর্যায়ে সমসংস্থ (homologous) ক্রোমোজোম জোড়ার প্রতিটি সদস্য সেন্ট্রোমিয়ার বিভাজন ছাড়াই দুটি বিপরীত মেরুতে চলে যায়। ফলে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াসের প্রতিটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক (2n থেকে n) হয়ে যায়; তাই এটি হ্রাসমূলক বিভাজন।
    2. মিয়োসিস-II হলো মাইটোসিসের অনুরূপ একটি বিভাজন। এখানে অ্যানাফেজ-২ পর্যায়ে সেন্ট্রোমিয়ার লম্বালম্বি বিভক্ত হয়ে সিস্টার ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে অপত্য ক্রোমোজোমে পরিণত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্যাপ্লয়েড (n) অবস্থাতেই অপরিবর্তিত থাকে; তাই এটি সমীকরণিক বিভাজন।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো