offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৩ · টপিক ১০

মিয়োসিসের তাৎপর্য

পড়ার নোট

জীবজগতে মিয়োসিস টিকে আছে, কারণ এটি জীবের বেঁচে থাকার জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়। এর তাৎপর্য:

১. ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির রাখা

মিয়োসিসে গ্যামেটের ক্রোমোজোম অর্ধেক হয়, তাই নিষেকে জাইগোট আবার মাতাপিতার সমান ক্রোমোজোম পায়। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য একই থাকে।

২. জননকোষ তৈরি

শুক্রাণু, ডিম্বাণু এবং উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বকের জননকোষ মিয়োসিসেই তৈরি হয়। মিয়োসিস ছাড়া যৌন জনন সম্ভব নয়।

৩. জিনগত বৈচিত্র্য

মিয়োসিসের সময় ক্রোমোজোমের মধ্যে জিনের বিনিময় হয়। তাই একই মাতাপিতার সন্তানেরাও জিনগতভাবে কিছুটা আলাদা হয়; প্রতিটি নতুন প্রজন্মে অনন্য সদস্য তৈরি হয়। এভাবে যৌন জননের মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠী তার জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখে।

৪. পরিবর্তিত পরিবেশে টিকে থাকা

বাস্তুতন্ত্র স্থির নয়। প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে জিনগত বৈচিত্র্য থাকলে প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করতে পারে এবং প্রজাতি নতুন বা বদলে যাওয়া পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারে। সবাই জিনগতভাবে প্রায় একই রকম হলে একটি রোগ বা পরিবেশের একটি পরিবর্তনেই পুরো প্রজাতি বিলুপ্ত হতে পারে। বৈচিত্র্য থাকলে অন্তত কিছু সদস্য বিপদ এড়িয়ে টিকে থাকে।

৫. ক্রোমোজোম সংখ্যা বাড়লে নতুন প্রজাতি

কখনো হঠাৎ ক্রোমোজোম সেট বেড়ে নতুন প্রজাতি তৈরি হতে পারে; যেমন Xenopus tropicalis ব্যাঙের ক্রোমোজোম সেট দ্বিগুণ হয়ে Xenopus laevis প্রজাতির সৃষ্টি। আলুর মতো কিছু উদ্ভিদে এমন বড় আকারের জাত খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।

উদাহরণ: একটি খামারে একটি জাতের সব গাছ জিনগতভাবে প্রায় অভিন্ন, আর আরেকটি খামারে গাছগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য আছে। একটি নতুন রোগ এলে প্রথম খামারের প্রায় সব গাছ একসাথে আক্রান্ত হতে পারে, কারণ কারও প্রতিরোধের ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নেই। দ্বিতীয় খামারে কিছু গাছের বৈশিষ্ট্য রোগ ঠেকাতে পারে, তাই সেগুলো টিকে থাকে।

মনে রাখো: মিয়োসিস প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির রাখে, জননকোষ তৈরি করে এবং জিনের বিনিময়ে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন এবং যৌন প্রজননশীল জীবের ক্ষেত্রে এটি কীভাবে বংশপরম্পরায় নির্দিষ্ট ক্রোমোজোম সংখ্যার ধ্রুবতা বজায় রাখে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    মিয়োসিস বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুইবার কিন্তু ক্রোমোজোম মাত্র একবার বিভাজিত হওয়ায় অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক (n) হয়ে যায়, তাই একে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে। যৌন প্রজননকারী জীবে মিয়োসিসের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড (n) পুং ও স্ত্রী জননকোষ তৈরি হয়, যা নিষেকের ফলে মিলিত হয়ে পুনরায় ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট গঠন করে। মিয়োসিস না ঘটলে প্রতি প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে প্রজাতির বৈশিষ্ট্য বিনষ্ট হতো; ফলে মিয়োসিসই বংশপরম্পরায় প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখে।

    1. হ্রাসমূলক বিভাজনের কারণ: নিউক্লিয়াস দুইবার ও ক্রোমোজোম একবার বিভাজিত হওয়ায় অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক (2n থেকে n) হয়।
    2. ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখার প্রক্রিয়া: হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট সৃষ্টির ফলে নিষেকের পর পুনরায় ডিপ্লয়েড (n + n = 2n) অবস্থা ফিরে আসে, যা প্রতি প্রজন্মে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান রাখে।
  2. স্বাভাবিক পদ্ধতিতে এবং উল্লিখিত পরিবর্তিত পদ্ধতিতে উৎপন্ন জাইগোটে ক্রোমোজোমসংখ্যা যথাক্রমে কত হবে?

    1. ক

      ৬টি ও ১২টি

    2. খ

      ১২টি ও ১২টি

    3. গ

      ১২টি ও ২৪টি

    4. ঘ

      ২৪টি ও ২৪টি

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) ১২টি ও ২৪টি

    1. স্বাভাবিক মিয়োসিসে প্রতিটি জননকোষে ৬টি ক্রোমোজোম থাকে। নিষেকে দুটি জননকোষ মিলিত হয়ে ১২টি ক্রোমোজোমবিশিষ্ট জাইগোট তৈরি করে।
    2. মাইটোসিসে তৈরি হলে প্রতিটি জননকোষে ১২টি ক্রোমোজোম থাকবে। ফলে নিষেকে জাইগোটে ২৪টি ক্রোমোজোম হবে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো