পড়ার নোট
জীবজগতে মিয়োসিস টিকে আছে, কারণ এটি জীবের বেঁচে থাকার জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়। এর তাৎপর্য:
১. ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির রাখা
মিয়োসিসে গ্যামেটের ক্রোমোজোম অর্ধেক হয়, তাই নিষেকে জাইগোট আবার মাতাপিতার সমান ক্রোমোজোম পায়। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য একই থাকে।
২. জননকোষ তৈরি
শুক্রাণু, ডিম্বাণু এবং উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বকের জননকোষ মিয়োসিসেই তৈরি হয়। মিয়োসিস ছাড়া যৌন জনন সম্ভব নয়।
৩. জিনগত বৈচিত্র্য
মিয়োসিসের সময় ক্রোমোজোমের মধ্যে জিনের বিনিময় হয়। তাই একই মাতাপিতার সন্তানেরাও জিনগতভাবে কিছুটা আলাদা হয়; প্রতিটি নতুন প্রজন্মে অনন্য সদস্য তৈরি হয়। এভাবে যৌন জননের মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠী তার জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখে।
৪. পরিবর্তিত পরিবেশে টিকে থাকা
বাস্তুতন্ত্র স্থির নয়। প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে জিনগত বৈচিত্র্য থাকলে প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করতে পারে এবং প্রজাতি নতুন বা বদলে যাওয়া পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারে। সবাই জিনগতভাবে প্রায় একই রকম হলে একটি রোগ বা পরিবেশের একটি পরিবর্তনেই পুরো প্রজাতি বিলুপ্ত হতে পারে। বৈচিত্র্য থাকলে অন্তত কিছু সদস্য বিপদ এড়িয়ে টিকে থাকে।
৫. ক্রোমোজোম সংখ্যা বাড়লে নতুন প্রজাতি
কখনো হঠাৎ ক্রোমোজোম সেট বেড়ে নতুন প্রজাতি তৈরি হতে পারে; যেমন Xenopus tropicalis ব্যাঙের ক্রোমোজোম সেট দ্বিগুণ হয়ে Xenopus laevis প্রজাতির সৃষ্টি। আলুর মতো কিছু উদ্ভিদে এমন বড় আকারের জাত খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।
উদাহরণ: একটি খামারে একটি জাতের সব গাছ জিনগতভাবে প্রায় অভিন্ন, আর আরেকটি খামারে গাছগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য আছে। একটি নতুন রোগ এলে প্রথম খামারের প্রায় সব গাছ একসাথে আক্রান্ত হতে পারে, কারণ কারও প্রতিরোধের ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নেই। দ্বিতীয় খামারে কিছু গাছের বৈশিষ্ট্য রোগ ঠেকাতে পারে, তাই সেগুলো টিকে থাকে।
মনে রাখো: মিয়োসিস প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির রাখে, জননকোষ তৈরি করে এবং জিনের বিনিময়ে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।