offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৩ · টপিক ৭

মাইটোসিসের গুরুত্ব

পড়ার নোট

জীবদেহে মাইটোসিসের গুরুত্ব অপরিসীম।

  • দেহবৃদ্ধি: সব বহুকোষী জীবের জীবন শুরু এককোষী জাইগোট থেকে। বারবার মাইটোসিসে অসংখ্য কোষ তৈরি হয়ে জীব পূর্ণাঙ্গ হয়।
  • সুশৃঙ্খল বৃদ্ধি: অপত্য কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকে, তাই বৃদ্ধি নিয়মমাফিক হয়।
  • নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের ভারসাম্য: কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের আয়তন ও পরিমাণের সামঞ্জস্য রক্ষা হয়, এবং কোষের আকার, আকৃতি ও আয়তন বজায় থাকে।
  • জনন: এককোষী জীব মাইটোসিসে বংশবৃদ্ধি করে; অঙ্গজ জননে এবং জননকোষের সংখ্যা বাড়াতেও মাইটোসিস ভূমিকা রাখে।
  • ক্ষতপূরণ ও প্রতিস্থাপন: ক্ষত সারাতে নতুন কোষ লাগে; আবার কিছু কোষের আয়ু নির্দিষ্ট, সেগুলোর জায়গা মাইটোসিসে তৈরি নতুন কোষ নেয়।
  • বৈশিষ্ট্য রক্ষা: একই রকম কোষ তৈরি হয় বলে জীবজগতের গুণগত বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকে।

অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন: টিউমার ও ক্যান্সার

মাইটোসিসে একটি কোষ থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি, এভাবে কোষ বাড়ে, এবং প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ হারালে কোষ অনিয়মিতভাবে বিভাজিত হয়ে অস্বাভাবিক কোষপিণ্ড বা টিউমার তৈরি করে, যাতে ক্যান্সার কোষ থাকতেও পারে, না-ও পারে।

উদাহরণ (কত দ্রুত বৃদ্ধি): মনে হতে পারে একটি একটি করে কোষ বাড়লে মানুষের প্রায় 30 লক্ষ কোটি কোষ তৈরিতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু পুষ্টি পেলে সব কোষ একসাথে বিভাজিত হতে পারে, তাই প্রতিবার কোষসংখ্যা দ্বিগুণ হয়। প্রতি বিভাজনে এক দিন লাগলে nn দিনে কোষ হয় 2n2^nটি। 245≈352^{45} \approx 35 লক্ষ কোটি, তাই 40 থেকে 50 দিনেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক কোষ তৈরি হতে পারে।

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে টিউমার মানেই ক্যান্সার। টিউমার হলো অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনে তৈরি কোষপিণ্ড; তাতে ক্যান্সার কোষ থাকতেও পারে, না-ও থাকতে পারে।

মনে রাখো: মাইটোসিস দেহবৃদ্ধি, ক্ষতপূরণ, পুরোনো কোষ প্রতিস্থাপন ও অযৌন জনন ঘটায় এবং বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত রাখে; এর নিয়ন্ত্রণ হারালে টিউমার হয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো