পড়ার নোট
বিভাজনের আগে কোষ ইন্টারফেজে প্রস্তুতি নেয়। তারপর নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে পাঁচটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
১. প্রোফেজ: প্রথম পর্যায়। নিউক্লিয়াস একটু বড় হয়; ক্রোমাটিন তন্তু ঘনীভূত হয়ে খাটো, মোটা ও প্যাঁচানো ক্রোমোজোমে পরিণত হয়, যা যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়। প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি সিস্টার ক্রোমাটিডে ভাগ হয়, কিন্তু সেন্ট্রোমিয়ারে যুক্ত থাকে। ক্রোমোজোমগুলো জট পাকানো থাকায় এ সময় গোনা কঠিন।
২. প্রো-মেটাফেজ: দুই মেরুবিশিষ্ট স্পিন্ডল যন্ত্র তৈরি হয়; উদ্ভিদকোষে তন্তুময় প্রোটিন থেকে, আর প্রাণীকোষে সেন্ট্রিওল থেকে, যার দুই মেরু থেকে অ্যাস্টার রশ্মি ছড়ায়। নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস বিলুপ্ত হয়। ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের কাইনেটোকোর স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত হয়, এবং ক্রোমোজোমগুলো মাঝখানের দিকে সরতে থাকে।
৩. মেটাফেজ: সব ক্রোমোজোম স্পিন্ডলের মাঝখানের তল, অর্থাৎ বিষুবীয় অঞ্চলে সারিবদ্ধ হয়। সেন্ট্রোমিয়ার তখনও অক্ষত থাকে। ক্রোমোজোম এ সময় সবচেয়ে স্পষ্ট, তাই গোনা সহজ।
৪. অ্যানাফেজ: প্রতিটি সেন্ট্রোমিয়ার ভাগ হয়; সিস্টার ক্রোমাটিড দুটি স্বতন্ত্র অপত্য ক্রোমোজোম হয়ে বিপরীত মেরুর দিকে যায়। চলার সময় সেন্ট্রোমিয়ার আগে থাকে, বাহু পিছনে। সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোম V, L, J বা I আকৃতির দেখায়; এদের যথাক্রমে মেটাসেন্ট্রিক, সাব-মেটাসেন্ট্রিক, অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ও টেলোসেন্ট্রিক বলে।
৫. টেলোফেজ: শেষ পর্যায়, প্রোফেজের ঠিক উল্টো। ক্রোমোজোম আবার সরু ও লম্বা হয়ে নিউক্লিয়ার জালিকা গঠন করে; নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেন আবার দেখা দেয়; স্পিন্ডল যন্ত্র বিলুপ্ত হয়। দুই মেরুতে দুটি নতুন নিউক্লিয়াস তৈরি হয়।
সাইটোকাইনেসিস: উদ্ভিদকোষে বিষুবীয় অঞ্চলে এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের ছোট অংশ জমে কোষপ্লেট গঠন করে; প্রাণীকোষে বিষুবীয় অঞ্চলে কোষঝিল্লির একটি সংকোচনশীল বলয় কোষকে দুই ভাগ করে।
উদাহরণ: অণুবীক্ষণে একটি কোষে দেখা গেল ক্রোমোজোমগুলো মাঝখানে এক সারিতে আছে এবং কোনো নিউক্লিয়ার মেমব্রেন নেই। এটি মেটাফেজ। আরেকটিতে V আকৃতির ক্রোমোজোম দুই মেরুর দিকে যাচ্ছে; এটি অ্যানাফেজ।
মনে রাখো: মাইটোসিসের পর্যায়ক্রম প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ; মেটাফেজে ক্রোমোজোম মাঝখানে সারিবদ্ধ হয় আর অ্যানাফেজে ক্রোমাটিড দুই মেরুতে যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।