offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৩ · টপিক ৬

মাইটোসিসের পর্যায়

পড়ার নোট

বিভাজনের আগে কোষ ইন্টারফেজে প্রস্তুতি নেয়। তারপর নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে পাঁচটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়।

১. প্রোফেজ: প্রথম পর্যায়। নিউক্লিয়াস একটু বড় হয়; ক্রোমাটিন তন্তু ঘনীভূত হয়ে খাটো, মোটা ও প্যাঁচানো ক্রোমোজোমে পরিণত হয়, যা যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়। প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি সিস্টার ক্রোমাটিডে ভাগ হয়, কিন্তু সেন্ট্রোমিয়ারে যুক্ত থাকে। ক্রোমোজোমগুলো জট পাকানো থাকায় এ সময় গোনা কঠিন।

২. প্রো-মেটাফেজ: দুই মেরুবিশিষ্ট স্পিন্ডল যন্ত্র তৈরি হয়; উদ্ভিদকোষে তন্তুময় প্রোটিন থেকে, আর প্রাণীকোষে সেন্ট্রিওল থেকে, যার দুই মেরু থেকে অ্যাস্টার রশ্মি ছড়ায়। নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস বিলুপ্ত হয়। ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের কাইনেটোকোর স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত হয়, এবং ক্রোমোজোমগুলো মাঝখানের দিকে সরতে থাকে।

৩. মেটাফেজ: সব ক্রোমোজোম স্পিন্ডলের মাঝখানের তল, অর্থাৎ বিষুবীয় অঞ্চলে সারিবদ্ধ হয়। সেন্ট্রোমিয়ার তখনও অক্ষত থাকে। ক্রোমোজোম এ সময় সবচেয়ে স্পষ্ট, তাই গোনা সহজ।

৪. অ্যানাফেজ: প্রতিটি সেন্ট্রোমিয়ার ভাগ হয়; সিস্টার ক্রোমাটিড দুটি স্বতন্ত্র অপত্য ক্রোমোজোম হয়ে বিপরীত মেরুর দিকে যায়। চলার সময় সেন্ট্রোমিয়ার আগে থাকে, বাহু পিছনে। সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোম V, L, J বা I আকৃতির দেখায়; এদের যথাক্রমে মেটাসেন্ট্রিক, সাব-মেটাসেন্ট্রিক, অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ও টেলোসেন্ট্রিক বলে।

৫. টেলোফেজ: শেষ পর্যায়, প্রোফেজের ঠিক উল্টো। ক্রোমোজোম আবার সরু ও লম্বা হয়ে নিউক্লিয়ার জালিকা গঠন করে; নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেন আবার দেখা দেয়; স্পিন্ডল যন্ত্র বিলুপ্ত হয়। দুই মেরুতে দুটি নতুন নিউক্লিয়াস তৈরি হয়।

সাইটোকাইনেসিস: উদ্ভিদকোষে বিষুবীয় অঞ্চলে এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের ছোট অংশ জমে কোষপ্লেট গঠন করে; প্রাণীকোষে বিষুবীয় অঞ্চলে কোষঝিল্লির একটি সংকোচনশীল বলয় কোষকে দুই ভাগ করে।

উদাহরণ: অণুবীক্ষণে একটি কোষে দেখা গেল ক্রোমোজোমগুলো মাঝখানে এক সারিতে আছে এবং কোনো নিউক্লিয়ার মেমব্রেন নেই। এটি মেটাফেজ। আরেকটিতে V আকৃতির ক্রোমোজোম দুই মেরুর দিকে যাচ্ছে; এটি অ্যানাফেজ।

মনে রাখো: মাইটোসিসের পর্যায়ক্রম প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ; মেটাফেজে ক্রোমোজোম মাঝখানে সারিবদ্ধ হয় আর অ্যানাফেজে ক্রোমাটিড দুই মেরুতে যায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • কোষ বিভাজন: পেঁয়াজের মূলের মাইটোসিস বনাম মিয়োসিসচালিয়ে দেখো

    নবম শ্রেণির জীববিজ্ঞান ক্লাসে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পেঁয়াজের (Allium cepa) মূলের অগ্রভাগের ভাজক টিস্যু পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল এর প্রতিটি দেহকোষে ১৬টি ক্রোমোজোম (2n = ১৬) রয়েছে এবং মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে মূল দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষক জানালেন, উদ্ভিদের জনন মাতৃকোষেও ক্রোমোজোম সংখ্যা ১৬ থাকে, তবে পরাগরেণু ও ডিম্বক তৈরির সময় সেখানে মিয়োসিস বিভাজন ঘটে। পেঁয়াজের একটি জনন মাতৃকোষে মিয়োসিস বিভাজন সম্পন্ন হলে প্রতিটি অপত্য জননকোষে কতটি ক্রোমোজোম থাকবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ (Anaphase) পর্যায়ে মেরুমুখী চলনকালে সেন্ট্রোমিয়ার ক্রোমোজোমের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করলে অপত্য ক্রোমোজোমটি দেখতে ইংরেজি কোন অক্ষরের মতো হয়?

    1. ক

      V (মেটাসেন্ট্রিক)

    2. খ

      L (সাব-মেটাসেন্ট্রিক)

    3. গ

      J (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক)

    4. ঘ

      I (টেলোসেন্ট্রিক)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) V (মেটাসেন্ট্রিক)

    1. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ (গতিপর্যায়) ধাপে অপত্য ক্রোমোজোমগুলোর মেরুমুখী চলন ঘটে। এ সময় সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী থাকে এবং ক্রোমোজোমের বাহু দুটি অনুগামী হয়।
    2. সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ক্রোমোজোমগুলো বিভিন্ন রূপ নেয়: সেন্ট্রোমিয়ার ঠিক মাঝখানে থাকলে দুই বাহু সমান হয় এবং এটি 'V' অক্ষরের মতো দেখায় (মেটাসেন্ট্রিক বা মধ্যকেন্দ্রিক)। সেন্ট্রোমিয়ার মাঝখানের কাছাকাছি থাকলে 'L' (সাব-মেটাসেন্ট্রিক), প্রান্তের কাছাকাছি থাকলে 'J' (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক) এবং একেবারে প্রান্তে থাকলে 'I' (টেলোসেন্ট্রিক) অক্ষরের মতো দেখায়।
  2. রাজশাহীর একটি বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারে পেঁয়াজের মূলের অগ্রভাগের কোষ পর্যবেক্ষণকালে দেখা গেল—ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে (Equatorial region) অবস্থান করছে এবং এগুলো সবচেয়ে খাটো ও মোটা দেখাচ্ছে। কোষটি মাইটোসিসের কোন পর্যায়ে রয়েছে?

    1. ক

      প্রোফেজ (Prophase)

    2. খ

      প্রো-মেটাফেজ (Pro-metaphase)

    3. গ

      মেটাফেজ (Metaphase)

    4. ঘ

      অ্যানাফেজ (Anaphase)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) মেটাফেজ (Metaphase)

    1. মাইটোসিসের মেটাফেজ ধাপে ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে (মাঝখানে) সজ্জিত হয়, যাকে মেটাকাইনেসিস বলে।
    2. এ ধাপে ক্রোমোজোমের সুপারকয়েলিং সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়, ফলে ক্রোমোজোমগুলো সবচেয়ে খাটো ও মোটা (সর্বাধিক স্পষ্ট) দেখায়। প্রোফেজে কেবল পানি হ্রাস শুরু হয়, প্রো-মেটাফেজে স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত হয় এবং অ্যানাফেজে মেরুর দিকে পৃথক হয়ে যায়।
  3. ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (BAU) একটি সাইটোজেনেটিক্স গবেষণাগারে পেঁয়াজের (Allium cepa) মূলের অগ্রভাগের কোষের মেটাফেজ ধাপে একটি ক্রোমোজোম উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করা হলো। অণুবীক্ষণ যন্ত্রটির অভিনেত্রের (eyepiece) বিবর্ধন ১০× এবং অভিলক্ষ্যের (objective) বিবর্ধন ১০০×, অর্থাৎ মোট বিবর্ধন ১,০০০×। দৃষ্টিক্ষেত্রে ক্রোমোজোমটির প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য পাওয়া গেল ৫.০ mm। সূত্র: প্রকৃত দৈর্ঘ্য = প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য ÷ মোট বিবর্ধন (1 mm=1,000 μm1\text{ mm} = 1,000\ \mu\text{m})। ক্রোমোজোমটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য কত মাইক্রোমিটার (µm)?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৫ µm

    1. অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মোট বিবর্ধন M = অভিনেত্রের বিবর্ধন × অভিলক্ষ্যের বিবর্ধন = ১০ × ১০০ = ১,০০০ গুণ।
    M=10×100=1000M = 10 \times 100 = 1000
    1. মিলিমিটারে ক্রোমোজোমের প্রকৃত দৈর্ঘ্য = প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য ÷ মোট বিবর্ধন = ৫.০ mm ÷ ১,০০০ = ০.০০৫ mm।
    Actual length in mm=5.0 mm1000=0.005 mm\text{Actual length in mm} = \frac{5.0\text{ mm}}{1000} = 0.005\text{ mm}
    1. যেহেতু ১ mm = ১,০০০ µm, সুতরাং ক্রোমোজোমের প্রকৃত দৈর্ঘ্য = ০.০০৫ × ১,০০০ µm = ৫ µm।
    Actual length=0.005×1000 μm=5 μm\text{Actual length} = 0.005 \times 1000\ \mu\text{m} = 5\ \mu\text{m}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো