offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৩ · টপিক ৫

মাইটোসিসের ধারণা

পড়ার নোট

মাইটোসিসের মূল ধারণা হলো: মাতৃকোষের ক্রোমোজোমগুলোর হুবহু অনুলিপি সমানভাবে দুটি অপত্য কোষে পৌঁছে দেওয়া, যাতে দুটি কোষই মাতৃকোষের মতো হয়।

কীভাবে সমান ভাগ নিশ্চিত হয়

  1. ইন্টারফেজে প্রস্তুতি: বিভাজনের আগে নিউক্লিয়াসে প্রস্তুতিমূলক কাজ হয়।
  2. ক্রোমাটিড: বিভাজনের শুরুতে প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বি দুটি সিস্টার ক্রোমাটিডে ভাগ হয়, তবে সেন্ট্রোমিয়ারে এরা যুক্ত থাকে। দুটি ক্রোমাটিড একই রকম।
  3. সারিবদ্ধ হওয়া: স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত হয়ে সব ক্রোমোজোম কোষের মাঝখানে, বিষুবীয় অঞ্চলে সারিবদ্ধ হয়।
  4. আলাদা হওয়া: সেন্ট্রোমিয়ার ভাগ হলে প্রতিটি ক্রোমোজোমের দুটি ক্রোমাটিড দুটি স্বতন্ত্র অপত্য ক্রোমোজোম হয়ে বিপরীত দুই মেরুতে যায়।
  5. দুটি নিউক্লিয়াস ও দুটি কোষ: দুই মেরুতে দুটি নতুন নিউক্লিয়াস গঠিত হয় (ক্যারিওকাইনেসিস), তারপর সাইটোপ্লাজম ভাগ হয় (সাইটোকাইনেসিস)।

প্রতিটি ক্রোমোজোম থেকে একটি করে ক্রোমাটিড প্রতিটি মেরুতে যায় বলে দুই অপত্য নিউক্লিয়াসেই ক্রোমোজোমের সংখ্যা ও ধরন মাতৃকোষের মতো হয়। এ কারণেই মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়, এবং এ বিভাজনে জীবের গুণগত বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকে।

প্রক্রিয়াটি অবিচ্ছিন্ন

মাইটোসিস একটি অবিচ্ছিন্ন বা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া; পর্যায়গুলোর মাঝে কোনো থামা নেই। বোঝার সুবিধার জন্যই একে আলাদা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।

উদাহরণ: একটি কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা 4। মাইটোসিসের সময় গণনা দেখো:

  • বিভাজনের শুরুতে: 4টি ক্রোমোজোম, প্রতিটিতে 2টি ক্রোমাটিড, মোট 4×2=84 \times 2 = 8টি ক্রোমাটিড।
  • সেন্ট্রোমিয়ার ভাগ হওয়ার পর: 8টি অপত্য ক্রোমোজোম, প্রতিটি মেরুর দিকে 4টি।
  • শেষে: 2টি অপত্য কোষ, প্রতিটিতে 4টি ক্রোমোজোম, ঠিক মাতৃকোষের মতো।

সাধারণ ভুল হলো ক্রোমাটিডকে আলাদা ক্রোমোজোম গোনা। সেন্ট্রোমিয়ারে যুক্ত দুটি সিস্টার ক্রোমাটিড মিলে একটিই ক্রোমোজোম; সেন্ট্রোমিয়ার ভাগ হলেই এরা দুটি ক্রোমোজোম হয়।

মনে রাখো: মাইটোসিসে প্রতিটি ক্রোমোজোমের দুটি সিস্টার ক্রোমাটিড দুই মেরুতে যায়, তাই দুটি অপত্য কোষ মাতৃকোষের হুবহু ক্রোমোজোম পায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BRRI) টিস্যু কালচার গবেষণাগারে ধানের (Oryza sativa) মূলের শীর্ষস্থ ভাজক কলার কোষচক্র (Cell cycle) পর্যবেক্ষণ করা হলো। একটি সম্পূর্ণ কোষচক্র সম্পন্ন হতে মোট সময় লাগে ২০ h (ঘণ্টা)। পাঠ্যপুস্তক অনুসারে একটি আদর্শ কোষচক্রের মোট সময়ের শতকরা ৯০ ভাগ সময় ব্যয় হয় প্রস্তুতিমূলক ইন্টারফেজ (Interphase) পর্যায়ে এবং বাকি ১০ ভাগ সময় ব্যয় হয় সক্রিয় মাইটোসিস বিভাজন বা এম-ফেজ (M-phase) পর্যায়ে। সূত্র: সময় = মোট সময় × (শতকরা হার ÷ ১০০)। ওই উদ্ভিদ কোষটির সক্রিয় মাইটোসিস বিভাজন (M-phase) সম্পন্ন হতে কত ঘণ্টা (h) সময় লাগবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ২ h

    1. একটি সম্পূর্ণ কোষচক্রের মোট সময় T = ২০ h এবং মাইটোসিস বিভাজন বা এম-ফেজ (M-phase)-এর সময়কাল মোট সময়ের ১০%।
    T=20 h,P=10%T = 20\text{ h}, \quad P = 10\%
    1. এম-ফেজ সম্পন্ন হতে প্রয়োজনীয় সময় t = মোট সময় × (১০ ÷ ১০০) = ২০ h × ০.১০ = ২ h।
    t=20 h×10100=2 ht = 20\text{ h} \times \frac{10}{100} = 2\text{ h}
  2. দ্বিতীয়বার বিভাজন শেষে উৎপন্ন কোষগুলোর ক্ষেত্রে— i. মোট কোষসংখ্যা হবে ৪টি; ii. প্রতিটি কোষে ১৬টি ক্রোমোজোম থাকবে; iii. প্রতিটি কোষে ৮টি ক্রোমোজোম থাকবে। নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও iii

    2. খ

      i ও ii

    3. গ

      ii ও iii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) i ও ii

    1. প্রথমবার বিভাজনে ২টি এবং দ্বিতীয়বার বিভাজনে মোট ৪টি কোষ উৎপন্ন হয়।
    2. মাইটোসিসে ক্রোমোজোমসংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে। তাই প্রতিটি কোষে ১৬টি ক্রোমোজোম থাকবে; i ও ii সঠিক।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো