পড়ার নোট
যে কোষ বিভাজনে একটি প্রকৃত বা সুকেন্দ্রিক কোষ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে মাতৃকোষের মতো দুটি অপত্য কোষ তৈরি করে, তাকে মাইটোসিস বলে।
মাইটোসিসের বৈশিষ্ট্য
- নিউক্লিয়াস প্রায় সমানভাবে একবার বিভাজিত হয়; প্রতিটি ক্রোমোজোমও একবার বিভাজিত হয়; সাইটোপ্লাজমও একবারই ভাগ হয়।
- মাতৃকোষ ও অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা, তথা DNA এর পরিমাণ সমান থাকে। শুধু পরিমাণ নয়, মাতৃকোষের DNA এর প্রায় হুবহু অনুলিপি অপত্য কোষে যায়।
- অপত্য কোষ মাতৃকোষের সমান থাকে বলে একে সমীকরণিক বিভাজন বলে।
কোথায় মাইটোসিস হয়
- প্রাণীর দেহকোষে।
- উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশের ভাজক টিস্যুতে: কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগ, ভ্রূণমুকুল ও ভ্রূণমূল, বর্ধনশীল পাতা ও মুকুল।
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ও প্রাণীর অযৌন জননের সময়।
মাইটোসিসের ফলে কোষের সংখ্যা বেড়ে প্রাণী ও উদ্ভিদ দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে বাড়ে। গাছের ডগা ও শিকড়ের আগা লম্বা হওয়ার পেছনে আছে সেখানকার ভাজক টিস্যুর মাইটোসিস।
পর্যায়ের সংক্ষিপ্ত ধারণা
বিভাজনের আগে কোষ ইন্টারফেজে প্রস্তুতি নেয়। তারপর বর্ণনার সুবিধার জন্য নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে পাঁচটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়: প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ। এর পর সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়ে দুটি কোষ আলাদা হয়।
উদাহরণ: ধরা যাক একটি উদ্ভিদের দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা । এর মূলের অগ্রভাগের একটি কোষ মাইটোসিসে বিভাজিত হলো। অপত্য কোষ হবে 2টি, প্রতিটিতে 24টি ক্রোমোজোম। এ দুটি কোষ আবার মাইটোসিসে বিভাজিত হলে 4টি কোষ হবে, প্রতিটিতেই তখনও 24টি ক্রোমোজোম। তাই মূলের সব নতুন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা একই থাকে।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে মাইটোসিস জননকোষ তৈরি করে। মাইটোসিস হয় দেহকোষে এবং দেহবৃদ্ধি ঘটায়; জননকোষ তৈরি হয় মিয়োসিসে।
মনে রাখো: মাইটোসিসে একটি সুকেন্দ্রিক কোষ থেকে মাতৃকোষের সমান ক্রোমোজোমযুক্ত দুটি অপত্য কোষ হয়; এটি দেহকোষ ও ভাজক টিস্যুতে ঘটে এবং দেহবৃদ্ধি ঘটায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।