offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৩ · টপিক ৪

মাইটোসিস

পড়ার নোট

যে কোষ বিভাজনে একটি প্রকৃত বা সুকেন্দ্রিক কোষ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে মাতৃকোষের মতো দুটি অপত্য কোষ তৈরি করে, তাকে মাইটোসিস বলে।

মাইটোসিসের বৈশিষ্ট্য

  • নিউক্লিয়াস প্রায় সমানভাবে একবার বিভাজিত হয়; প্রতিটি ক্রোমোজোমও একবার বিভাজিত হয়; সাইটোপ্লাজমও একবারই ভাগ হয়।
  • মাতৃকোষ ও অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা, তথা DNA এর পরিমাণ সমান থাকে। শুধু পরিমাণ নয়, মাতৃকোষের DNA এর প্রায় হুবহু অনুলিপি অপত্য কোষে যায়।
  • অপত্য কোষ মাতৃকোষের সমান থাকে বলে একে সমীকরণিক বিভাজন বলে।

কোথায় মাইটোসিস হয়

  • প্রাণীর দেহকোষে।
  • উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশের ভাজক টিস্যুতে: কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগ, ভ্রূণমুকুল ও ভ্রূণমূল, বর্ধনশীল পাতা ও মুকুল।
  • নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ও প্রাণীর অযৌন জননের সময়।

মাইটোসিসের ফলে কোষের সংখ্যা বেড়ে প্রাণী ও উদ্ভিদ দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে বাড়ে। গাছের ডগা ও শিকড়ের আগা লম্বা হওয়ার পেছনে আছে সেখানকার ভাজক টিস্যুর মাইটোসিস।

পর্যায়ের সংক্ষিপ্ত ধারণা

বিভাজনের আগে কোষ ইন্টারফেজে প্রস্তুতি নেয়। তারপর বর্ণনার সুবিধার জন্য নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে পাঁচটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়: প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ। এর পর সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়ে দুটি কোষ আলাদা হয়।

উদাহরণ: ধরা যাক একটি উদ্ভিদের দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা 2n=242n = 24। এর মূলের অগ্রভাগের একটি কোষ মাইটোসিসে বিভাজিত হলো। অপত্য কোষ হবে 2টি, প্রতিটিতে 24টি ক্রোমোজোম। এ দুটি কোষ আবার মাইটোসিসে বিভাজিত হলে 4টি কোষ হবে, প্রতিটিতেই তখনও 24টি ক্রোমোজোম। তাই মূলের সব নতুন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা একই থাকে।

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে মাইটোসিস জননকোষ তৈরি করে। মাইটোসিস হয় দেহকোষে এবং দেহবৃদ্ধি ঘটায়; জননকোষ তৈরি হয় মিয়োসিসে।

মনে রাখো: মাইটোসিসে একটি সুকেন্দ্রিক কোষ থেকে মাতৃকোষের সমান ক্রোমোজোমযুক্ত দুটি অপত্য কোষ হয়; এটি দেহকোষ ও ভাজক টিস্যুতে ঘটে এবং দেহবৃদ্ধি ঘটায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • কোষ বিভাজন: পেঁয়াজের মূলের মাইটোসিস বনাম মিয়োসিসচালিয়ে দেখো

    নবম শ্রেণির জীববিজ্ঞান ক্লাসে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পেঁয়াজের (Allium cepa) মূলের অগ্রভাগের ভাজক টিস্যু পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল এর প্রতিটি দেহকোষে ১৬টি ক্রোমোজোম (2n = ১৬) রয়েছে এবং মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে মূল দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষক জানালেন, উদ্ভিদের জনন মাতৃকোষেও ক্রোমোজোম সংখ্যা ১৬ থাকে, তবে পরাগরেণু ও ডিম্বক তৈরির সময় সেখানে মিয়োসিস বিভাজন ঘটে। পেঁয়াজের একটি জনন মাতৃকোষে মিয়োসিস বিভাজন সম্পন্ন হলে প্রতিটি অপত্য জননকোষে কতটি ক্রোমোজোম থাকবে?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ (Anaphase) পর্যায়ে মেরুমুখী চলনকালে সেন্ট্রোমিয়ার ক্রোমোজোমের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করলে অপত্য ক্রোমোজোমটি দেখতে ইংরেজি কোন অক্ষরের মতো হয়?

    1. ক

      V (মেটাসেন্ট্রিক)

    2. খ

      L (সাব-মেটাসেন্ট্রিক)

    3. গ

      J (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক)

    4. ঘ

      I (টেলোসেন্ট্রিক)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) V (মেটাসেন্ট্রিক)

    1. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ (গতিপর্যায়) ধাপে অপত্য ক্রোমোজোমগুলোর মেরুমুখী চলন ঘটে। এ সময় সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী থাকে এবং ক্রোমোজোমের বাহু দুটি অনুগামী হয়।
    2. সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ক্রোমোজোমগুলো বিভিন্ন রূপ নেয়: সেন্ট্রোমিয়ার ঠিক মাঝখানে থাকলে দুই বাহু সমান হয় এবং এটি 'V' অক্ষরের মতো দেখায় (মেটাসেন্ট্রিক বা মধ্যকেন্দ্রিক)। সেন্ট্রোমিয়ার মাঝখানের কাছাকাছি থাকলে 'L' (সাব-মেটাসেন্ট্রিক), প্রান্তের কাছাকাছি থাকলে 'J' (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক) এবং একেবারে প্রান্তে থাকলে 'I' (টেলোসেন্ট্রিক) অক্ষরের মতো দেখায়।
  2. রাজশাহীর একটি বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারে পেঁয়াজের মূলের অগ্রভাগের কোষ পর্যবেক্ষণকালে দেখা গেল—ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে (Equatorial region) অবস্থান করছে এবং এগুলো সবচেয়ে খাটো ও মোটা দেখাচ্ছে। কোষটি মাইটোসিসের কোন পর্যায়ে রয়েছে?

    1. ক

      প্রোফেজ (Prophase)

    2. খ

      প্রো-মেটাফেজ (Pro-metaphase)

    3. গ

      মেটাফেজ (Metaphase)

    4. ঘ

      অ্যানাফেজ (Anaphase)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) মেটাফেজ (Metaphase)

    1. মাইটোসিসের মেটাফেজ ধাপে ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে (মাঝখানে) সজ্জিত হয়, যাকে মেটাকাইনেসিস বলে।
    2. এ ধাপে ক্রোমোজোমের সুপারকয়েলিং সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়, ফলে ক্রোমোজোমগুলো সবচেয়ে খাটো ও মোটা (সর্বাধিক স্পষ্ট) দেখায়। প্রোফেজে কেবল পানি হ্রাস শুরু হয়, প্রো-মেটাফেজে স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত হয় এবং অ্যানাফেজে মেরুর দিকে পৃথক হয়ে যায়।
  3. ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (BAU) একটি সাইটোজেনেটিক্স গবেষণাগারে পেঁয়াজের (Allium cepa) মূলের অগ্রভাগের কোষের মেটাফেজ ধাপে একটি ক্রোমোজোম উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করা হলো। অণুবীক্ষণ যন্ত্রটির অভিনেত্রের (eyepiece) বিবর্ধন ১০× এবং অভিলক্ষ্যের (objective) বিবর্ধন ১০০×, অর্থাৎ মোট বিবর্ধন ১,০০০×। দৃষ্টিক্ষেত্রে ক্রোমোজোমটির প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য পাওয়া গেল ৫.০ mm। সূত্র: প্রকৃত দৈর্ঘ্য = প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য ÷ মোট বিবর্ধন (1 mm=1,000 μm1\text{ mm} = 1,000\ \mu\text{m})। ক্রোমোজোমটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য কত মাইক্রোমিটার (µm)?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৫ µm

    1. অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মোট বিবর্ধন M = অভিনেত্রের বিবর্ধন × অভিলক্ষ্যের বিবর্ধন = ১০ × ১০০ = ১,০০০ গুণ।
    M=10×100=1000M = 10 \times 100 = 1000
    1. মিলিমিটারে ক্রোমোজোমের প্রকৃত দৈর্ঘ্য = প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য ÷ মোট বিবর্ধন = ৫.০ mm ÷ ১,০০০ = ০.০০৫ mm।
    Actual length in mm=5.0 mm1000=0.005 mm\text{Actual length in mm} = \frac{5.0\text{ mm}}{1000} = 0.005\text{ mm}
    1. যেহেতু ১ mm = ১,০০০ µm, সুতরাং ক্রোমোজোমের প্রকৃত দৈর্ঘ্য = ০.০০৫ × ১,০০০ µm = ৫ µm।
    Actual length=0.005×1000 μm=5 μm\text{Actual length} = 0.005 \times 1000\ \mu\text{m} = 5\ \mu\text{m}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো