পড়ার নোট
জীবদেহে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া হলো মাইটোসিস ও মিয়োসিস। এ ছাড়া কিছু এককোষী জীব দ্বিবিভাজন পদ্ধতিতে একটি কোষ সরাসরি দুই ভাগ হয়ে সংখ্যা বাড়ায়।
| বিষয় | মাইটোসিস | মিয়োসিস |
|---|---|---|
| কোথায় হয় | দেহকোষে; উদ্ভিদের ভাজক টিস্যুতে | জনন মাতৃকোষে; পরাগধানী, ডিম্বক, শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ে |
| নিউক্লিয়াসের বিভাজন | একবার | দুইবার |
| অপত্য কোষের সংখ্যা | 2টি | 4টি |
| ক্রোমোজোম সংখ্যা | মাতৃকোষের সমান | মাতৃকোষের অর্ধেক |
| অন্য নাম | সমীকরণিক বিভাজন | হ্রাসমূলক বিভাজন |
| প্রধান ভূমিকা | দেহবৃদ্ধি, ক্ষতপূরণ, অযৌন জনন | গ্যামেট বা জননকোষ তৈরি |
মাইটোসিস: একটি সুকেন্দ্রিক কোষ বিভাজিত হয়ে মাতৃকোষের মতো একই সংখ্যার ও একই ধরনের ক্রোমোজোমযুক্ত দুটি অপত্য কোষ তৈরি করে। এতে প্রাণী ও উদ্ভিদ দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে বাড়ে।
মিয়োসিস: একটি কোষ পরপর দুবার বিভাজিত হয়ে চারটি অপত্য কোষ তৈরি করে, যাদের প্রতিটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক। ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক বা হ্যাপ্লয়েড () হওয়ায় দুটি গ্যামেট মিলিত হয়ে আবার ডিপ্লয়েড () জাইগোট তৈরি হয়।
উদাহরণ: মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ।
- ত্বকের একটি কোষ মাইটোসিসে বিভাজিত হলে 2টি অপত্য কোষ হবে, প্রতিটিতে 46টি ক্রোমোজোম।
- শুক্রাশয়ের একটি জনন মাতৃকোষ মিয়োসিসে বিভাজিত হলে 4টি অপত্য কোষ হবে, প্রতিটিতে টি ক্রোমোজোম।
- 23টি ক্রোমোজোমের শুক্রাণু ও 23টি ক্রোমোজোমের ডিম্বাণু মিলিত হলে জাইগোটে টি।
লক্ষ করো, মাইটোসিস ও মিয়োসিস দুটিই সুকেন্দ্রিক কোষের বিভাজন; একই জীবের দেহে দুটিই ঘটে, তবে ভিন্ন কোষে ও ভিন্ন উদ্দেশ্যে।
সাধারণ ভুল হলো মিয়োসিসে দুটি অপত্য কোষ হয় বলে লেখা। মিয়োসিসে নিউক্লিয়াস দুবার ভাগ হয়, তাই অপত্য কোষ চারটি।
মনে রাখো: মাইটোসিসে 2টি অপত্য কোষ হয় এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে; মিয়োসিসে 4টি অপত্য কোষ হয় এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।