পড়ার নোট
কোষ বিভাজনে যে কোষটি বিভাজিত হয় তাকে মাতৃকোষ, আর বিভাজনে যে নতুন কোষগুলো তৈরি হয় তাদের অপত্য কোষ বলে। একটি মাতৃকোষ ভাগ হয়ে দুটি বা চারটি অপত্য কোষ তৈরি করতে পারে।
বিভাজনের দুটি অংশ
একটি সুকেন্দ্রিক কোষের বিভাজনে দুটি কাজ ঘটে:
- ক্যারিওকাইনেসিস: নিউক্লিয়াসের বিভাজন। এ সময় ক্রোমোজোমগুলো ভাগ হয়ে নতুন নিউক্লিয়াসে যায়।
- সাইটোকাইনেসিস: সাইটোপ্লাজমের বিভাজন। সাধারণত নিউক্লিয়াস ভাগ হওয়ার পরে এটি ঘটে, এবং কোষের অঙ্গাণুগুলো অপত্য কোষে ভাগ হয়।
প্রস্তুতি পর্ব
বিভাজন শুরুর আগে কোষকে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়; নিউক্লিয়াসে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ হয়। এই অবস্থাকে ইন্টারফেজ বলে। প্রস্তুতি শেষ হলেই প্রকৃত বিভাজন শুরু হয়।
ক্রোমোজোম কেন গুরুত্বপূর্ণ
ক্রোমোজোমে থাকে জিন, যা জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। তাই বিভাজনে ক্রোমোজোম কীভাবে ভাগ হলো, তার উপর নির্ভর করে অপত্য কোষ মাতৃকোষের মতো হবে কি না। মাইটোসিসে অপত্য কোষে মাতৃকোষের সমান ক্রোমোজোম থাকে; মিয়োসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়।
জীবনের ধারাবাহিকতা
একটি জাইগোট বিভাজিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ জীব হয়, আবার সেই জীবের দেহে বিভাজনের মাধ্যমে তৈরি গ্যামেট মিলিত হয়ে নতুন জাইগোট হয়। এভাবে কোষ বিভাজন এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।
উদাহরণ: একটি জাইগোট প্রথম বিভাজনে 2টি অপত্য কোষ দেয়। এ দুটির প্রতিটি আবার বিভাজিত হলে কোষ হয় 4টি, তারপর 8টি। অর্থাৎ বার এভাবে বিভাজনের পর কোষসংখ্যা ; তৃতীয় বিভাজন শেষে টি কোষ। প্রতিবার মাতৃকোষটি নিজে আর থাকে না, তার জায়গায় দুটি অপত্য কোষ আসে।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে বিভাজনে শুধু কোষ দুই টুকরা হয়। আসলে প্রথমে নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম সুশৃঙ্খলভাবে ভাগ হয়, তারপর সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়।
মনে রাখো: কোষ বিভাজনে মাতৃকোষ থেকে অপত্য কোষ তৈরি হয়; প্রথমে নিউক্লিয়াসের বিভাজন (ক্যারিওকাইনেসিস), পরে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন (সাইটোকাইনেসিস) ঘটে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।