পড়ার নোট
প্রতিটি জীবদেহ কোষ দিয়ে তৈরি, আর প্রতিটি জীবের জীবন শুরু হয় একটিমাত্র কোষ থেকে। প্রতিটি কোষের উৎপত্তি আগে থেকে থাকা কোনো কোষ থেকে। যে প্রক্রিয়ায় একটি কোষ ভাগ হয়ে নতুন কোষ তৈরি করে, তাকে কোষ বিভাজন বলে। বিভাজনের মাধ্যমে কোষের সংখ্যা বাড়া জীবদেহের একটি স্বাভাবিক ও অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
এককোষী ও বহুকোষী জীব:
- এককোষী জীব একটিমাত্র কোষে গঠিত, যেমন ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা, প্লাজমোডিয়াম। এরা কোষ বিভাজনের মাধ্যমেই একটি থেকে অসংখ্য জীব তৈরি করে, কেউ কেউ দ্বিবিভাজন পদ্ধতিতে।
- বহুকোষী জীব একাধিক কোষে গঠিত, যেমন মানুষ, বট গাছ, তিমি। বিশাল একটি বট গাছের সূচনাও হয় একটিমাত্র কোষ, অর্থাৎ জাইগোট বা নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে। এককোষী জাইগোট বারবার বিভাজিত হয়ে কোটি কোটি কোষের একটি পরিণত মানুষ তৈরি হয়।
কোষ বিভাজন কেন দরকার:
- বৃদ্ধি: কোষের সংখ্যা বেড়ে জীবদেহ বড় হয়।
- প্রজনন: এককোষী জীব বিভাজিত হয়ে সংখ্যা বাড়ায়, আর বহুকোষী জীবে বিভাজনের মাধ্যমেই পুং ও স্ত্রী গ্যামেট তৈরি হয়ে নতুন প্রজন্মের জন্ম হয়।
জীবদেহে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কোষ বিভাজন হলো মাইটোসিস ও মিয়োসিস। প্রথমটি দেহবৃদ্ধি ঘটায়, দ্বিতীয়টি জননকোষ তৈরি করে।
উদাহরণ: ধরা যাক একটি কোষ প্রতিদিন একবার বিভাজিত হয় এবং প্রতিটি নতুন কোষও একইভাবে বিভাজিত হয়। তাহলে কোষসংখ্যা প্রতিদিন দ্বিগুণ হয়: 1, 2, 4, 8,...। 10 দিন পর কোষসংখ্যা । এভাবে দ্বিগুণ হতে থাকলে 45 দিনে , অর্থাৎ প্রায় 35 লক্ষ কোটি কোষ হয়, যা মানুষের দেহের প্রায় 30 লক্ষ কোটি কোষের চেয়েও বেশি।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে কোষ বিভাজন শুধু শিশুর দেহবৃদ্ধির সময় হয়। ক্ষত সারানো, পুরোনো কোষের বদলে নতুন কোষ তৈরি এবং জননকোষ তৈরিতে সারা জীবনই কোষ বিভাজন চলে।
মনে রাখো: প্রতিটি কোষ আগে থেকে থাকা কোষ থেকে আসে; জীবের বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য কোষ বিভাজন হয়, আর এর দুটি প্রধান ধরন মাইটোসিস ও মিয়োসিস।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।