খাদ্যশৃঙ্খল
বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক (সবুজ উদ্ভিদ) সূর্যের শক্তিকে খাদ্যে জমা রাখে। সেই খাদ্য প্রথম স্তরের খাদক খায়, তাকে খায় দ্বিতীয় স্তরের খাদক, এভাবে চলতে থাকে। খাদ্য ও শক্তির এই এক সারির ধারাকে খাদ্যশৃঙ্খল বলে; যেমন পুকুরে: শৈবাল → ছোট মাছ → বড় মাছ → মাছরাঙা।
খাদ্যজাল
প্রকৃতিতে অনেক খাদক একাধিক প্রজাতির জীবকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। ব্যাঙ ফড়িং খায়, পোকাও খায়; সাপ ব্যাঙ খায়, ইঁদুরও খায়। ফলে একটি বাস্তুতন্ত্রের অনেকগুলো খাদ্যশৃঙ্খল একে অপরের সাথে জুড়ে যায়, আর তৈরি হয় খাদ্যজাল।
খাদ্যজাল কেন বাস্তুতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখে
ধরো কোনো কারণে ফড়িং কমে গেল। শুধু একটি খাদ্যশৃঙ্খল থাকলে ব্যাঙ খাবার না পেয়ে মরবে, আর ব্যাঙের অভাবে সাপও। কিন্তু খাদ্যজালে ব্যাঙ তখন অন্য পোকা খেতে পারে, সাপ ইঁদুর খেতে পারে। বিকল্প পথ থাকায় একটি জীব কমলেও পুরো বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়ে না। এজন্যই জীববৈচিত্র্য যত বেশি, খাদ্যজাল তত জটিল, আর বাস্তুতন্ত্র তত স্থিতিশীল।
মিল কোথায়
- দুটিই উৎপাদক থেকে শুরু হয় এবং খাদ্য ও শক্তির প্রবাহ দেখায়।
- দুটিতেই প্রতিটি ধাপে শক্তি কমে যায়।
সাধারণ ভুল
- তীর উল্টো দিকে আঁকা। তীর যায় খাদ্য থেকে খাদকের দিকে: ঘাস → ফড়িং, অর্থাৎ ফড়িং ঘাস খায়।
- খাদ্যশৃঙ্খল শুরু করা কোনো প্রাণী দিয়ে। বেশিরভাগ খাদ্যশৃঙ্খল শুরু হয় উৎপাদক, অর্থাৎ সবুজ উদ্ভিদ দিয়ে।