পড়ার নোট
পুষ্টি উপাদানের প্রবাহ
উদ্ভিদ প্রয়োজনীয় অজৈব পদার্থ নিয়ে সালোকসংশ্লেষণে খাদ্য তৈরি করে; এর একটি অংশ নিজে ব্যবহার করে, বাকিটা দেহে জমা রাখে। তৃণভোজী উদ্ভিদ খায়, মাংসাশী তৃণভোজী খায়। উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যুর পর বিয়োজক সেগুলোকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে অজৈব পদার্থে রূপান্তর করে এবং যেখান থেকে নেওয়া হয়েছিল সেখানে ফিরিয়ে দেয়। সবুজ উদ্ভিদ সেগুলো আবার নিয়ে খাদ্য তৈরি করে। পুষ্টি উপাদানের এই চক্রাকার আবর্তনকে পুষ্টিপ্রবাহ বলে। খাদ্যশিকলের মাধ্যমে পুষ্টি উপাদানের প্রবাহ বাস্তুতন্ত্রের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য।
শক্তির প্রবাহ
যেকোনো বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রধান উৎস সূর্য। পৃথিবীতে পৌঁছানো আলো ও তাপশক্তির মাত্র প্রায় 2% সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে সঞ্চয় করে, প্রধানত শর্করা হিসেবে রাসায়নিক শক্তিরূপে।
- উদ্ভিদের সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি তৃণভোজী প্রাণী পাতা, কাণ্ড, ফুল, ফল, বীজ বা মূল খেয়ে পায়।
- তৃণভোজী থেকে শক্তি যায় দ্বিতীয় স্তরের খাদক মাংসাশীতে, সেখান থেকে তৃতীয় ও সর্বোচ্চ স্তরের খাদকে।
- মৃত্যুর পর দেহে জমা রাসায়নিক শক্তি বিয়োজকের ক্রিয়ায় জড় পদার্থ ও শক্তি হিসেবে পরিবেশে ফিরে যায়।
- প্রতিটি স্তরে কিছু শক্তি শ্বসনসহ বিভিন্ন কাজে তাপ হিসেবে পরিবেশে বেরিয়ে যায়, তাই পরের স্তরে কম শক্তি পৌঁছায়।
দুটির পার্থক্য
| পুষ্টি উপাদান | শক্তি | |
|---|---|---|
| প্রবাহের ধরন | চক্রাকার, বারবার ব্যবহার হয় | একমুখী |
| উৎস | মাটি, পানি, বায়ু | সূর্য |
| ফেরত আনে | বিয়োজক | ফেরত আসে না, তাপ হিসেবে হারায় |
এ কারণে খাদ্যশিকলে খাদ্যস্তরের সংখ্যা কম হলে শক্তির অপচয়ও কম হয়।
উদাহরণ: ধরো একটি মাঠে উদ্ভিদের উপর 10000 একক সৌরশক্তি পড়ল। উদ্ভিদ সঞ্চয় করবে প্রায় একক। প্রতি স্তরে প্রায় 10% পরের স্তরে গেলে তৃণভোজী পাবে একক, আর তাকে খাওয়া মাংসাশী পাবে একক।
মনে রাখো: বাস্তুতন্ত্রে পুষ্টি উপাদান বিয়োজকের মাধ্যমে চক্রাকারে ঘোরে, কিন্তু সূর্য থেকে আসা শক্তি একমুখী প্রবাহিত হয় এবং প্রতিটি স্তরে তাপ হিসেবে কমে যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।