পড়ার নোট
খাদ্যশিকল
বাস্তুতন্ত্রে প্রথমে সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে; তারা না করলে তৃণভোজী ও মাংসাশী প্রাণী খাদ্যের অভাবে মারা যেত। উৎপাদক থেকে খাদ্যশক্তি যখন বিভিন্ন খাদ্যস্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন সেই প্রবাহকে খাদ্যশিকল বলে। যেমন:
ঘাস → ঘাসফড়িং → ব্যাঙ → সাপ → গুইসাপ
এখানে ঘাস উৎপাদক, ঘাসফড়িং প্রথম স্তরের, ব্যাঙ দ্বিতীয় স্তরের, সাপ তৃতীয় স্তরের এবং গুইসাপ সর্বোচ্চ স্তরের খাদক।
খাদ্যশিকলের প্রকার:
- শিকারজীবী খাদ্যশিকল: প্রথম স্তরের জীব আকারে সবচেয়ে ছোট, আর পর্যায়ক্রমে উপরের খাদক নিচের খাদক শিকার করে খায়; উপরের শিকলটি এর উদাহরণ।
- পরজীবী খাদ্যশিকল: পরজীবী সাধারণত নিজের চেয়ে বড় পোষক থেকে খাদ্য নেয়; যেমন মানুষ → মশা → ডেঙ্গু ভাইরাস। স্ত্রী এডিস মশা মানুষের রক্ত থেকে নিজে পুষ্টি পায় না, কিন্তু রক্ত তার ডিমের বিকাশে কাজে লাগে।
- মৃতজীবী খাদ্যশিকল: মৃতদেহ থেকে শুরু; যেমন মৃতদেহ → ছত্রাক → কেঁচো।
পরজীবী ও মৃতজীবী খাদ্যশিকলে উৎপাদক নেই, তাই এগুলো সব সময় অসম্পূর্ণ এবং শিকারজীবী খাদ্যশিকলের উপর নির্ভরশীল।
খাদ্যজাল
একই খাদক বিভিন্ন স্তরে স্থান পেতে পারে বলে কয়েকটি খাদ্যশিকল যুক্ত হয়ে জালের মতো গঠন তৈরি করে; একে খাদ্যজাল বলে। স্থলজ ও জলজ উভয় বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যজাল থাকে।
উদাহরণ: একটি পুকুরে শৈবাল জুপ্ল্যাংকটন ও ছোট মাছের খাদ্য; জুপ্ল্যাংকটন খায় ছোট ও বড় মাছ; বড় মাছ ছোট মাছও খায়; বাজ পাখি ছোট ও বড় মাছ খায়। খাদ্যশিকলগুলো গোনো:
- শৈবাল → ছোট মাছ → বাজ পাখি
- শৈবাল → জুপ্ল্যাংকটন → বড় মাছ → বাজ পাখি
- শৈবাল → ছোট মাছ → বড় মাছ → বাজ পাখি
- শৈবাল → জুপ্ল্যাংকটন → ছোট মাছ → বড় মাছ → বাজ পাখি
- শৈবাল → জুপ্ল্যাংকটন → ছোট মাছ → বাজ পাখি
মোট পাঁচটি খাদ্যশিকল মিলে এই খাদ্যজাল। লক্ষ করো, ছোট মাছ শিকল 1 এ দ্বিতীয় স্তরে, কিন্তু শিকল 4 এ তৃতীয় স্তরে।
সাধারণ ভুল হলো খাদ্যশিকলের তীর উল্টো দিকে আঁকা। তীর যায় খাদ্য থেকে খাদকের দিকে, অর্থাৎ শক্তি যেদিকে যায়।
মনে রাখো: উৎপাদক থেকে ধাপে ধাপে খাদ্যশক্তির প্রবাহ খাদ্যশিকল, আর কয়েকটি খাদ্যশিকল যুক্ত হয়ে খাদ্যজাল তৈরি হয়; পরজীবী ও মৃতজীবী শিকল উৎপাদকহীন বলে অসম্পূর্ণ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।