বাঁশির সুর থেকে কুকুরের বাঁশি: কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
একটি গ্রামীণ মেলায় একজন বাদক বাঁশিতে ৪৪০ Hz কম্পাঙ্কের সুর বাজাচ্ছেন। মেলায় কুকুরের বিশেষ বাঁশি বাজে ২৫,০০০ Hz (২৫ kHz) কম্পাঙ্কে এবং দূরে হাতির দল ১৫ Hz কম্পাঙ্কে শব্দ তৈরি করে। বাতাসের তাপমাত্রা ৩০ °C হওয়ায় এখানে শব্দের বেগ ৩৫০ m/s। বাঁশির সুরের চেয়ে কুকুরের বাঁশির কম্পাঙ্ক অনেক বেশি। বাতাসে এই বেশি কম্পাঙ্কের শব্দের বেগ ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য কেমন হবে?
বাঁশির সুরের (৪৪০ Hz) তুলনায় কুকুরের বাঁশির চড়া সুরের (২৫,০০০ Hz) গতিবেগ ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কী পরিবর্তন ঘটবে?
- বেগ বাড়বে: চড়া সুরের কম্পাঙ্ক বেশি বলে তা বাতাসে দ্রুত গতিতে চলে।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য বাড়বে: বেশি কম্পাঙ্কের শব্দের ক্ষেত্রে তরঙ্গদৈর্ঘ্য আকারে বড় হয়।
- বেগ একই থাকবে কিন্তু তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমবে: বাতাসে শব্দের বেগ ৩৫০ m/s স্থির থাকে, তাই v = fλ অনুসারে তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট হবে।
যা বদলাতে পারবে
- শব্দের কম্পাঙ্ক: ৫ থেকে ৫০,০০০ Hz
যা মেপে দেখাবে
- শব্দের বেগ (m/s)
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য (m)
- পর্যায়কাল (s)
চালানোর সময় খেয়াল করো
- কম্পাঙ্ক ৪৪০ Hz থেকে বাড়িয়ে কুকুরের বাঁশির ২৫,০০০ Hz-এ নাও। শব্দের বেগ কি ৩৫০ m/s-ই আছে? তরঙ্গদৈর্ঘ্য কত হলো?
নিজে করে দেখো
- এই বাতাসে শব্দের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ঠিক ১ m হবে এমন কম্পাঙ্ক খুঁজে বের করো।
ইঙ্গিত
v = fλ সূত্র থেকে f = v ÷ λ হিসাব করো। এখানে বাতাসে শব্দের বেগ v = ৩৫০ m/s।
- মানুষ শুনতে পায় না এমন শব্দোত্তর (আল্ট্রাসাউন্ড) তরঙ্গের সর্বনিম্ন কম্পাঙ্ক (৫ Hz ধাপে) নির্ধারণ করো যা বাদুড় ব্যবহার করতে পারে।
ইঙ্গিত
মানুষের শ্রাব্যতার সর্বোচ্চ সীমা ২০,০০০ Hz। স্লাইডারে ৫ Hz ধাপে শব্দোত্তর (ultrasound) সীমানায় যাও।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
শব্দের বেগ, কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সম্পর্ক
নির্দিষ্ট মাধ্যমে ও নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় শব্দের বেগ v সর্বদা অপরিবর্তিত থাকে। ৩০ °C তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের বেগ v = ৩৫০ m/s। তরঙ্গের মূল সমীকরণ v = fλ অনুসারে কম্পাঙ্ক f এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য λ পরস্পরের ব্যস্তানুপাতিক (λ = v / f)। তাই কম্পাঙ্ক যত বাড়ে, তরঙ্গদৈর্ঘ্য ঠিক ততটাই ছোট হয়, কিন্তু শব্দের বেগ পরিবর্তিত হয় না। বাঁশির ৪৪০ Hz সুর এবং কুকুরের বাঁশির ২৫,০০০ Hz সুর উভয়ই বাতাসে একই ৩৫০ m/s দ্রুতিতে চলে। মানুষের কান সাধারণত ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz (২০ kHz) কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়, যাকে শ্রাব্যতার সীমা বলে। ২০ Hz-এর নিচের শব্দকে শব্দেতর তরঙ্গ (ইনফ্রাসাউন্ড) বলে, যা হাতি শুনতে পায় এবং ভূমিকম্পের সময় সৃষ্টি হয়। ২০,০০০ Hz-এর উপরের শব্দকে শব্দোত্তর তরঙ্গ (আল্ট্রাসাউন্ড) বলে, যা বাদুড় দিক নির্ণয়ে এবং চিকিৎসায় আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ব্যবহার করা হয়।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
অনেকে মনে করে চড়া সুরের শব্দ বাতাসে বেশি দ্রুত ছুটে চলে। কিন্তু শব্দের বেগ কম্পাঙ্কের ওপর নির্ভর করে না, তা নির্ভর করে মাধ্যমের প্রকৃতি ও তাপমাত্রার ওপর। আবার v = fλ সমীকরণে বেগ v স্থির থাকায় কম্পাঙ্ক f বাড়লে তরঙ্গদৈর্ঘ্য λ না বেড়ে বরং ছোট হয়ে যায়।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ বাতাসে বেশি দ্রুতিতে চলে
- কম্পাঙ্ক বাড়লে তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রাফি: ২০,০০০ Hz-এর বেশি কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও গর্ভস্থ শিশুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়।
- নৌপথে সোনার (SONAR) ও নদীর গভীরতা পরিমাপ: বাংলাদেশের নৌপথে চলাচলকারী জাহাজে শব্দোত্তর তরঙ্গ পাঠিয়ে নদী বা সমুদ্রের তলদেশের গভীরতা এবং নিমজ্জিত ডুবোচর শনাক্ত করা হয়।