পড়ার নোট
আমাদের চারপাশের কিছু শব্দ শুনতে ভালো লাগে, কিছু বিরক্তিকর। যে শব্দ শুনতে ভালো লাগে, তাদের মধ্যে প্রধান হলো বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের শব্দ; এদের সুরযুক্ত শব্দ বলে।
সুরযুক্ত শব্দের বৈশিষ্ট্য
- বাদ্যযন্ত্রের শব্দ তরঙ্গগুলো পর্যাবৃত্ত কম্পন, অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পরপর একই রকম কম্পন বারবার ফিরে আসে।
- সুরশলাকা বা টিউনিং ফর্ক থেকে নিখুঁত একটিমাত্র কম্পাঙ্কের শব্দ বের হয়।
- কিন্তু সুরযুক্ত শব্দে শুধু একটি কম্পাঙ্ক থাকে না; একাধিক কম্পাঙ্কের তরঙ্গ পরস্পরের উপর উপরিপাতিত হয়ে শব্দটিকে সুরেলা করে তোলে। এ কারণেই একই সুর বেহালা ও বাঁশিতে আলাদা শোনায়।
বাদ্যযন্ত্রের প্রকারভেদ
সুরেলা শব্দ তৈরির বাদ্যযন্ত্রগুলোকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
| ধরন | কী কাঁপে | উদাহরণ |
|---|---|---|
| তারের বাদ্যযন্ত্র | টানটান তার | একতারা, বেহালা, সেতার |
| বাতাসের প্রবাহের বাদ্যযন্ত্র | ভেতরের বাতাস | বাঁশি, হারমোনিয়াম |
| আঘাতের (পারকাশন) বাদ্যযন্ত্র | আঘাত করা চামড়া বা তল | ঢোল, তবলা |
আজকাল ইলেকট্রনিকস ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়েও সুরেলা শব্দ তৈরি করা হয়।
সুরযুক্ত শব্দ ও অন্য শব্দ
সুরযুক্ত শব্দের কম্পন পর্যাবৃত্ত ও নিয়মিত, তাই কানে মধুর লাগে। অন্যদিকে রাস্তার হর্ন ও যন্ত্রের অনিয়মিত শব্দ বিরক্তিকর, আর মাত্রা ছাড়ালে তা শব্দদূষণ।
উদাহরণ: একটি বাঁশি 440 Hz কম্পাঙ্কের একটি সুর বাজাচ্ছে। বাতাসে শব্দের বেগ 330 m/s হলে এই সুরের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কত? m। একই সুর বেহালায় বাজালেও সাথে উপরিপাতিত অন্য কম্পাঙ্কগুলো ভিন্ন হওয়ায় দুটি যন্ত্রের শব্দ আলাদা চেনা যায়।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে সুরযুক্ত শব্দে একটিমাত্র কম্পাঙ্ক থাকে। একটিমাত্র কম্পাঙ্ক দেয় সুরশলাকা; বাদ্যযন্ত্রের শব্দে একাধিক কম্পাঙ্ক মিশে থাকে।
মনে রাখো: বাদ্যযন্ত্রের সুরযুক্ত শব্দ পর্যাবৃত্ত কম্পন, যেখানে একাধিক কম্পাঙ্কের তরঙ্গ উপরিপাতিত হয়; বাদ্যযন্ত্র তিন প্রকার: তারের, বাতাসের প্রবাহের ও আঘাতের।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।